kalerkantho


তারকার অন্য পেশা

কেউ গানের জনপ্রিয় তারকা, কেউ বা অভিনয়ে মাতান দর্শক। কারো ক্ষেত্র আবার মডেলিং। এসব পরিচয়ের বাইরে তাঁরা চাকরিজীবী। কয়েকজন তারকা কর্মজীবীর গল্প শোনাচ্ছেন মাহতাব হোসেন ও আতিফ আতাউর

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



তারকার অন্য পেশা

কাজকে ভালোবাসতে হবে

 

নোবেল

জনপ্রিয় মডেল

হেড অব এন্টারপ্রাইজ বিজনেস, রবি আজিয়াটা লিমিটেড

 

মডেলিংয়ের পরিচিত মুখ নোবেল। মডেলিংয়ের পাশাপাশি করপোরেট জগতে চাকরি করছেন ২০ বছরের বেশি সময় ধরে। বর্তমানে টেলিকমিউনিকেশন প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা লিমিটেডে কর্মরত আছেন হেড অব এন্টারপ্রাইজ বিজনেস হিসেবে। শুরুটা এনজিএইচ গ্রুপ দিয়ে। এরপর কোটস বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন ১৪ বছর। চার বছর কাজ করেছেন এয়ারটেলে। ২০১৪ সালে যোগ দেন রবিতে। এখানে কী দায়িত্ব পালন করেন? ‘রবির সঙ্গে অন্যান্য কম্পানির টেলিফোন কানেকশন নিয়ে কাজ করতে হয়। কোনো একটি গ্রুপে হয়তো কয়েক হাজার কর্মী কাজ করেন। তাঁদের জন্য টেলিফোন কানেকশনের কাজ করতে হবে। আমার বড় একটি টিম আছে, তাদের নিয়ে যাই। কম্পানিটির কতজন কর্মী আছে, তাদের কতটুকু ইন্টারনেট প্রয়োজন, সেই অফিসে নেটওয়ার্ক কাজ করবে কি না, এগুলোর দিকনির্দেশনা দিতে হয়। ফোন দিয়ে শুধু কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে ডিজিটাল মার্কেটিং, ফোনের সাহায্যে শপিং, ফোনে খেলা দেখার বন্দোবস্ত করে দেওয়ার মতো আধুনিক সেবা নিয়েও কাজ করতে হয় আমাদের।’

পেশাগত জীবনের সঙ্গে শোবিজজীবনের তাল মেলান কিভাবে? ‘চাকরির আগে থেকেই মডেলিং করি। যদিও এখন চাকরিই আমার প্রধান পেশা। সঙ্গে মডেলিং ও টুকটাক অভিনয় করি। পরিচালকরাও জানেন আমার চাকরির কথা। এ কারণে ছুটির দিনে তাঁরা শুটিংয়ের বন্দোবস্ত করেন। শোবিজে এখন খুব বেশি কাজ করি না। সপ্তাহের এক ছুটির দিনে শুটিং করলে পরের সপ্তাহে বিশ্রাম নিই। কারণ চাকরির জন্যও তো এনার্জি লেভেলটা ঠিক রাখতে হবে।’ বললেন নোবেল।

তারকা পরিচিতিটা কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক হয় কি না জানতে চাইল তিনি বলেন, ‘তারকা পরিচিতি পেশাগত জীবনে নানাভাবে সহায়তা করে। দেখা গেল আমার টিমের কর্মীরা কোনো বড় একটি অফিসের এমডির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছে। কিন্তু কোনো কারণে তারা সাক্ষাৎ করতে পারছে না। তখন আমাকে নিয়ে যায়। কাজটা তখন সহজ হয়ে যায়।’ বলেন নোবেল।

