kalerkantho


আজকে তাদের ঈদের দিন

ঢাকার কমলাপুর স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রামে ‘লাইট হাউজ’র মাধ্যমে ৯০০ পথশিশুর মধ্যে ঈদের পোশাক বিলানো হলো। তারা সবাই ‘মজার স্কুল’ নামের পথশিশুদের স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী। তাদের ঈদের খুশির গল্প শোনাচ্ছেন হাসান ওয়ালী

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



আজকে তাদের ঈদের দিন

৭ জুন। সকাল ১১টা। ঢাকার কমলাপুর স্টেডিয়ামে ঘুরে বেড়াচ্ছে ৮৫০টি শিশু। কারো বয়স পাঁচ, কারো দ্বিগুণ। কেউ বা একেবারে ছোট। ঢাকার বিভিন্ন বস্তি থেকে বাসে করে এসেছে তারা। থাকেও ওরা বস্তিতে। এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে দৌড়াচ্ছে, কেউ গল্প করছে। ডাক শুনে আস্তে আস্তে লাইনে দাঁড়িয়ে গেল। তখনো তাদের খেলা থামেনি। একটু পরে মাইকে যখন বলা হলো—তোমাদের আজ ঈদের পোশাক দেওয়া হবে—শুনেই লাফিয়ে উঠল সবাই। ঈদের খুশিতে ঝলমল করছে মুখগুলো। কেউ নাচতে লাগল, কেউ গাইতে শুরু করল প্রিয় কোনো গান। তাদের খুশির এই আয়োজনটির উদ্যোক্তা পথশিশুদের স্কুল ‘মজার স্কুল’। নাম ছিল ‘মজার স্কুল : ঈদ উৎসব ২০১৮’।

প্যান্ট নিয়ে যখন ফিরে গেল নাজমুল হাসান, ১০ বছরের এই ছেলেটির মুখে হাসি ঝলমল করছে। একটু পরে দুপুরের খাবার খেয়ে নিল সে সবার সঙ্গে। তারপর খিলগাঁও বস্তির এই ছেলেটিকে মঞ্চে ডাকা হলো। সেখানে সে তার এলাকা চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক গান গাইল—‘মধু হই হই বিষ হাওয়াইলা, হন হরানের ভালোবাসার দাম ন দিলা।’ গানটি শুনে অন্য শিশুরা সে কী খুশি! বড় হয়ে কী হতে চাও—এই প্রশ্নটির পরে সে মঞ্চে উঠে তার স্বপ্নগুলো জানাল অন্যদের—‘আমি ভালো মানুষ হতে চাই। খারাপ ছেলেদের সঙ্গে মিশে নেশা করতে শুরু করেছিলাম। এখন আর নেশা করি না। আমি পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হব।’ তারই মতো মজার স্কুলের আরেক ছাত্র সাকিব হাসান। মা-বাবা বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটারের নামে তার নামটি রেখেছিলেন। সে বড় হয়ে সাকিবের মতোই বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার হতে চায়। নতুন লাল টি-শার্ট পেয়ে খুব খুশি সাকিব। বারবার বলতে লাগল—‘আমার নাম সাকিব, আমার ছবি তোলেন ভাইয়া।’ সারা দিন ধরে তাদের পোশাক বিতরণ চলে। ছেলেদের দেওয়া হয় শার্ট, টি-শার্ট, প্যান্ট, বেল্ট ও চশমা। মেয়েরা পেয়েছে সালোয়ার-কামিজ ও মেকআপ বক্স। বিরাট এই আয়োজনে পথশিশুদের এই স্কুলকে অর্থ ও পোশাক দিয়ে সাহায্য করেছে নানা স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন। তাদের মধ্যে ছিল ‘লাইট হাউজ’ নামের একটি সংগঠন। এই সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ফারজিন পিয়োনোও সারা দিন ছিলেন কমলাপুরে। তিনি বললেন, ‘পথশিশুরাই সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত শ্রেণি। তাদের চাহিদা আছে, ভালোভাবে বাঁচার অধিকার আছে; কিন্তু কোনো চাওয়া কি পাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা কেউ তাদের দিকে ফিরে তাকাই না। ঘৃণার চোখে দেখি এসব মানুষকে। এই অধিকারহীন বৈষম্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা ছেলে-মেয়েদের ঈদের দিনটিকে আনন্দময় করার জন্যই আমাদের এই উদ্যোগ।’

কিভাবে এত পোশাকের খরচ জোগাড় হয়েছে—সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘আমরা মূলত ফেসবুকের মাধ্যমে আর্থিক সাহায্য ও পোশাক সংগ্রহ করেছি। অনেকেই পথশিশুদের জন্য পোশাক কেনা হবে বলে আগ্রহী হয়ে সাহায্য করেছেন।’ তিনি আরো বললেন, ঢাকার বাইরে তাঁদের লাইট হাউজের চট্টগ্রাম শাখায় একই দিন তাঁরা ৫০টি পথশিশুর মধ্যে ঈদের পোশাক বিতরণ করেছেন।


মন্তব্য