kalerkantho


আমরা এডুকেশন লিডার হব

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আমরা এডুকেশন লিডার হব

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এন এম মেশকাত উদ্দীন বললেন বিশ্বমানের শিক্ষাদানের ব্যাপারে তাঁদের পরিকল্পনার কথা

 

কেন এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ২৩তম, দ্বিতীয় প্রজন্মের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য—মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের এমন সব ছাত্র-ছাত্রী এখানে ভর্তি হবে, যারা মেধাবী হওয়ার পরেও নানা কারণে সরকারি, ব্যয়বহুল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না। তাদের জন্যই এতে মানসম্পন্ন শিক্ষাদান করা হয়। তাই দেশের নানা প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসে।

উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আপনাদের শিক্ষা-গবেষণা কার্যক্রম?

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার ‘গুণগত মান নিশ্চিতকরণ সেল’ আছে। তাঁরা বিভাগগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে ফার্মেসি বিভাগ (পিসিবি) ও আর্কিটেকচার বিভাগ (আইএবি) অ্যাক্রিডিটেশন পেয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইইই (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং), সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) অ্যাক্রিডিটেশন পাবে বলে আমরা আশাবাদী। সে প্রচেষ্টা চলছে। ফলে এসব বিভাগের শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিশ্বের নামকরা চারটি বিশ্ববিদ্যালয়—চীনের হুনান টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটি, কুনমিং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, জাপানের শিনসু ইউনিভার্সিটি, ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টারের সঙ্গে আমাদের শিক্ষা ও গবেষণা সমঝোতা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। আর কিছুদিনের মধ্যে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তি নিয়ে পড়ালেখা করতে পারবে। বিজ্ঞানের বিভাগগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক মানের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময় কার্যক্রম চুক্তির প্রচেষ্টার মাধ্যমে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা বৃত্তি নিয়ে যেতে পারবে। ফলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে।

বিদেশি শিক্ষার্থীরা যেন পড়তে আসে সে জন্য কী কী উদ্যোগ আছে?

আমাদের সঙ্গে চীনের ইউনান ইউনিভার্সিটির চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা এখানে এসে এক বছরের বাংলা শিক্ষা কার্যক্রমে বাংলা শিখবে। আমরা আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচারে এক বছরের কোর্স করতে পাঠাব। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ, বিশেষত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে অনেক আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন করেছি। সেগুলোর মাধ্যমেও বিদেশি শিক্ষার্থীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষা নিতে আসবেন বলে আশাবাদী।

শিক্ষার্থীদের চাকরি নিশ্চিত করতে কী উদ্যোগ নিচ্ছেন?

আমরা এসএমই (স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ) সেমিনার করেছি। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও চীন থেকে সেমিনারে নামকরা ব্যাংকার, উদ্যোক্তারা এসেছিলেন। তাঁদের আলোচনার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা উদ্যোক্তা হওয়ার শিক্ষা লাভ করেছে। দেশের ৬২টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষা সমঝোতা চুক্তি প্রক্রিয়াধীন আছে। এগুলোর বেশির ভাগই নামকরা প্রতিষ্ঠান। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা এসব প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্ন করতে পারবে, নানা ধরনের পেশাদার প্রশিক্ষণ নেবে। পরে যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ পাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বাড়াতে উদ্যোগ?

মানসম্পন্ন শিক্ষাদানের প্রচেষ্টা আমরা সব সময়ই নিই। আরো ভালো শিক্ষাদানের জন্য আমরা শিক্ষকদের মধ্যে ‘সেরা শিক্ষক অ্যাওয়ার্ড’ দানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। তেমনিভাবে সেরা ছাত্র, সেরা ক্লাব, সেরা কর্মকর্তা পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রেরণা তৈরি করা হবে। ক্লাবগুলোর কার্যক্রম এই পুরস্কারের মাধ্যমে আরো গতিশীল হবে। ফলে সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরো উন্নত হবে। বাংলা বিভাগের মাধ্যমে এ দেশের সাহিত্যক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গুণী সাহিত্যিকদের সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য পুরস্কার প্রদান শুরু করেছি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম চালু করা এই পুরস্কারের মাধ্যমে এ দেশের সাহিত্যের মান আরো উন্নত হবে বলে আমরা আশাবাদী। তা ছাড়া বিভিন্ন বিভাগের উদ্যোগে প্রতিবছর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মশালা এবং সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এসবের বাইরে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার সিরিজ করি। সেগুলোর মধ্যে ‘এথিকস ইন টিচিং’ ও ‘ইনোভেটিভ টিচিং’ সেমিনার দুটি শিক্ষাবিদ, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচিত হয়েছে। 

সহশিক্ষা কার্যক্রমকে কিভাবে উৎসাহ দিচ্ছেন?

আমাদের ১৫টি ক্লাব আছে। নিয়মানুসারে প্রতিটি ক্লাবকে বছরে অন্তত চারটি ইভেন্ট করতেই হবে। প্রতিটি ক্লাবকে কাজ অনুসারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুদান প্রদান করবে। বছরওয়ারি ক্লাব কার্নিভাল হবে। ক্লাব কার্নিভালে সেরা ক্লাব সবচেয়ে বেশি বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। ফলে তাদের মধ্যে আরো কর্মকাণ্ডের উৎসাহ তৈরি হবে, তাদের কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। আমরা শিগগিরই মিডিয়া কার্নিভাল করব। 

এত কিছু কেন করছেন?

আমাদের লক্ষ্য ২০২০ সালের মধ্যে গুণগত শিক্ষা প্রদান নিশ্চিত করে বাংলাদেশের এডুকেশন লিডার হব। ২০২৫ সালের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বমানের শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হবে। আমাদের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে এর মধ্যে আমরা নামকরা কলেজগুলোর সঙ্গে অংশীদারি চুক্তি সম্পাদন করেছি।


মন্তব্য