এমনও হয়েছে, কোনো অফিসে তিনি যাওয়ায় তাঁকে দেখে অবাক হয়েছেন সেখানকার কর্মীরা। হাত বাড়িয়ে জানতে চেয়েছেন, তিনি রবির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর কি না? হেসে জবাব দিয়েছেন, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর নন, রবির একজন কর্মকর্তা তিনি। তবে পরিচয়টা যে কাজের ক্ষেত্রে সব সময় সহায়ক হয়, তা-ও নয়। অনেক সময় মৃদু বিড়ম্বনারও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ‘অনেকেই ছবি তুলতে চায়। এগিয়ে এসে কথা বলতে চায়। এতে কাজে ব্যাঘাত ঘটে। সময়ও অপচয় হয়। তবে আমি বিরক্ত হই না। ভালোভাবেই নিই বিষয়টা।’ বলেন নোবেল।

মুঠোফোন কম্পানিতে যাঁরা পেশাগত জীবন গড়তে চান, তাঁদের জন্যও পরামর্শ দিলেন তিনি—‘কাজটা ভালোভাবে জেনে, বুঝে তবেই এ পেশায় আসতে হবে। শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। কাজকে ভালোবাসতে হবে।’

 

যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানো জরুরি

নকীব খান

জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা

করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টরস, নেসলে বাংলাদেশ

 

রেনেসাঁ ব্যান্ডের ভোকাল নকীব খানের চাকরিতে ঢোকার গল্পটা বেশ মজার। নেসলে বাংলাদেশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। যদিও শুরুটা ফিলিপস কম্পানিতে। আগে থেকেই গান করতেন। কিন্তু সেই সময় গায়ক পরিচিতি যথেষ্ট ছিল না। নকীব বলেন, ‘মানুষ মনে করত, ও তো শিল্পী। তা গানের বাইরে আর কিছু করে না? এমন প্রশ্নের কারণও ছিল। শুধু গান গেয়ে আশির দশকে জীবিকা নির্বাহ করা বেশ কঠিন ছিল।’ তাই গান গাওয়ার পাশাপাশি একটি জুতসই চাকরির চেষ্টায় ছিলেন। পরীক্ষা দিয়ে পেয়েও যান। ‘কোনো মামা-খালুর জোরে নয়, আর দশটা ছেলে যেভাবে চাকরিতে ঢোকে, সেভাবেই ঢুকেছিলাম। চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে সিভি জমা ও ভাইভা দিয়ে পাস করার পরই চাকরি হয়েছিল।’ বললেন নকীব খান। ফিলিপসের পর কাজ করেছেন আরেকটি প্রতিষ্ঠানে। সেখান থেকে সাপ্লাই চেইন ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন নেসলে বাংলাদেশে।

চাকরি আর গান কিভাবে সমন্বয় করেন? ‘চাকরি আমার পেশা আর গান আমার নেশা। দুটি জিনিস একসঙ্গে সমন্বয় করা বেশ কঠিন। বিদেশি প্রতিষ্ঠান বলে কাজের চাপও অনেক বেশি। তবে এর জন্য টাইম ম্যানেজ করতে পারাটা জরুরি। যতক্ষণ অফিসে থাকি, তখন শতভাগ অফিসের কাজেই মনোনিবেশ রাখি। আবার যখন গানের কাজ করি, তখন শতভাগ মনোনিবেশ গানে রাখার চেষ্টা করি। এতে গান ও পেশাগত জীবন নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয় না। তবে চাকরির কারণে গানে সময় বেশি দিতে পারি না। আমাদের ব্যান্ডের কমবেশি সবাই চাকরি করেন। এ কারণে রেনেসাঁর অ্যালবামও কম।’

নেসলেতে কী দায়িত্ব পালন করেন? ‘সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কম্পানির সঙ্গে লিয়াজোঁ মেইনটেন করতে হয়। পলিসি অ্যাডভোকেসি করতে হয়। করপোরেট কমিউনিকেশন বাড়ানোর দায়িত্বটাও আমার কাজের অন্তর্ভুক্ত। এসব কাজের জন্য অনেক ইউনিট আছে। সমন্বয়ের কাজটা আমাকে করতে হয়।’ বললেন তিনি।

