kalerkantho


আরো কয়েক সপ্তাহ ক্ষমতায় থাকতে চাই

পদত্যাগ না করে মুগাবের ঘোষণা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আরো কয়েক সপ্তাহ ক্ষমতায় থাকতে চাই

জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের ওপর পদত্যাগের জন্য তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সময় গতকাল রবিবার রাত দেড়টার দিকে জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি পদত্যাগের কোনো ঘোষণা দেননি।

তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহ তিনি প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে চান।   

সেনাবাহিনীর চাপ তাঁর ওপর আগে থেকেই ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাঁর নিজ দল জানু-পিএফ পার্টি। মুগাবের (৯১) আজীবন বিশ্বস্ত এই দল আর চাইছে না যে তিনি ক্ষমতায় বহাল থাকুন। পদত্যাগের জন্য তাঁকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়। গতকাল রাজধানী হারারেতে অনুষ্ঠিত দলের এক বৈঠকে মুগাবেকে দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর স্থলে দলের সভাপতি হিসেবে সম্প্রতি বরখাস্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ইমারসন নানগাগুয়ার (৭১) নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানু-পিএফ পার্টির এক মুখপাত্র গতকাল বার্তা সংস্থা এএফপি বলেন, ‘দলের বর্তমান সভাপতিকে প্রত্যাহার করে তাঁর স্থলে নানগাগুয়াকে উন্নীত করা হয়েছে। ’

এদিকে সর্বস্তরের মানুষ মুগাবের প্রতি অনাস্থার প্রকাশ ঘটায় গত শনিবার।

হাজারো উত্ফুল্ল মানুষ জিম্বাবুয়ের সড়কগুলো ধরে যেন মুগাবের দীর্ঘ ও কর্তৃত্বপরায়ণ শাসনের পতন উদ্‌যাপন করে ফেলল ঘটনা ঘটার অনির্দিষ্ট সময় আগে।

হারারেতে গতকাল জানু-পিএফ পার্টির মোট ১০টি অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ৯টি মুগাবের প্রতি পদত্যাগের আহ্বান জানায়। সেনাবাহিনী, জিম্বাবুয়ের বেশির ভাগ মানুষ এবং নিজ দলের আইন প্রণেতাদের বিরোধিতার মুখেও বর্তমানে ক্ষমতা আঁকড়ে আছেন মুগাবে। তাঁর দলের শক্তিশালী যুব লীগ গতকাল আবারও মুগাবের প্রতি পদত্যাগের অনুরোধ জানায়। একই সঙ্গে তারা ফার্স্ট লেডি গ্রেস মুগাবেকেও দলীয় পদ ছেড়ে দিতে বলে। গতকাল দিন শেষে সামরিক জেনারেলদের আবারও মুগাবের সঙ্গে পদত্যাগ প্রশ্নে আলোচনায় বসার কথা ছিল। বিয়ষটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম বৈঠক হয় গত বৃহস্পতিবার। ওই সাক্ষাতের হাস্যোজ্জ্বল ছবিও প্রকাশ করা হয়।

এদিকে মুগাবের একসময়ের সহযোগী স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরাও তাঁর প্রতি পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, ‘মুগাবের উচিত আজকের (রবিবার) মধ্যেই সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে পদত্যাগ করা। ’

জিম্বাবুয়েতে এ ধরনের পরিস্থিতি এক সপ্তাহ আগেও কল্পনাতীত ছিল। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে জিম্বাবুয়ের জাতীয় সম্প্রচার কেন্দ্রের (জেবিসি) নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে প্রতিরক্ষা বাহিনী (জেডিএফ)। কার্যত অভ্যুত্থানই ঘটায় তারা। গৃহবন্দি করা হয় প্রেসিডেন্ট মুগাবে ও তাঁর পরিবারকে। এর পর থেকেই মুগাবের ওপর পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দেওয়ার জন্য বের হলে দেখা মেলে মুগাবের। এ মাসের গোড়ার দিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট ইমারসন নানগাগুয়াকে বরখাস্ত করলে সংকটের সূচনা হয়। এর মধ্য দিয়ে মুগাবের ৪১ বছরের ছোট স্ত্রী গ্রেস মুগাবের তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পথ পরিষ্কার হয়, যা দেশটির সেনাবাহিনী খুব একটা ভালোভাবে নেয়নি। এরই প্রতিক্রিয়ায় মুগাবেকে গৃহবন্দি করে তারা।

জানা গেছে, পদত্যাগের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে চাইছেন না মুগাবে। কারণ এর অর্থই হবে একটি অবৈধ অভ্যুত্থানকে বৈধতা দেওয়া। তবে এমন খবরও চাউর হয়েছে যে নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দর-কষাকষির কারণেই পদত্যাগসংক্রান্ত আলোচনা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।


মন্তব্য