kalerkantho


সরকারি প্রকল্পে ৮৫২ নিয়োগ

ফ্যাশন ডিজাইন, ব্লক বাটিক, ক্রিস্টাল শোপিস তৈরিসহ ১০টি ট্রেডে প্রশিক্ষক নেবে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর। আবেদনের শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর। বিস্তারিত জানাচ্ছেন রায়হান রহমান

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



সরকারি প্রকল্পে ৮৫২ নিয়োগ

‘উপজেলা পর্যায়ে মহিলাদের আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিস্ট গাইড, ফ্যাশন ডিজাইন, সেলসম্যানশিপ, ভারমিন কম্পোস্ট, বিউটিফিকেশন, ব্লক বাটিক, টেইলরিং, শতরঞ্জি মেকিং, ক্রিস্টাল শোপিস তৈরি, ডেকোরেটেড ক্যান্ডেল মেকিং ও উলেন ড্রেস, মাশরুম অ্যান্ড অ্যাপিকালচার বিষয়ে প্রশিক্ষক নেবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর। এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে অস্থায়ী ভিত্তিতে।

প্রতিটি উপজেলায় দুইজন করে সারা দেশে ৪২৬টি উপজেলায় নেওয়া হবে মোট ৮৫২ জন। বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যাবে http://www.dwa.gov.bd/site/notices/bc7bd835-a4a7-46b7-ba38-cadcff54aabb লিংকে।

আবেদনের যোগ্যতা
এইচএসসি অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিপ্লোমা থাকলে আবেদন করা যাবে প্রশিক্ষক পদে। থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা। ৩০ অক্টোবর তারিখে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য বয়সসীমা ৩২ বছর। দেশের যেকোনো উপজেলায় প্রশিক্ষক পদে আবেদন করা যাবে।

আবেদনের নিয়ম
আবেদন ফরম পাওয়া যাবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় (www.mowca.gov.bd) এবং মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের (www.dwa.gov.bd)  ওয়েবসাইটে। অ৪ সাইজের কাগজে ফরম প্রিন্ট করে নির্দেশনা অনুসারে পূরণ করে জমা দিতে হবে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে। আবেদন করা যাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চাকরির এক পাতার নির্ধারিত ফরমেও। প্রতি উপজেলায় নেওয়া হবে দুটি করে ট্রেডের প্রশিক্ষক। উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ট্রেডের নাম জানা যাবে। পরে প্রকল্প পরিচালক বরাবর লেখা আবেদনপত্র জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট উপজেলার মহিলাবিষয়ক কর্মকতার কার্যালয়ে। খামের ডান পাশে পদের নাম, উপজেলা ও জেলার নাম লিখতে হবে। কোটায় আবেদন করলে খামের ওপর তা উল্লেখ করতে হবে। চাকরিরতদের আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে শিক্ষা সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ ও নাগরিকত্ব সনদের সত্যায়িত কপি। লাগবে সদ্য তোলা তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি। ফি বাবদ ১০০ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক (আইজি), ঢাকা বরাবর জমা দিতে হবে। ১-৩০২১-৫০০৪-২০৩১ কোডে টাকা জমা দিয়ে চালানের মূল কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

নিয়োগপদ্ধতি
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমে আবেদনপত্র যাছাই-বাছাই করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় মহিলাবিষয়ক কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুসারে নেওয়া হবে নিয়োগ পরীক্ষা। নিয়োগের জন্য সরকারের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হবে।

