kalerkantho


টিফিন আওয়ার

স্টেডিয়ামের মাঝে কিন্ডারগার্টেন

ফুটবল স্টেডিয়ামের মধ্যে যদি একটা কিন্ডারগার্টেন থাকে, তাহলে কেমন হবে বলুন তো। আসলেই কিন্তু আছে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



স্টেডিয়ামের মাঝে কিন্ডারগার্টেন

হামবুর্গের এফ সি সেন্ট পলি খেলে জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলে। এই ক্লাবেই গঠন করা হয়েছে পেস্তালোজ্জি ফাউন্ডেশন কিন্ডারগার্টেন। একেবারে এক বছরের শিশু থেকে শুরু করে ছয় বছর বয়সীদের জন্য খোলা হয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। আর কিন্ডারগার্টেনটি অবস্থিত খোদ সেন্ট পলির ফুটবল স্টেডিয়ামের মধ্যে। যে শিশু ফুটবল ভালোবাসে তার জন্য এর থেকে আদর্শ জায়গা আর কি-ই বা হতে পারে।

২৯ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় খোলা হয়েছে সেন্ট পলি কিন্ডারগার্টেন। শিশুদের জন্য এখানে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে মাঠ, ছাদ, এমনকি খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে প্রবেশের টানেল পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবেই ক্লাবের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকেই দহরম-মহরম গড়ে ওঠে, নার্সারির বাচ্চারা যে ছড়াগুলো গায় সেগুলোও সুর করা হয়েছে ক্লাবের স্লোগানের সঙ্গে মিল রেখে।

আট বছর আগে স্টেডিয়াম সংস্কার করার সময় এই কিন্ডারগার্টেনের পরিকল্পনা করা হয়। সেন্ট পলি অঞ্চলে বসবাস করে মূলত শ্রমিক ঘরানার মানুষেরা। তাদের বাচ্চারাই ভর্তি হয় এখানে। ছোটবেলা থেকেই গড়ে ওঠে ক্লাবটির কড়া সমর্থক হিসেবে।

তবে স্রেফ কিন্ডারগার্টেন আর স্টেডিয়ামের জন্য সেন্ট পলি বিখ্যাত হয়নি, এখানে গড়ে উঠেছে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা। ২০১৫ সালে যখন সিরিয়া থেকে আসা শরণার্থীদের নিয়ে জার্মানির জনগণ তুমুল বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে, তখন সেন্ট পলির এই স্টেডিয়াম এক হাজার শরণার্থীকে বিনা মূল্যে খেলা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।

সেন্ট পলির কিন্ডারগার্টেনে বর্তমানে পড়ছে প্রায় ১৩০টি শিশু, তাদের দেখভাল করার জন্য আছে শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে ২০ জন পুরুষ ও নারী। এর বাইরেও ক্লাবের অন্যান্য কর্মকর্তা আর খেলোয়াড়দের সঙ্গেও এখানকার খুদে শিক্ষার্থীদের গড়ে উঠেছে দারুণ এক সম্পর্ক।

সেন্ট পলি হয়তো খেলার মানের দিক দিয়ে জার্মানির সেরা ক্লাবগুলোর মধ্যে নেই, প্রথম বিভাগ অর্থাৎ বুন্দেসলিগায় এক মৌসুম খেলা ছাড়া সেন্ট পলির বলার মতো কীর্তিও তেমন নেই; কিন্তু ফ্যাসিবাদসহ অন্যান্য উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার মতো এমন কর্মকাণ্ড সেন্ট পলিকে নিঃসন্দেহে বিশেষ মহিমা দান করেছে।

 


মন্তব্য