kalerkantho


‘রোহিঙ্গা নির্যাতন স্রেব্রেনিচা হত্যাকাণ্ড মনে করিয়ে দেয়’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



যুদ্ধ ও গণহত্যার নৃশংস স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছে বসনিয়ার বহু মানুষ। স্রেব্রেনিচায় সার্বিয়ার সেনারা যে গণহত্যা চালায় ততে মাত্র ১০-১২ দিনের মধ্যেই হত্যা করা হয় অন্তত আট হাজার বসনীয় পুরুষ ও ছেলে শিশুকে।

আজ একই ধরনের নৃশংসতা চলছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর। প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। ২২ বছর আগে স্রেব্রেনিচা গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া মুহাম্মদ ওমরোভিচ বলছিলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্ভোগ তাঁকে বসনিয়া যুদ্ধের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে।

মুহাম্মদ ওমরোভিচ তুরস্কের আংকারাভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘পুরো বিশ্ব এখনো চুপ করে আছে; ঠিক যেমনটি স্রেব্রেনিচার ক্ষেত্রেও ছিল। ’

১৯৯২ সালে যখন বসনিয়া যুদ্ধ শুরু হয় তখন ওমরোভিচের বয়স ছিল ১৮। যুদ্ধ শুরুর দুই বছর পর জাতিসংঘ ঘোষিত ‘নিরাপদ এলাকায়’ সার্বিয়ার সেনারা গণহত্যা চালায়। অন্তত আট হাজার বসনীয় পুরুষ ও ছেলে শিশুকে হত্যা করে তারা। সে সময় ওই এলাকায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী হিসেবে কাজ করছিল ডাচ সেনারা।

ওমরোভিচ বলেন, “যে রাস্তা দিয়ে বসনীয়রা পালানোর চেষ্টা করছিল সেটাতেই হত্যার শিকার হয় তারা।

এখন ওই রাস্তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মৃত্যুপথ’। ” তিনি আরো বলেন, ওই যুদ্ধের সময়ের কষ্ট ও ব্যথা রোহিঙ্গাদের দেখেও তিনি হৃদয়ে অনুভব করছেন।

বসনিয়া যুদ্ধে বেঁচে যাওয়া আরেক ব্যক্তি ইদ্রিজ স্মাজিক বলেন, ‘২২ বছর আগে আমরা যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিকে গিয়েছি, ঠিক তারই সামনে আজ দাঁড়িয়ে আছে রোহিঙ্গা মুসলমানরা। ’ ১৯৯৫ সালের যুদ্ধে একটি পা হারান স্মাজিক। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের সুরক্ষা দেওয়া এলাকাগুলোতেই গণহত্যা চালানো হয়েছে। মানুষ বন্দি হয়েছে। ’ তিনি গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না কী করে নিরপরাধ শিশু হত্যার বিষয়ে বিশ্বনেতারা নিরুদ্বেগ থাকেন।

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট সেনা অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমারের দাবি, রোহিঙ্গাদের একটি সশস্ত্র অংশ ২৪ আগস্ট তাদের সেনা ঘাঁটি ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালানোর পর তারা অভিযান শুরু করে।


মন্তব্য