kalerkantho


আবে ভোটে জিতেছেন ভোটারদের মন নয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



আবে ভোটে জিতেছেন ভোটারদের মন নয়

‘নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা’ নিয়ে জাপানের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। তবে তাঁর এই বড় জয়ের অর্থ এই নয় যে ভোটারদের মনেও স্থান করে নিতে পেরেছেন তিনি।

বরং তাঁর অতি জাতীয়তাবাদী মনোভাব এবং শান্তিবাদী সংবিধান পরিবর্তনের অভিলাষের বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আরো প্রকট হয়েছে।

বড় অনুমোদন নিয়ে জয় পেয়েছেন আবে। যদিও তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা প্রায় তলানিতে বলা চলে। প্রশ্ন আসে—তাহলে আবে এত ভোটে জিতলেন কী করে? এর এক নম্বর জবাবটি হলো—বিশৃঙ্খল বিরোধী দল। আবের জোটকে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখেই পড়তে হয়নি। ওয়াশিংটনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টেনেও ইন্টেলিজেন্সের জাপানি রাজনীতিবিষয়ক বিশ্লেষক টোবিয়াস হ্যারিস বলেন, আবের সঙ্গে ‘জাপানি জনগণের সম্পর্ক বড়ই জটিল’। নির্বাচন থেকে সেই তথ্যই উঠে এসেছে। কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর তৎপরতার সুস্পষ্ট প্রশস্তি এটি। তবে তাঁর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ নয়।

’ কিয়োডো বার্তা সংস্থার করা এক বুথফেরত জরিপে দেখা যায়, অর্ধেকেরও (৫১ শতাংশ) বেশি ভোটার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থাশীল নয়। স্বতন্ত্র দৈনিক আশাহিতে প্রকাশিত আরেক জরিপে দেখা যায়, ৪৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী প্রধানমন্ত্রীর আসনে আবেকে দেখতে চায় না। এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৩.৭ শতাংশ। জাপানি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ডায়েটের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে আবের জোট পেয়েছে ৩১৩টি আসন।

বেশ কয়েক মাস থেকেই আবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাঁচানোর জন্য লড়ছিলেন। কেলেঙ্কারি আকীর্ণ আবের দলের টোকিওর পৌরসভার নির্বাচনেও ভরাডুবি ঘটে। এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে আকস্মিকভাবেই গত মাসে আগাম নির্বাচনের ডাক দেন আবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিরোধী দলের বেহাল অবস্থার সুযোগ নিতেই নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন আবে। পাশাপাশি ওই সময়ই পর পর দুইবার জাপানের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে উত্তর কোরিয়া। আবেও পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেন। এটি তাঁর বিষয়ে ইতিবাচক আবহ তৈরি করে। এ দুইয়ের সম্মিলিত ফলই গত রবিবারের নির্বাচন।

যদিও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আবে কী ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়। পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে টোকিওর সরাসরি কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্ক নেই। আবে যা করতে পারেন তা হলো জাপানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরো জোরদার করা। জয়ের পর গতকাল একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন আবে। সেখানেও তিনি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়া ও চীনের নেতাদের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন বলে জানান।

আবের আকস্মিক নির্বাচন ঘোষণার পর মাত্র ১২ দিন প্রচারের সুযোগ পায় দলগুলো। এর মধ্যে দুটি দল আত্মপ্রকাশ করে; যার মধ্যে টোকিওর মেয়র এবং মিডিয়াবান্ধব ক্যারিশম্যাটিক ইউরিকো কোইকে রয়েছেন। তবে তাঁর দল নির্বাচনে তেমন কিছু করতে পারেনি। বিশ্লেষকদের ধারণা, জাপানে কার্যকর বিরোধী দল গড়ে উঠতে আরো ১০ বছর সময় লাগবে। কাজেই ফাঁকা মাঠে আরো বহুদিন গোল করার সুযোগ পাবেন আবে।

সূত্র : বিবিসি, এএফপি।


মন্তব্য