শিল্পী পরিচিতিটা কি চাকরিজীবনে বাড়তি সুবিধা দেয়? ‘শিল্পী পরিচিতি কাজের ক্ষেত্রে বেশ সহায়তা করে। আমাদের যেহেতু পাবলিক রিলেশনের কাজ, সে কারণে পরিচিতিটা অনেক কাজে আসে। যখন কোনো মন্ত্রণালয়ে যাই বা কোনো ফোরামে যাই, সবাই আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তবে এর জন্য শুধু শিল্পী পরিচয়টা মুখ্য নয়, মানুষের মনে শ্রদ্ধা, আস্থার জায়গাটাও তৈরি করতে হয়। আমি যে বিষয়ে কথা বলছি, সে বিষয়ে যদি দক্ষ না হই, সেটি শুধু শিল্পী পরিচয় দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।’ বললেন তিনি।

সুইজারল্যান্ড-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ও বাংলাদেশ সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সোসাইটির সভাপতি নকীব খান। অটিস্টিক শিশুদের একটি সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। এই পরিচয়টাও কাজের ক্ষেত্রে সহায়তা করে তাঁকে। নকীব খানের পেশায় যাঁরা আসতে চান, তাঁদের প্রতি তাঁর পরামর্শ—‘কাজের জায়গাটা সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানাশোনা জরুরি। নিজেকে তৈরি করতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভালো পরিচয় থাকতে হবে। যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে। সফলতা আসবেই।’

 

পরিকল্পনা সৌন্দর্যচর্চার জগৎ ঘিরেই

মোনালিসা

জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী

বিউটি অ্যাডভাইজার, সেফোরা

 

জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী মোনালিসা। ২০১৩ সালে হুট করেই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। নিউ ইয়র্কে সেফোরা নামের আন্তর্জাতিক মেকআপ প্রতিষ্ঠানে বিউটি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছেন। শুরুটা মেকআপ আর্টিস্ট দিয়ে হলেও চার বছর অনেকটা সিঁড়ি পেরিয়ে এখন তিনি বিউটি অ্যাডভাইজার।

মোনালিসা বলেন, ‘অনেকেই জানে না, যখন আমি দেশের শোবিজে কাজ করতাম, তখন নিজের মেকআপ নিজেই নিতাম। মেকআপ বিষয়টায় আমার তীব্র আকর্ষণ ছিল। মেকআপের ওপর দেশ-বিদেশের সাময়িকী জোগাড় করতাম, সেগুলো খুঁটে খুঁটে পড়তাম।’

তিনি আরো বললেন, ‘মেকআপ একটা আর্ট। আমাদের দেশে গণ্য না হলেও ইউরোপ-আমেরিকায় এর কদর অনেক। একজন মেকআপ আর্টিস্টকে সবাই সমীহ করে, সম্মান করে।’

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় টাইম টেলিভিশনে অনুষ্ঠানপ্রধান হিসেবে যোগদান করেন মোনালিসা। এটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বাংলা টেলিভিশন চ্যানেল। নিত্যনতুন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের বাঙালি কমিউনিটিতে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোই ছিল কাজ। নিজেও কিছু অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতেন। কিন্তু মোনালিসার মন পড়ে রয় অন্যখানে। এখানে বেশিদিন স্থায়ী হলেন না। মাত্র এক বছর কাজ করেছেন। টাইম টেলিভিশন ছেড়ে দেওয়ার পর নিউ ইয়র্কের কুইন্সমলে ম্যাক নামের একটি প্রসাধনসামগ্রীর প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দেন। সেখানে ইন্টারভিউ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা জানতে হয়, থাকতে হয় ডিগ্রি। মোনালিসার সেসব ছিল না, ছিল অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান। সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অনেককেই পেছনে ফেলে মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে সুযোগ পান। ম্যাকে দুই বছর কাজ করেন। ডাক আসে ইতালির কিকা মিলানো নামের একটি প্রসাধনসামগ্রী কম্পানি থেকে। সেখানে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। এর কিছুদিন পরেই সেফোরায় বিউটি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজের প্রস্তাব পান। সেখানে মেকআপের ওপর প্রশিক্ষণ দেন, পরামর্শ দেন ও ক্লাস নেন। তাঁর হাত দিয়েই এখন অসংখ্য মেকআপ আর্টিস্ট তৈরি হয়।

মোনালিসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন এই সৌন্দর্যচর্চার জগৎ ঘিরেই। জানালেন, যুক্তরাষ্ট্রে এটির কদর আকাশচুম্বী। সেখানে মেকআপের জন্য একজন আর্টিস্টকে হাজার হাজার ডলার ঘণ্টা চুক্তিতে হায়ার করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে এই কাজের এখনো তেমন মূল্যায়ন নেই। কেউ এই কাজে যুক্ত হতে চাইলে ইউরোপ, আমেরিকায় যথেষ্ট সুযোগ আছে। তবে এর আগে ডিপ্লোমা করে নিতে হবে মেকআপ আর্টের ওপর। নিউ ইয়র্কে অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া আমি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করি, সেখান থেকেও অনেকে কোর্স করছে।’

মোনালিসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো এই শিল্পকে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করা। দেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি সৌন্দর্যচর্চার প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান চালু করার চিন্তা রয়েছে তাঁর।

 

চাকরিটাকে শুধু চাকরি হিসেবেই দেখছি না

কোনাল

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী

এক্সিকিউটিভ, ক্রিয়েটিভ প্রগ্রাম, চ্যানেল আই

 

সংগীতশিল্পী সোমনুর মনির কোনাল ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা করেছেন কুয়েতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে। ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগেও গ্র্যাজুয়েশন করেছেন তিনি। গান করার পাশাপাশি কোনাল চাকরি করেন বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ে। প্রতিষ্ঠানটিতে ক্রিয়েটিভ প্রগ্রামে এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত কোনাল। চাকরিতে আছেন সাত বছর ধরে। ২০০৯ সালে কোনাল চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠে চ্যাম্পিয়ন হন। রীতিমতো তারকাখ্যাতি পেয়ে যান। পেশাদার কণ্ঠশিল্পী হয়ে ওঠার আগেই চাকরির প্রস্তাব পান চ্যানেল আই থেকে। কোনাল বলেন, ‘একদিন সাগর ভাই বললেন, তুমি চাইলে আমাদের প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারো। সেটি ২০১০ সালের ঘটনা। আমি কাজের ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলাম। সাগর ভাই সবিস্তারে বললেন। সাগর ভাইয়ের প্রস্তাবে দ্বিতীয়বার ভাবলাম না। যুক্ত হলাম চ্যানেল আইয়ে।’

কোনালের মূল কাজ ক্রিয়েটিভ আইডিয়া দেওয়া। পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। কোনাল বলেন, ‘কাজটাকে শুধু চাকরি হিসেবেই দেখছি না। এটি একটি ক্রিয়েটিভ কাজ। পর্দায় যেসব নিত্যনতুন অনুষ্ঠান আসে, সেগুলো আমাদের মস্তিষ্কপ্রসূত। ধরা যাক, রুনা লায়লার ক্যারিয়ারের ৫০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এ নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করতে হবে। প্রগ্রামটা সাদামাটা করলে হবে না। তিনি কিংবদন্তি শিল্পী। তাঁর ৫০ বছরের ক্যারিয়ার আমরা ৫০ মিনিটে উপস্থাপন করব। ঠিক করতে হবে, অনুষ্ঠানের পুরো ফরম্যাট কী হবে। অনুষ্ঠান প্রচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কাজ চলতেই থাকে।’

চাকরি গানের ক্যারিয়ারকে বাধাগ্রস্ত করে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কোনাল বলেন, ‘মোটেও না। আমাদের কাজের সময়টা খুবই ফ্লেক্সিবল। সব সময় যে অফিসে আসতে হবে এমনটাও নয়। আমার শো কিংবা অনুষ্ঠান থাকলে জাস্ট আগেই জানিয়ে রাখি। তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো অনুষ্ঠান হলেও সমস্যা নেই। আমাদের কাজ পরিকল্পনা করা, স্ক্রিপ্ট তৈরি করা। সবাই মিলে কাজ ভাগ করে নিলেই সহজ হয়ে যায়। তবে মাঝেমধ্যে একটানা কাজ করতে হয়। এমনও হয়, একটা পুরো প্রগ্রামের স্ক্রিপ্ট আমাকে লিখতে হচ্ছে। পরিকল্পনা করতে হচ্ছে।’

