kalerkantho


ইরান-ইরাকে ভূমিকম্প

দুর্গতরা ঠাণ্ডার সঙ্গে লড়ছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দুর্গতরা ঠাণ্ডার সঙ্গে লড়ছে

ইরানে ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি হারা লোকজনকে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় খোলা আকাশের নিচে লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে। আছে খাবার ও পানির সংকটও।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কেরমানশাহ প্রদেশে রাতে তাপমাত্রা প্রায় মাইনাসের কাছকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। দুর্গতদের অনেককে  টানা দ্বিতীয় রাত খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হচ্ছে। তবে সরকার অনেকেই তাঁবুতে আশ্রয় পেয়েছেন।

রোজান মেশকাত নামের একজন টেলিফোনে বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, ‘ঠাণ্ডার কারণেও অনেক মারা যাবে। আমার পরিবার সারপোল-ই জাহাবের কাছে একটি গ্রামে বাস করে। আমি সেখানে যেতে পারছি না। জানি না তারা বেঁচে আছে কিনা।

ইরানের ভূমিকম্পবিধ্বস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ শেষ করার ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫০ পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে দেশটির সরকার নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন।

আহতের সংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি। ইরাকে ৯ জন নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ইরানে জরুরি স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক প্রধান পীর হোসেইন কুলিভান্দ জানান, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কেরমানশাহে উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে। ইরানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তবর্তী এলাকায় এবং পাশের ইরাকের সীমান্ত এলাকায় রবিবারে ঘটা ৭ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপকসংখ্যক মানুষের মৃতের বাড়িঘর ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর গত দুই দিনে সেখানে ১৯৩ বার কম্পন অনুভূত হয়েছে।

দুর্গত মানুষদের সহায়তা দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ইরান নিজস্ব শক্তি ও সামর্থ্য দিয়েই আপাতত সংকট মোকাবেলা করতে পারবে। গতকাল মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় জাওয়াদ জারিফ বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের নিজেদের যে সামর্থ্য রয়েছে তা দিয়েই সংকট নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। ’

ইরানের সংবাদমাধ্যম জানায়, দেশের সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্গত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে। অনেক আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ এখনো ঘরের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের জন্য তাঁবুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল করার চেষ্টা চলছে। এ বছর পৃথিবীতে যত ভূমিকম্প হয়েছে তার মধ্যে ভয়াবহতম বলে বিবেচনা করা হচ্ছে ইরান-ইরাক সীমান্তের এই ভূমিকম্প। এতে নিহতের বেশির ভাগ ইরানের সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ মাইল দূরে অবস্থিত পশ্চিমাঞ্চলের শহর সারপোল-এ-জাহাব এবং কেরমানশাহ প্রদেশের বাসিন্দা।

সারপোল-এ-জাহাব শহরের প্রধান হাসপাতালটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। নানা জায়গায় বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নিহতের মধ্যে বেশ কিছু ইরানি সেনা ও সীমান্তরক্ষীও রয়েছে। এই ভূমিকম্পে ইরাকে ৯ জন নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য