kalerkantho


কালোবাজারে বাংলা মদ

গোয়ালন্দে বাড়ছে মাদকসেবী

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দেশি মদ অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিক্রেতারা দীর্ঘদিন ধরেই বিপুল পরিমাণ মদ কালোবাজারে বিক্রি করছেন। ফলে উপজেলা শহর থেকে এলাকার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলেও বাংলা মদ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে এলাকায় মাদকসেবীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

রাজবাড়ী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ শহরের আড়তপট্টি মহল্লায় প্রধান সড়কের পাশে সরকার অনুমোদিত ‘মেসার্স রণজিৎ সরকার’ নামের একটি দেশি মদের দোকান রয়েছে। বর্তমানে ওই দোকানে অনুমোদিত ক্রেতার সংখ্যা ৩০০ জন। নিয়ম অনুযায়ী একজন কার্ডধারী প্রতি মাসে ৯ লিটার ৭৫০ গ্রাম পর্যন্ত দেশি মদ কিনতে পারেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত কার্ডধারী ক্রেতার বাইরে অন্যের কাছে মদ বিক্রি করা নিষিদ্ধ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ মদ অবাধে কালোবাজারে পাচার হচ্ছে। এ কারণে গোয়ালন্দ উপজেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলেও বাংলা মদ ছড়িয়ে পড়ছে।

এদিকে দেশের সবচেয়ে বড় যৌনপল্লী গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে অবস্থিত। সহজলভ্য হওয়ায় ওই পল্লীর ভেতরে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ মদের দোকান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পতিতাপল্লীর ওই সব দোকানিরা গোয়ালন্দ পৌরশহরের ‘মেসার্স রণজিৎ সরকার’ নামের দোকান থেকে অবৈধভাবে মদ এনে চড়া দামে বিক্রি করছেন।

স্থানীয় উজানচর ইউনিয়ন এলাকার একজন ব্যবসায়ী জানান, তিনি ‘মেসার্স রণজিৎ সরকার’ মদের দোকানের একজন ক্রেতা। তাঁর নামে পারমিট কার্ড ইস্যু করা আছে। অথচ ওই দোকানি অজ্ঞাত কারণে তাঁকে কার্ড দেয়নি। তা ছাড়া ওই দোকান থেকে প্রতিদিন স্বল্প পরিমাণ মদ বৈধভাবে বিক্রি করা হয়। বাকিটা চড়া দামে কালোবাজারে পাচার করা হচ্ছে।

‘মেসার্স রণজিৎ সরকার’ দোকানের ম্যানেজার প্রফুল্ল কুমার মণ্ডল জানান, এলাকার ৩০০ ক্রেতার কাছে অনুমোদিত কার্ড রয়েছে। কার্ডগুলো ক্রেতাদের কাছেই থাকে। দোকান থেকে মদ কেনার সময় তাঁরা কার্ড সঙ্গে নিয়ে আসেন। এ সময় ওই কার্ডে বিক্রির তারিখ ও পরিমাণ লিখে দেওয়া হয়। তবে কার্ড ছাড়া কারো কাছে মদ বিক্রি করা হয় না। তিনি আরো বলেন, ‘৩০০ কার্ডধারী ক্রেতার জন্য বরাদ্দ মদের পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু মদ আমাদের দোকানে সব সময় মজুদ থাকে।’

এদিকে উপজেলা এলাকায় মাদকসেবীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় অভিভাবকসহ এলাকার সচেতন মহল উদ্বিগ্ন। গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ বি এম নুরুল ইসলাম বলেন, ‘গোয়ালন্দ পৌরশহরের ওই দোকান থেকে অবাধে মদ বিক্রির কারণে উপজেলা শহর থেকে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে বাংলা মদ। এতে এলাকায় মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে।’

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মির্জা আবুল কালাম আজাদ জানান, থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও র্যাবের নিয়মিত অভিযানের ফলে গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকা থেকে প্রায়ই বিভিন্ন মাদকদ্রব্যসহ অবৈধ মদ উদ্ধার করা হয়। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যকরী ভূমিকা রাখলে গোয়ালন্দ পৌরশহরের ওই দোকান থেকে অবৈধ মদ বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে।

রাজবাড়ী জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রাজীব মিনা বলেন, ‘গোয়ালন্দে সরকার অনুমোদিত দেশি মদের ওই দোকান থেকে অবৈধভাবে মদ বিক্রির অভিযোগটি সত্য নয়। তার পরেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট দোকানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


মন্তব্য