kalerkantho


নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব পাস জাতিসংঘে

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘চরম ভোগান্তির’ হুমকি উ. কোরিয়ার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



উত্তর কোরিয়ার অব্যাহত পরমাণু কর্মসূচির জবাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গত সোমবার সর্বসম্মতভাবে দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়ে এটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলার হুমকি দিয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদ গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যে নিষেধাজ্ঞায় সর্বসম্মত সমর্থন দিয়েছে, তাতে উত্তর কোরিয়ার মিত্র চীন ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে গত রবিবার পর্যন্ত ভেটোর আশঙ্কা থাকলেও অবশেষে তাদের সমর্থনও পাওয়া গেছে। ২০০৬ সালে উত্তর কোরিয়া প্রথম পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর এ পর্যন্ত আটবার দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। গত সপ্তাহে পিয়ংইয়ং তাদের ষষ্ঠ ও সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে নিরাপত্তা পরিষদের পূর্ণ সমর্থনের মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে, সেখানে জ্বালানি তেল রপ্তানিতে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার শ্রমিকদের বিদেশে কাজের অনুমতি প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে, দেশটির বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত করে তাদের সম্পদ জব্দ ও বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং দেশটির সঙ্গে যেকোনো যৌথ উদ্যোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদে পাস করা প্রস্তাবে উত্তর কোরিয়ার নিষিদ্ধ পণ্য বহন করছে এমন সন্দেহভাজন জাহাজে তল্লাশির বিষয়টিও রয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে পণ্যবাহী জাহাজটি যে দেশের পতাকা বহন করবে, সংশ্লিষ্ট দেশের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত নিকি হ্যালি মনে করেন, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়াকে বুঝিয়ে দেওয়া গেছে যে ‘উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়াটা বিশ্ব কখনো মেনে নেবে না। ’ পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনায় রাখলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহী জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। উত্তর কোরিয়ার সরকার এখনো সর্বশেষ সীমা অতিক্রম করেনি।

তারা যদি তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে রাজি হয়, তবে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ পুনর্নির্ধারণের সুযোগ পাবে। তারা যে শান্তিতে থাকতে চায়, সেটা যদি তারা প্রমাণ করে তবে বিশ্ব তাদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবেই থাকবে। আর উত্তর কোরিয়া যদি বিপজ্জনক পথে চলতেই থাকে, তবে আমরা আরো চাপ প্রয়োগ করব। সিদ্ধান্তটা তাদেরই নিতে হবে। ’

এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার দূত হান তায়ে সং বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত এ নিষেধাজ্ঞা (এ যাবৎকালের মধ্যে) সবচেয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ’ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ডিপিআরকে (উত্তর কোরিয়ার সাংবিধানিক নামের সংক্ষেপ) যে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক দুর্ভোগের মধ্যে পড়বে। ’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য