kalerkantho


উত্তেজনা আরো তুঙ্গে

আত্মরক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্র বসিয়েছে জাপান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



উত্তেজনা আরো তুঙ্গে

আমেরিকার মাটিতে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি, সেটার জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরো ক্ষিপ্ত বাক্যবাণ, এদিকে আবার উল্টাপাল্টা মন্তব্য করে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে না নিতে চীনের আহ্বান—এসবের মধ্যে জাপান আত্মরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য কোনো পক্ষ থেকেই আলোচনার ন্যূনতম আভাস মিলছে না।

জাপানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গতকাল শনিবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শিমানে, হিরোশিমা ও কোচি এলাকায় ‘প্যাট্রিয়ট অ্যাডভান্সড ক্যাপাবিলিটি-৩’ (পিএসি-৩) মোতায়েন করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনের ব্যাপারে মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে গত সপ্তাহের শুরুতেই জাপান সরকারের প্রধান মুখপাত্র ইয়োশিহিদে সুগা বলে রেখেছেন, উত্তর কোরিয়ার কোনো রকম উসকানি টোকিও সহ্য করবে না। আত্মরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও সে সময় তিনি বলেছিলেন। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় গুয়াম দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। আর সে ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের পশ্চিমাঞ্চল হয়ে গুয়ামের দিকে যাওয়ার রুট ব্যবহার করতে পারে বলে পিয়ংইয়ং সতর্ক করে দিয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের এমন হুমকির পর জাপান সংশ্লিষ্ট এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে ক্ষুব্ধ মন্তব্য করে চলেছেন, তা থেকে বিরত থাকতে তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল শনিবার টেলিফোনে আলাপকালে ট্রাম্পকে ‘কথা ও কাজে’ সাবধানতা অবলম্বনের আহ্বান জানান, যাতে কোরিয়া সংকট আরো খারাপের দিকে না যায়।

অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, ‘উত্তর কোরিয়াকে উসকানিমূলক আচরণ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। ’ কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে উভয় নেতা একমত হন বলে জানায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউস।

এ ছাড়া গতকাল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গুয়ামের গভর্নর এডি কালভোর সঙ্গে কথা বলেন। মার্কিন সেনাবাহিনী গুয়ামের নিরাপত্তা রক্ষায় পুরোমাত্রায় প্রস্তুত জানিয়ে কালভোকে তিনি বলেন, ‘আমরা এক হাজার শতাংশ আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনারা নিরাপদ। ’

উত্তর কোরিয়া গত ২৮ জুলাই সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রান্তে হামলার সক্ষমতা তারা অর্জন করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের এ ঘোষণার আগ পর্যন্ত সমঝোতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার কথা বলেছে এবং একই সঙ্গে এটাও বলেছে, প্রয়োজন হলে তারা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণে পিছু হটবে না। কিন্তু মার্কিন ভূখণ্ডে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির পর আলোচনার টেবিলে বসার বিষয়টি একেবারে আড়ালে চলে গেছে। বর্তমানে উভয় দেশই পরস্পরের ভূখণ্ডে পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে এবং সেই সঙ্গে চলছে তীব্র বাকযুদ্ধ।

এর মধ্যে রাশিয়া এবং জার্মানি গত শুক্রবার বাকযুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেন, ‘সামরিক পদক্ষেপ বাদ দিয়ে অন্য সব ধরনের সমাধানের ব্যাপারে জার্মানি নিবিড়ভাবে অংশ নেবে। তবে কথার লড়াই চালিয়ে যাওয়াটা আমি ভুল বলে মনে করি। ’ রাশিয়া মনে করে, উদ্যোগটা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা উচিত। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ‘একটা যুদ্ধ বাধার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বিপদের দোরগোড়া থেকে সরে আসার জন্য প্রথম পদক্ষেপটা সেই পক্ষেরই নেওয়া উচিত যারা তুলনামূলক শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান। ’

এ ছাড়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ গতকাল শনিবার ‘উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু হুমকির’ ব্যাপারে উদ্বেগ জানান এবং পিয়ংইয়ংকে আলোচনায় বসাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ জরুরি বলে মন্তব্য করেন।

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য