kalerkantho


মানিকগঞ্জে এক শিক্ষক বরখাস্ত তিনজনকে শোকজ

কোড ফাঁসের রহস্য ভেদ করতে পারেনি কমিটি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পিইসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের কোড নম্বর ফাঁসে জড়িত অভিযোগে এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো তিন শিক্ষক ও এক কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি কোড ফাঁসের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি।

গত ২৬ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠ ‘কোড নম্বর ফাঁস করে নম্বর বাড়ানোর চেষ্টা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপে। এর পরের দিন বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সাটুরিয়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতুল চন্দ্র সরকার এবং সদস্য করা হয় সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কল্পনা রানী ঘোষ ও কানিজ ফাতেমাকে। দুই দিন পর তাঁরা প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর ভিত্তিতে গত বুধবার তিল্লি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কারণ দর্শাতে বলা হয় উত্তরপত্রের নিরীক্ষক টিপু সুলতান, প্রধান পরীক্ষক সাইদুর রহমান, মোশারফ হোসেন ও সাটুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী দিপঙ্কর সরকারকে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রতুল চন্দ্র সরকার বলেন, ‘কোড নম্বর ফাঁস করে একজন পরীক্ষার্থীর নম্বর বাড়ানোর চেষ্টা এবং ঘটনার সঙ্গে পাঁচজনের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে কোড নম্বর কিভাবে ফাঁস হলো তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌসী শিখা বহিষ্কার এবং কারণ দর্শানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এদিকে এই প্রতিবেদন সম্পর্কে কয়েক শিক্ষক অভিযোগ করেন, ‘কোড নম্বর ফাঁসে জড়িত হোতাকে বের না করে শিক্ষকদের ফাঁসানো হচ্ছে। কারণ, কোড সংরক্ষিত থাকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। তিনি ফাঁস না করলে কিভাবে এই নম্বর ফাঁস হলো? কর্মকর্তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার।’

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটবাউর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর পিইসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের কোড ফাঁস করে নিরীক্ষককে নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন তার মামা তিল্লি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলম হোসেন। কিন্তু নিরীক্ষক টিপু সুলতান এতে রাজি হননি। পরবর্তী সময়ে প্রধান পরীক্ষক সাইদুর রহমান ও মোশারফ হোসেনও তাঁকে নম্বর বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ করেন।


মন্তব্য