kalerkantho


উত্তর চীন সাগরে ইরানি জাহাজডুবি

স্বপ্ন পূরণ হলো না সজিবের

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



স্বপ্ন পূরণ হলো না সজিবের

উত্তর চীন সাগরে ১২ দিন আগে বিস্ফোরণের পর ডুবে গেছে তেলবাহী ইরানি জাহাজ ‘সাঁচি’। ওই জাহাজের ৩২ নাবিকের (ক্রু) মধ্যে বাংলাদেশি দুজন। যাঁদের একজন হলো রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মতিয়াগাছি গ্রামের মাজেদ আলী মৃধার ছেলে সজিব আলী মৃধা (২৬)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পিনপতন নীরবতা। সজিবের কথা জিজ্ঞাসা করতেই স্বজনরা কেঁদে ওঠেন।

কান্নারত সজিবের কৃষক চাচা ওয়াজেদ আলী মৃধা বলেন, ‘সজিবের বাবা মাজেদ আলী মৃধা সৈয়দপুরের পার্বতীপুর রেলওয়েতে চাকরি করতেন। তাঁরা সেখানকার রেলওয়ে কোয়ার্টারেই থাকেন। তবে এরই মধ্যে তিনি অবসরে গেছেন। দুই বছর ধরে প্যারালিসিসে আক্রান্ত। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর এলপিআরও শেষ হবে। এর পরই সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসার কথা রয়েছে।’ তিনি জানান, সজিবরা এক ভাই ও দুই বোন। বড় বোন জিনিয়া আক্তার জলির বিয়ে হয়েছে এবং ছোট বোন সাবনাজ আক্তার পড়াশোনা করে। সজিব পার্বতীপুরের জ্ঞানাঙ্কুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৮ সালে জিপিএ ৫ পেয়ে এসএসসি পাস করে। সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ ৫ পায়। ২০১৩ সালে সজিব চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৪৭তম ব্যাচে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৪ সাল থেকে সজিব দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার ও দুটি অয়েল ট্যাংকার জাহাজে কাজ করেছেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর জামালপুরের এস কে ইঞ্জিনিয়ারিং এজেন্সির মাধ্যমে ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কম্পানি এনআইটিসির ‘সাঁচি’ জাহাজে ‘থার্ড মেট’ (বাণিজ্যিক জাহাজে চতুর্থ শীর্ষ কর্মকর্তা) হিসেবে যোগ দেন। মাসিক ৯০ হাজার টাকায় ছয় মাসের চুক্তিতে গত বছরের আগস্ট মাস থেকে তাদের জাহাজে কাজ করছিলেন।

সজিবের মামা মঞ্জুর রহমান তোতা বলেন, ‘এরই মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সজিবের লাশ আছে কি না, তা সজিবের বাবা ও বোনের ডিএনএ মিলিয়ে শনাক্ত করা হবে। গত ১৭ জানুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সজিবের বাবা ও বোনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়েছে। ডিএনএ প্রতিবেদন বাংলাদেশ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে সজিবের মা জোছনা বেগম একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। অসুস্থ বাবা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে গেছেন। সজিবের স্বপ্ন ছিল, তাঁর বাবার চাকরি শেষ হলে তাঁরা সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে ফিরবেন।’


মন্তব্য