kalerkantho


আবারও যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানকে সাহায্য ‘অর্জন’ করতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পাকিস্তানকে সাহায্য ‘অর্জন’ করতে হবে

সামরিক সহায়তার অর্থ নিয়ে পাকিস্তান ও যুক্তাষ্ট্রের সম্পর্কে চাপান-উতোর চলছেই। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে যে অর্থ ইসলামাবাদ পায় তা তাদের অর্জন করতে হবে। একই ধরনের হুঁশিয়ারি আবারও উচ্চারণ করেছে হোয়াইট হাউসও। তারা বলছে, পাকিস্তান তাদের আফগানিস্তান নীতিতে পরিবর্তন না আনলে সহায়তা বন্ধের যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন তা বাস্তবে করে দেখাবেন।

এদিকে শুধু আবেগ নয়, সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে ট্রাম্পের অসম্মানজনক টুইটের কড়া জবাব দিতে চায় পাকিস্তান। জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে পার্লামেন্টারি কমিটির এক বৈঠকে এসংক্রান্ত আলোচনায় সামরিক নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ওঠে। যদিও পাকিস্তানের বিরোধী নেতা ইমরান খান সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের যে রসদ সরবরাহ লাইন রয়েছে তা বন্ধ করে দেওয়া হোক। ইমরান খানের মতো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ অবশ্য পাকিস্তানজুড়েই হচ্ছে।

গত আগস্টে আফগানিস্তানসংক্রান্ত নীতি ঘোষণার সময় ট্রাম্প পাকিস্তানকে সতর্ক করেন। ‘আরো কিছু’ না করলে সহায়তা বন্ধেরও হুমকি দেন। এরপর হঠাৎই গত সোমবার বছর শুরুর দিন স্থানীয় সময় ভোর ৪টায় টুইট করে তীব্র ভাষায় পাকিস্তানকে আক্রমণ করেন ট্রাম্প, যার মূল বক্তব্যে নতুন কিছু ছিল না। তবে এই টুইট দুই দেশের তলানিতে ঠেকা সম্পর্কে নতুন করে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি করে।

বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার সাংবাদিকরা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানতে চাইলে মুখপাত্র হিদার নাওয়ার্ট বলেন, ‘আমি বলতে চাই না যে পাকিস্তান আরো কিছু করতে পারে। পাকিস্তান জানে তাদের কী করতে হবে। বৈদেশিক সামরিক সহায়তা হিসেবে আমরা অতীতে যা দিয়েছি তা অব্যাহত রাখতে হলে তাদের অবশ্যই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোয় আরো মনোযোগী হতে হবে।’ এদিকে হোয়াইট হাউসে প্রেস সেক্রেটারি সারাহ স্যান্ডার্স পাকিস্তানকে আবারও সতর্ক করে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা বলেন তা করেন।’

স্বাভাবিক কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি প্রতিক্রিয়া হয়েছে পাকিস্তানে। গতকাল জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে বসে পার্লামেন্টারি কমিটি। বৈঠক প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা সৈয়দ খুরশিদ শাহ বলেন, ‘সামনের সপ্তাহে দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে আবার বসব আমরা। শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।’

তবে ক্রিকেটের মাঠ থেকে রাজনীতির ময়দানে আসা ইমরান খান বলেছেন, পাকিস্তানকে দীর্ঘদিন যাবৎ যুক্তরাষ্ট্র ‘ভাড়াটে বন্দুকধারী’ হিসেবে ব্যবহার করছে। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে আফগানিস্তানে পাকিস্তান ছায়াযুদ্ধ চালাচ্ছে সেই সোভিয়েত আগ্রাসনের সময় থেকেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পাশাপাশি আফগানিস্তানে রসদ সরবরাহ বন্ধের পরামর্শ দেন সরকারকে। সূত্র : দ্য ডন, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

   

 


মন্তব্য