আপনার পেশাকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান যাঁরা, তাঁদের প্রতি পরামর্শ কী? ‘এটি একটি সৃজনশীল কাজ। তাই আপনাকে অবশ্যই ক্রিয়েটিভ মাইন্ডেড হতে হবে। বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোতে কাজের অভিজ্ঞতা এ পেশায় আসতে অনেকটাই সহায়তা করবে।’

 

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আমার নাটক দেখেন

তারিক স্বপন

জনপ্রিয় অভিনেতা

কার্য তদারককারী, রাজউক

 

অভিনেতা জাহিদ হাসান একবার সিরাজগঞ্জ যান। সেখানে স্থানীয় প্রসূন থিয়েটার মঞ্চস্থ করছিল ‘হামেদ আলীর স্বর্গ দর্শন’। এই নাটকেরই একটি চরিত্রে ছিলেন তারিক স্বপন। নাটক দেখে মুগ্ধ জাহিদ হাসান। মফস্বল এলাকায় এমন অভিনয় আর নির্দেশনা দেখে তিনি অভিভূত। নাটক শেষে জাহিদ হাসান খোঁজ নিলেন—কে এই তারিক স্বপন। জানতে পারেন, নাটকটির নির্দেশনাও তারিক দিয়েছেন। তিনি তারিক স্বপনকে ডাকলেন। বললেন, ‘তুমি ঢাকায় এলে তোমাকে সহযোগিতা করতে পারি।’

১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় চলে আসেন তারিক স্বপন। এসেই শহীদুল আলম সাচ্চুর থিয়েটারে যোগ দেন। কিন্তু শুধু থিয়েটার করলেই তো চলবে না। বেঁচে থাকতে হলে দরকার চাকরি। জাহিদ হাসানের শরণাপন্ন হলেন। জাহিদ হাসান বিভিন্ন জায়গায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে জানা গেল, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) লোক নিচ্ছে। চেষ্টা করলেন, সেখানে যাতে তারিকের একটি ছোটখাটো হলেও চাকরি হয়। শেষ পর্যন্ত হয়েও গেল।

তখন থেকেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে কাজ করছেন এই অভিনেতা। এই প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রজেক্ট তদারক করাই মূলত তাঁর কাজ। একটি প্রজেক্টে একাধিক তদারককারী থাকেন। বিষয়টি আরেকটু পরিষ্কার করে বলতে গেলে—একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। সবার মধ্যে কাজ বণ্টন করা হয়। একজন প্রকৌশলীর অধীনে হয়তো ১০ জন সহকারী প্রকৌশলী ও কর্মী থাকেন। তাঁদের পাশাপাশি প্রজেক্টে রাজউক থেকে দুইজন বা একজন তদারককারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদারককারী পুরো প্রকল্পের কাজ পর্যবেক্ষণ করেন ও প্রতিবেদন জমা দেন।

অভিনয় ঠিক রেখে চাকরি সামলে যাচ্ছেন তারিক স্বপন। তিনি জানালেন, ‘একটু কষ্ট হয়, তবে সামলে নিই। আমি অভিনয় করতেই ঢাকায় এসেছি। কিন্তু অভিনয়জীবনের প্রথম দিকে আয়ের মূল উৎস ছিল চাকরি।’

তারিক স্বপন বলেন, ‘অফিসে আমার মূল দায়িত্ব প্রকল্পের কাজ পর্যবেক্ষণ করা। প্রজেক্টের খুঁটিনাটি বিষয় যাচাই করা। ফাইল রেডি করা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আমার নাটক দেখেন, আমার অভিনয় পছন্দ করেন। তাই অনেক সহযোগিতা পাই তাদের কাছ থেকে।’

তারিক স্বপন জানালেন, রাজউকে চাকরি করতে হলে অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি চাকরির মতোই প্রস্তুতি নিতে হবে। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে হয়। ক্ষেত্রবিশেষে নেওয়া হয় লিখিত পরীক্ষাও। সব শেষে ভাইভায় টিকলেই মিলতে পারে চাকরি।

 

 


মন্তব্য