kalerkantho


রাজনৈতিক সংকটে দক্ষিণ আফ্রিকা

জুমার বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট আজ

‘আমার সঙ্গে ভীষণ অন্যায় করা হচ্ছে’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



জুমার বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট আজ

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাকে পদচ্যুত করতে আজ বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট হতে যাচ্ছে। গতকাল বুধবার পার্লামেন্টের ককাসের বৈঠকে জুমার নিজের দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে। এএনসির এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর গতকাল এক টেলিভিশন বক্তব্যে জুমা বলেন, তাঁর সঙ্গে ভীষণ অন্যায় করা হচ্ছে। কেন তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরতে হবে এর সদুত্তর কেউ দিতে পারছে না।

এদিকে গতকাল সকালে জুমার ঘনিষ্ঠ গুপ্ত পরিবারের স্যাক্সনওল্ডের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রভাবশালী এই ভারতীয় পরিবারের এক সদস্যও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বলে জানায় সংবাদমাধ্যমগুলো। পুলিশ জানায়, ‘ব্যক্তিস্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহার’ ইস্যুতে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকা জুমার দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সির মেয়াদ আগামী বছর শেষ হচ্ছে। ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এর আগেই তাঁকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে এএনসি। গত সোমবার রাতে প্রায় ১৩ ঘণ্টা টানা বৈঠকে এএনসির শক্তিশালী জাতীয় নির্বাহী কমিটি (এনইসি) সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে এবং পরদিন মঙ্গলবার জুমাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানায়, যদিও সেটা মানার কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা তার নেই।

গতকাল জুমা পদত্যাগের ব্যাপারটি স্পষ্ট করার পরিবর্তে এসএবিসি সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘ইস্যুটা তুলে আমার প্রতি ভীষণ অন্যায় করা হয়েছে।’ তাঁর দাবি, পদত্যাগের আহ্বান জানানো হলেও ‘এখন পর্যন্ত কেউ কোনো কারণ দেখায়নি। কেউ বলছে না, আমি কী করেছি।’ পৌনে এক ঘণ্টার সাক্ষাত্কারে তিনি পদত্যাগ করতে সরাসরি অস্বীকার করেননি, তবে তাঁকে পদচ্যুত করার সিদ্ধান্ত যেভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সে ব্যাপারে তাঁর দ্বিমত রয়েছে বলে জানান।

জুমা বলেন, ‘আমি জানতে চেয়েছি, সমস্যাটা কী? কেন আমাকে অবশ্যই তাদের কথা মানতে হবে? আমি কি ভুল কিছু করেছি? তারা কোনো জবাব দিতে পারেনি। কেউ কেউ বলেছে, জুমার পদত্যাগ করা ছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই। তা না হলে তারা আমাকে অভিশংসিত করবে; কিন্তু শীর্ষ ছয় নেতা বলতে পারেনি, কেন তারা আমাকে মানতে পারছে না।’

জুমার টেলিভিশন সাক্ষাত্কারের আগেই পার্লামেন্ট ককাসের বৈঠকে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। গতকাল ককাসের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এএনসি এ তথ্য নিশ্চিত করে। আজ পার্লামেন্টে জুমার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট হতে যাচ্ছে।

এসব ঘটনার আগে গতকাল সকালে জুমার ঘনিষ্ঠ গুপ্ত পরিবারের স্যাক্সনওল্ডের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই পরিবারের একজন সদস্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ‘ব্যক্তিস্বার্থে রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার’ ইস্যুতে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশে এ অভিযান চালানো হয়েছে।

গুপ্ত পরিবার ১৯৯৩ সালে ভারত থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় যায়। জ্বালানি, প্রযুক্তি, খনিজ পদার্থ উত্তোলন, কম্পিউটিং, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা ব্যবসা জমিয়ে নেয়। অতুল গুপ্ত, রাজেশ গুপ্ত ও অজয় গুপ্ত—এই তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা দক্ষিণ আফ্রিকার নির্বাচন ও প্রশাসনিক ব্যাপারে রীতিমতো হস্তক্ষেপ করে এবং প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাগিয়ে নেয়। গুপ্ত পরিবারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে জুমার এক স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে কাজ করেছে বলেও জানায় সংবাদমাধ্যমগুলো। জুমার পদত্যাগ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ওই পরিবারের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়।

জুমার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দুর্নীতিতে গুপ্ত পরিবারেরও সংযোগ আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর শাসনামলে অর্থনীতির গতি হ্রাস পাওয়া ও বেকারত্বের হার রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে জন্ম নিয়েছে প্রচণ্ড ক্ষোভ। এ অবস্থায় গত ডিসেম্বরে দলীয় নির্বাচনে তাঁর স্ত্রীকে অল্প ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে এএনসি প্রধান হন সিরিল রামাফোসা। তাঁকেই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। বিরোধী দলগুলো নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আগামী নির্বাচনের দাবি তুলেছে। সূত্র : বিবিসি।

 


মন্তব্য