kalerkantho


নান্দাইলে অপমানে ছাত্রীর আত্মহনন

‘গরিব বইল্যা কোনো বিচার পাইতাছি না’

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অপমানে আত্মহত্যা করেছিল ময়মনসিংহের নান্দাইলের অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মোমেনা আক্তার। এরপর পেরিয়ে গেছে চার মাস। এখনো আসামি উজ্জ্বল মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলাটি করেছিলেন মোমেনার বড় বোন কমলা আক্তার। তিনি বললেন, ‘আমরা গরিব বইল্যা কোনো বিচার পাইতাছি না। দারোগা সাব কোনো খোঁজখবর নেয় না। আসামি ধরার জন্য ফোন করলে কয়, আসামি ধরলে টেহা (টাকা) লাগব। টেহা না দিলে নাকি ধরা যাইত না। আমার বোন মরণের পর থাইক্যা বুড়া মা পাগলের মতো অইয়া গেছে। নিজের বাড়ি ছাইর‌্যা অন্য এক বোনের বাড়ি থাহে। আর মামলা উডাইয়া মীমাংসা করনের লাইগ্যা চাপ দিতাছে মেম্বররা। এই অবস্থায় আমরা অহন বাড়িত থাকতাম পারতাছি না।’ 

একাধিক সূত্রে জানা যায়, নান্দাইলের সিংরুইল ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের চান মিয়ার (মৃত) মেয়ে মোমেনার সঙ্গে পাশের কিশোরগঞ্জ সদরের রশিদাবাদ ইউনিয়নের মার্কাগঞ্জ গ্রামের রুস্তম আলীর (মৃত) ছেলে উজ্জ্বল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর উজ্জ্বল মেয়েটিকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। সেদিন বিকেলে দুজনকে ঘুরতে দেখে আটক করে রশিদাবাদের ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান ও সাবেক ইউপি সদস্য ছিদ্দিকুর রহমানসহ তাঁদের লোকজন। পরে দুজনকে দোকানে নিয়ে যান। সেখানে কাজি ডেকে বিয়ের কথা বলতেই বেঁকে বসে উজ্জ্বল। এ সময় ইউপি সদস্য মাহফুজের লোকজন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে উজ্জ্বলকে সরে যাওয়ার সুযোগ করে দেন বলে অভিযোগ। পরে সালিস বসবে—এ কথা বলে মোমেনার মা ও ভগ্নিপতিকে ডেকে এনে আরেকজনের বাড়িতে রাখেন তাঁরা। অপমানে সেদিন রাতেই বাড়িটির পাশের মেহগনিগাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে মোমেনা। এ ঘটনায় ১৮ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন মোমেনার বোন কমলা।

সিংরুইলের ইউপি সদস্য কামরুল বলেন, প্রেম করা মেয়েটির (মোমেনা) কোনো অপরাধ ছিল না। কিন্তু রশিদাবাদের মেম্বার ও তাঁদের দলবল দুজনকে ধরে যে কাণ্ডটি ঘটিয়েছিলেন, সে জন্য বিচার হওয়া প্রয়োজন ছিল। তাঁদের অপমানেই মেয়েটি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিল। তাঁদের বাদ দিয়ে শুধু উজ্জ্বলকে আসামি করলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাকে ধরছে না। এ অবস্থায় মেয়েটির মা ও বোন ক্ষোভে-দুঃখে এলাকা ছেড়েছেন। অন্যদিকে মোমেনার কলেজের শিক্ষক ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, মেয়েটির আত্মহত্যার পেছনে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন ছিল। তা ছাড়া এখনো উজ্জ্বলকে গ্রেপ্তার না করা দুঃখজনক। তবে ইউপি সদস্য মাহফুজ তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিশোরগঞ্জ সদর থানার এসআই সুলতান উদ্দিন জানান, মামলার পর থেকেই প্রযুক্তির সাহায্যে উজ্জ্বলকে ধরার চেষ্টা চলছে। যেকোনো সময় ধরা পড়তে পারে। আর বাদীর কাছে টাকা চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এসআই।


মন্তব্য