kalerkantho


কাতালোনিয়ার স্বায়ত্তশাসন বাতিলের হুমকি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



কাতালোনিয়ার স্বায়ত্তশাসন বাতিলের হুমকি

কাতালোনিয়াকে স্বাধীন ঘোষণা করার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুজদেমন্ত ও তাঁর সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাহয়। কারণ কাতালান সরকারের অবস্থানের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে, যদিও সম্ভাব্য সব রাস্তাই বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানায় রাহয় সরকারের এক সূত্র।

পুজদেমন্তের গত মঙ্গলবারের ভাষণের জন্য উৎকণ্ঠা ও আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেছে স্বাধীনতাপন্থী ও ঐক্যপন্থী কাতালানরা। স্পেনের অর্থনীতির এক-পঞ্চমাংশের অধিকারী কাতালোনিয়ার পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেটা দেখতে অপেক্ষা করছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনও। বহুল প্রতীক্ষিত ভাষণে কাতালান প্রেসিডেন্ট পুজদেমন্ত বলেন, ‘কাতালোনিয়াকে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করার যে ইচ্ছা জনগণ জানিয়েছে, সেটা আমি মেনে নিতে চাই। ’ এরপর তিনি এটাও বলেন, ‘আমার সরকার ও আমি নিজে স্বাধীনতা ঘোষণার কার্যকারিতা স্থগিতের প্রস্তাব করছি। ’ তিনি জানান, আলোচনা ছাড়া একটা একক সিদ্ধান্তে পৌঁছা সম্ভব নয় বলে সামনের দিনগুলোতে আলোচনা এগিয়ে নিতে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণার কার্যকারিতা স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

বলা দরকার, কাতালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট পুজদেমন্ত ও স্বাধীনতাপন্থী কাতালান আইন প্রণেতারা গত মঙ্গলবার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন এবং অবিলম্বে তা স্থগিতও করে দেন। কাতালান সরকারের মুখপাত্র হর্দি তুরুল বলেন, ‘এটি একটি প্রতীকী কাজ। স্বাধীনতা ঘোষণার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার রক্ষায় আমরা সবাই এতে স্বাক্ষর করেছি। ’ সেই সঙ্গে তিনি এটাও জানান, ‘দাপ্তরিক সিদ্ধান্তটা অবশ্যই কাতালান পার্লামেন্ট থেকে আসতে হবে।

কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে আঞ্চলিক সরকারের এ ধোঁয়াশাপূর্ণ অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী রাহয় এবং জানিয়েছেন, তাদের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। কাতালান সংকট নিয়ে গতকাল বুধবার মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘কাতালান সরকার স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে কি না, সেটা নিশ্চিত করতে তাদের প্রতি আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানোর ব্যাপারে আজ সকালে মন্ত্রিসভা একমত হয়েছে। কাতালান সরকারের জবাব ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নির্ধারণ করে দেবে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে। ’ রাহয় আরো বলেন, ‘সংবিধানের ১৫৫ ধারা অনুসারে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইলে এটা (কাতালান সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা) প্রয়োজন। ’ ১৫৫ ধারা অনুসারে কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে স্বায়ত্তশাসিত কাতালোনিয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারবে, যদিও এ ধারা স্পেনে আগে কখনোই ব্যবহৃত হয়নি। রাহয় জানান, ‘সরকার স্পেনীয় বিশেষত কাতালানদের নিশ্চয়তা দিতে চায়, তারা কাতালান সরকারের সৃষ্টি করা বিশৃঙ্খলা এড়াতে চায়। ’ খুব সতর্কতা ও দায়িত্বজ্ঞানের সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে চান উল্লেখ করে রাহয় বলেন, কাতালান সরকার ‘প্রাতিষ্ঠানিক স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনলে অস্থিতিশীলতা আর উত্তেজনার সমাপ্তি ঘটবে। ’

কেন্দ্রীয় সরকার ও আন্তর্জাতিক জোটের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে গত ১ অক্টোবর গণভোট করে কাতালান সরকার। তাতে ৪৩ শতাংশ ভোটার ভোট দেয় এবং স্বাধীনতার পক্ষে ৯০ শতাংশ ভোট পড়ে বলে দাবি করে কাতালান সরকার। এ ফলাফলের ভিত্তিতে স্বাধীনতা ঘোষণা দিতে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হয় তারা। প্রেসিডেন্ট পুজদেমন্ত গতকালের পার্লামেন্ট অধিবেশনে তেমন ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন, এমনটা ধরে নিয়ে অপেক্ষা করছিল গোটা স্পেনের জনতা। কিন্তু পুজদেমন্ত সরাসরি সেই ঘোষণা না দিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন।

কাতালোনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনার গ্রাসিয়া এলাকার বাসিন্দা মারিয়া রোসা বার্ত্রান বলেন, ‘আমার তো ভাবতেই খারাপ লাগছে, আরো লম্বা সময় ধরে নিদারুণ যন্ত্রণা, সিদ্ধান্তহীনতা আর অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। নিকৃষ্টতম ঘটনাটাই আমাদের সঙ্গে ঘটতে যাচ্ছে। ’

পুজদেমন্ত সরকারের আঞ্চলিক মিত্র কট্টর বামপন্থী দল সিইউপির পার্লামেন্ট সদস্য আনা গাব্রিয়েল বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, আজকের (মঙ্গলবার) দিনটিই ছিল সেই দিন, যেদিন কাতালান প্রজাতন্ত্র আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া যেত। আর সেই সুযোগটা সম্ভবত আমরা হারিয়ে ফেললাম। ’

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য