kalerkantho


রোহিঙ্গারা ‘দক্ষিণ এশীয় ফিলিস্তিনি’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রোহিঙ্গারা ‘দক্ষিণ এশীয় ফিলিস্তিনি’

মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে দলে দলে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকছে। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বাস্তুভিটা থেকে বিতাড়িত করে একেবারে নির্মূল করে ফেলার উদ্দেশ্যে যে নিপীড়ন চলছে, তার সঙ্গে বিশ্লেষকরা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের অত্যাচারের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। তাই রোহিঙ্গাদের তাঁরা ‘দক্ষিণ এশীয় ফিলিস্তিনি’ অভিহিত করতে কুণ্ঠিত হচ্ছেন না।

ফিলিস্তিনি ও রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো বর্বরতায় অনেক দিক থেকে মিল দেখতে পাচ্ছেন ফিলিস্তিনি-বিষয়ক ইহুদি বিশেষজ্ঞ নাদা এলিয়া। রোহিঙ্গা নির্মূলে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যে ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করছে, সেই একই ধরনের অস্ত্র কাজে লাগানো হয়েছে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধেও। গাজায় অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের ওপর তো বটেই, পশ্চিম তীরেও ওই সব অস্ত্র ব্যবহার করেছে ইসরায়েল।

এর পরই নাদা এলিয়া বলেছেন ইসরায়েল ও মিয়ানমার সরকারের ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার কথা। তাঁর মতে, ইহুদি রাষ্ট্রটির প্রতিষ্ঠার ভিত্তিমূলে আছে ফিলিস্তিনি নিধন ও বিতাড়ন। আর রোহিঙ্গা নিধনের মাধ্যমে মিয়ানমার হাঁটছে একক বৌদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে। তাই এখন এ দুই রাষ্ট্রের মিত্রতায় বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন নাদা এলিয়া।

একটা গোষ্ঠীকে নির্মূল করে দেওয়ার জন্য উভয় দেশ যে অসিলা দিয়েছে, সেটার ধরনও প্রায় একই রকম। কোনো ফিলিস্তিনি কিশোর বা যুবক ইসরায়েলি সেনাদের ওপর স্রেফ ছুরি নিয়ে হামলা চালালে হামলাকারীর পুরো পরিবার এমনকি পুরো এলাকার ওপর অত্যাচার চালানোটা ওই সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘটনা।

মিয়ানমারও একই পথের অনুসারী। রোহিঙ্গা জঙ্গিদের পক্ষ থেকে হামলার ধুয়া তুলে গত ২৬ আগস্ট থেকে দেশটির সেনাবাহিনী যে অভিযান শুরু করেছে, তা এখনো চলছে।

উভয় দেশের ক্ষেত্রে আরেকটি সত্য হলো, তাদের ভাষায় ‘সন্ত্রাসী হামলার’ পেছনের সুদীর্ঘ নিপীড়নের কাহিনি তারা সব সময় চেপে যাচ্ছে। ফিলিস্তিনি ও রোহিঙ্গা উভয়ই তাদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত। নিজ দেশে তারা পরবাসী। ইসরায়েল সব সময় ফিলিস্তিনিদের ‘দক্ষিণ সিরীয়’ অথবা ‘জর্দানি’ অভিহিত করে এবং ‘ফিলিস্তিনি’ শব্দটির পরিবর্তে তাদের ‘আরব’ হিসেবে গণ্য করে। ইসরায়েলের দ্বিস্তরবিশিষ্ট নাগরিক আইনে ফিলিস্তিনিদের কোনো স্থান নেই। অন্যদিকে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার তো করেই না, তাদের অনুপ্রবেশকারী ‘বাঙালি’ অভিহিত করে। বহুস্তরবিশিষ্ট নাগরিক আইনে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অর্জনের কোনো সুযোগই রাখেনি। আন্তর্জাতিক নীতিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উভয় রাষ্ট্রই নিজ নিজ নাগরিকত্ব আইন বহাল রেখেছে। আরেকটি নির্মম সত্য হলো, দশকের পর দশক ধরে ফিলিস্তিনি ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায় যে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে জাতিসংঘের ভূমিকা কেবলই দর্শকের। সূত্র: দ্য নিউ অ্যারাব।


মন্তব্য