kalerkantho


রোহিঙ্গাদের জন্য দরজা বন্ধ

এক লাখ চাকমা-হাজংকে নাগরিকত্ব দিচ্ছে ভারত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবে না ভারত। কিন্তু ভারতে পালিয়ে আসা চাকমা এবং হাজংদের সরাসরি দেশটির নাগরিকত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

ভারতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেওয়ার নয়াদিল্লির সিদ্ধান্তের কড়া নিন্দা এসেছে জাতিসংঘ থেকে। পাল্টা জবাব দিয়ে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে ভারতই। কিন্তু এই কথা চালাচালির মধ্যেই চাকমাদের নিয়ে অন্য সুর কেন্দ্রের।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৫ সালেই চাকমা ও হাজংদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অরুণাচল প্রদেশের সরকার এই রায় পুনর্বিবেচনার আরজি জানায়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সে আবেদন খারিজ করে দেন। আদালতের সেই রায়ের প্রায় দুই বছর পরে নির্দেশ রূপায়ণে উদ্যোগী হলো কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বিষয়টি নিয়ে বুধবার বৈঠক ডেকেছিলেন।

সে বৈঠকে অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু জানান, চাকমা-হাজং জনগোষ্ঠীর প্রায় এক লাখ মানুষ অরুণাচলে রয়েছে। তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হলে অরুণাচলের জনবিন্যাস বদলে যাবে এবং অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়বে। রাজ্যের মানুষ এতে খুশি হবে না এবং অশান্তি হতে পারে বলেও মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কেন্দ্রকে মানতেই হবে। তাই আপাতত চাকমাদের নাগরিকত্ব দিলেও সম্পত্তির অধিকার দেওয়া হবে না বলে স্থির হয়েছে। চাকমারা ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ এবং হাজংরা হিন্দু।

ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু নিজে অরুণাচলেরই সাংসদ। তিনি বিষয়টি নিয়ে বেশ চাপে রয়েছেন। এরই মধ্যে রিজিজু স্পষ্ট জানিয়েছেন, রোহিঙ্গারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাদের ভারতে ঠাঁই দেওয়া যাবে না। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা সীমান্ত পেরিয়ে মণিপুর-মিজোরামে ঢুকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় সীমান্তে নজরদারি কড়া করা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই অরুণাচলে লাখখানেক চাকমা-হাজংকে নাগরিকত্ব দেওয়া হলে কংগ্রেসের হাত শক্ত হতে পারে এবং বিজেপির বিপদ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র : আনন্দবাজার।


মন্তব্য