kalerkantho


সাউথইস্ট অলাভজনক বিশ্ববিদ্যালয়

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সাউথইস্ট অলাভজনক বিশ্ববিদ্যালয়

কোহিনূর কেমিক্যাল কম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রেজাউল করিম সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান। বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়ে তাঁদের পরিকল্পনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্যতাসহ নানা বিষয়ে তিনি বললেন

 

ব্যবসায়ী হয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদে কিভাবে এলেন?

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার কথা ভেবেছিলেন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী মরহুম আফজাল হোসেন। তিনি সরকারের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমতি নিয়েছিলেন, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে আর্থিক সংকটে বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু করতে পারছিলেন না। কোথায় জমি ভাড়া নেবেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সুবিধাগুলো কিভাবে স্থাপন করবেন ইত্যাদি বিষয় নিয়েও তাঁরা চিন্তিত ছিলেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে সহযোগিতা করার জন্য তাঁরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। শিক্ষার প্রতি সারা জীবনই আমার অনুরাগ আছে। ফলে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিকে একটি মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হলাম। তবে যাতে আমরা সফলভাবে এই মহৎ কাজ করতে পারি, সে জন্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট নিয়াজ আহমেদ, হারুন-অর-রশীদ খান ও জহিরুল হককে পরিচালনা পর্ষদে যোগদানের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিলাম। এর পর সবাই মিলে যোগদান করে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ শুরু করলাম।

পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে আপনার লক্ষ্য?

এই পদে দায়িত্বভার গ্রহণের সময়ই শর্ত দিয়েছিলাম, ছাত্র-ছাত্রীদের বেতনের টাকা থেকে একটি পয়সা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সুযোগ-সুবিধাও আমরা পরিচালনা পর্ষদের কেউ গ্রহণ করব না। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির আয় থেকে একটি টাকাও আমরা নিইনি, নেবও না। এমনকি আমার কোনো আত্মীয়কেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দিইনি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজগুলো নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যেই ভালো ফল করছে। এসব কলেজের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আরো উন্নত লেখাপড়া ও সুন্দর জীবনের সন্ধান দিতে চাই। নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন স্থানের গরিব মেধাবীদের মানসম্পন্ন লেখাপড়ার সুযোগ দানও আমাদের লক্ষ্য। সে জন্য অন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো আমাদের অনেক শিক্ষাব্যয় নেই। আমরা কম খরচের মানসম্পন্ন শিক্ষাদান করছি। শুরু থেকে এটিই আমাদের লক্ষ্য, ভবিষ্যতেও থাকবে। সব সময় আমরা ভালো শিক্ষকদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করি। তাঁদের ভালো বেতন দেওয়ার জন্য বেতন কাঠামো সব সময় রিভিউ করি। ভালো শিক্ষকদের তো ভালো বেতন দিতে হবে। না হলে তো তাঁরা এখানে আসবেন না, থাকবেন না। তাঁদের মাধ্যমেই তো ভালো ছাত্র-ছাত্রী গড়ে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব সময় মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সহযোগিতা করা হয়। আমি নিজেও তাদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসি। শামীমা এর সর্বশেষ উদাহরণ। ভালো ফল করে সে এখন ভালো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। সামাজিক দায় পূরণের জন্য আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছিলাম। ভবিষ্যতেও সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি অলাভজনক, সমাজের জন্য হিতকর বিশ্ববিদ্যালয়—এটিই আমাদের বৈশিষ্ট্য। শুরু থেকেই আমরা এই লক্ষ্যে কাজ করছি, ভবিষ্যতেও করব। পুরো পরিচালনা পর্ষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি।

বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?

আমি নিয়মিত বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখি। সেগুলো দেখে নানা উদ্যোগ এখানে গ্রহণ করি। কয়দিন আগে ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঘুরেছি। তাদের মতো বিশাল ক্যাম্পাস আমাদের মতো ছোট্ট দেশে করা সম্ভব নয়। ঢাকা জেলায় অনুমতি পাওয়া বলে আমরা জায়গার অভাবে রাজধানীতে বিরাট ক্যাম্পাসও করতে পারব না। কিন্তু আমরা একে সর্বাধুনিক ও সেরা মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ২০০৯ সাল থেকে ঢাকার তেজগাঁওয়ে চার বিঘা জমিতে আমাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। পাশেই আরো সাত বিঘা জমি বায়না করা হয়েছে। সেখানেও আমরা উন্নতমানের অবকাঠামো গড়ে তুলব। তাতে মানসম্পন্ন সব শিক্ষা সুবিধা থাকবে। ঢাকার বাইরে থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের, বিশেষত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সুবিধার দিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিকে আমরা বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।


মন্তব্য