পরীক্ষার ধরন ও প্রস্তুতি
পরীক্ষা হবে নিজ উপজেলায়। সারা দেশে একযোগেও হতে পারে পরীক্ষা, আবার হতে পারে ভিন্ন সময়েও। পরীক্ষার দিনক্ষণ মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। পরীক্ষার ধরন এখনো চূড়ান্ত না হলেও মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাই প্রস্তুতি নিতে হবে দুটির জন্যই। লিখিত পরীক্ষার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুসারে প্রস্তুতি নিতে হবে। সঙ্গে নেওয়া হতে পারে ট্রেড সংশ্লিষ্ট ব্যবহারিক বা টেকনিক্যাল পরীক্ষাও। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রশ্নপত্রে সবচেয়ে বেশি নম্বর থাকে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানে। বাংলার জন্য পড়তে হবে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্য বই। বাংলা ব্যাকরণ থেকে এককথায় প্রকাশ, শব্দার্থ, বাগধারা, ণত্ব বিধান, ষত্ব বিধান, সাহিত্য অংশে গল্প, কবিতা, লেখকের নাম ও জীবনী থেকে প্রশ্ন আসে। গণিতে সুদকষা, ঐকিক নিয়ম, অনুপাত, সমানুপাত, শতকরা, লসাগু-গসাগু, লাভক্ষতি, ভগ্নাংশ, লগারিদম ও বীজগণিতীয় সূত্র থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। ইংরেজিতে গ্রামার অংশে Tense, Parts of speech, Verb, Translation, Number, Gender, Narration, Voice Change, Correct Form of Verbs, Pronunciation, Synonym, Antonym, Transformation of Sentence, Appropriate Word, Idioms and Phrases  থেকে প্রশ্ন আসে। সাধারণ জ্ঞান থেকে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রশ্ন আসে। সমসাময়িক বিষয়েও প্রশ্ন থাকতে পারে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে দিতে হবে মৌখিক পরীক্ষা। সেখানে দেখা হবে প্রার্থীর কথা বলার ধরন, বুদ্ধিমত্তা ও সংশ্লিষ্ট পদ সম্পর্কে জ্ঞান।

জানতে হবে পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে
ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রার্থীদের জানতে হবে সংশ্লিষ্ট ট্রেডের আদ্যোপান্ত। যেমন—ফ্রন্ট ডেস্ক ম্যানেজমেন্ট পদে প্রশিক্ষক হিসেবে আবেদন করলে জানতে হবে টেলিফোনে অভ্যর্থনা জানানোর কৌশল, চেক ইন, চেক আউট, বিল, হিসাব ও রেকর্ড সংরক্ষণসহ ফ্রন্ট ডেস্ক-সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ।  ট্যুরিস্ট গাইড ট্রেইনার পদে জানতে হবে সুন্দরভাবে কথা বলার কৌশল, থাকতে হবে দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জ্ঞান, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে উপস্থিত বুদ্ধি খাটানোর কৌশল, ধৈর্য ও সহনশীলতা, ভৌগোলিক ও সাধারণ জ্ঞান। ব্লক-বাটিক প্রশিক্ষক পদের জন্য জানতে হবে কাপড়ে ব্লক-বাটিক পদ্ধতি, রং ও কেমিক্যাল মেশানো, কাপড় তৈরির নানা কৌশল। মাশরুম অ্যান্ড অ্যাপিকালচার ট্রেইনার পদে জানতে হবে মাশরুম চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি, বিপণনপদ্ধতি, সংরক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়। ভারমিন কম্পোস্ট পদের জন্য জানতে হবে কেঁচো সংরক্ষণের মাধ্যমে সার তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে। এ রকম সব পদের জন্য জানতে হবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ব্যবহারিক কাজ।

বেতন ও সুযোগ-সুবিধা
প্রশিক্ষকরা চুক্তিভিত্তিক মাসিক ১৫৬৫০ টাকা বেতন পাবেন। নিয়োগ এক বছরের জন্য হলেও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর প্রয়োজন মনে করলে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে পারে। তখন বাড়তে পারে নিয়োগ চুক্তির মেয়াদও।

যোগাযোগ
যোগাযোগ করা যাবে প্রতিটি উপজেলার মহিলাবিষয়ক কার্যালয়ে। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ৩৭/৩ ইস্কাটন গার্ডেন রোড, ঢাকা—এই ঠিকানায়ও যোগাযোগ করা যাবে।


মন্তব্য