kalerkantho


কিশোরগঞ্জে হোমিও কলেজে অনিয়ম!

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কিশোরগঞ্জে আলহাজ আবদুল কুদ্দুছ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজে বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারিসহ কোনো জাতীয় দিবস পালিত হয় না। এ ছাড়া শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা না দেওয়া, অকারণে শিক্ষক ছাঁটাই, শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মাজহারুল ইসলাম এবং প্রতিষ্ঠাতা ও সহসভাপতি আব্দুল কুদ্দুছের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়। সম্প্রতি হোমিও কলেজের শিক্ষক, মেডিক্যাল অফিসার ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০১৬ সালে সব মিলিয়ে কলেজের বার্ষিক আয় হয় ৫১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০ টাকা। ব্যয় দেখানো হয় ১৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা থাকার কথা থাকলেও এ টাকা কোথায় রয়েছে, কেউ জানে না। এসব নিয়ে কথা বলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়। তিনজন শিক্ষককে চাকরি করতে দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড রেগুলেশন অমান্য করে অপছন্দের শিক্ষকদের ক্লাস করার সুযোগ না দিয়ে তাঁদের অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে।

তা ছাড়া কলেজটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বোর্ডের রেগুলেশন অনুযায়ী ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ পদ্ধতিতে যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ক্লাসের একজন শিক্ষককে ৩০০ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে এর অর্ধেক। আট মাস ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও ক্লাস হচ্ছে মাত্র তিন মাস।

এ ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. মাজহারুল ইসলাম জাতীয় দিবসগুলো পালন না হওয়ার অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, ‘এখানে অনেক শিক্ষক আছেন, যাঁরা দীর্ঘদিন কলেজে না গিয়েও সুবিধা নিতে চান। এসব করতে দেওয়া হয়নি বলেই তাঁরা আমার বিরুদ্ধে লেগেছেন।’

এ বিষয়ে কলেজের সভাপতি কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া বলেন, আর্থিক অনিয়মসহ কোনো দুর্নীতি হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কলেজের সার্বিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

 


মন্তব্য