kalerkantho


নতুন বইয়ে ‘অজানা’ ট্রাম্প

‘ব্যাননের মাথা খারাপ হয়ে গেছে’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নতুন বইয়ে ‘অজানা’ ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর বেশ দ্বিধায় বা সংশয়ে পড়ে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অভিষেকের দিনটিও তাঁর ভালো লাগেনি। আর হোয়াইট হাউস নিয়ে তাঁর ভীতি ছিল। সাংবাদিক মাইকেল উলফের লেখা সদ্য প্রকাশিত ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি : ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউস’ নামের বইয়ে এসব দাবি করা হয়েছে। ২০০-এর বেশি সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে লেখা বইটিতে ট্রাম্পের মেয়ে ইভাংকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

মাইকেল উলফ দাবি করেছেন, অভিষেকের দিন থেকে শুরু করে ট্রাম্পের প্রশাসন গভীরভাবে দেখার সুযোগ তিনি পেয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতাই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস বলেছে, বইটি অসত্য আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্যে ভরা।

এখানে বইয়ে বর্ণিত ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি তথ্য দেয়া হলো :

ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে রাশিয়ানদের বৈঠক : বইটির তথ্য অনুসারে, হোয়াইট হাউসের সাবেক কর্মকর্তা স্টিভ ব্যানন বলেছেন, ২০১৬ সালের জুনে রাশিয়ার কয়েকন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে ট্রাম্প টাওয়ারে একটি বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। বৈঠকে রাশিয়ানরা ট্রাম্প জুনিয়রকে হিলারি ক্লিনটনের বিষয়ে কিছু নেতিবাচক তথ্য তুলে দেয়। পুরো ঘটনাটি রাষ্ট্রদ্রোহের মতো বলে মনে করেন ব্যানন। ‘আমাদের সে সময়েই এফবিআইকে ডাকা উচিত ছিল’, তিনি বলছেন।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমার বা আমার প্রেসিডেন্সির সঙ্গে ব্যাননের কোনো সম্পর্ক নেই। যখন তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তখন তাঁর মাথাটাও খারাপ হয়ে গেছে।’ আর চার্লস হার্ডার নামে ট্রাম্পের এক আইনজীবী ব্যাননকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন এই মর্মে যে তিনি বইটির লেখকের সঙ্গে কথা বলে ‘কোনো কিছু প্রকাশ না করার’ শর্ত ভঙ্গ করেছেন। চিঠিতে তাঁকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হয়েছে।

নির্বাচনে জিতে সংশয়ে : প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের কিছু পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র তাঁর একজন বন্ধুকে বলেছেন, তাঁর বাবাকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন তিনি ভূত দেখেছেন। আর মেলানিয়ার চোখে ছিল জল, কিন্তু তা আনন্দের নয়।

অভিষেকে নিরানন্দ : অভিষেকের দিনটি উপভোগ করেননি ট্রাম্প। প্রথম সারির বেশির ভাগ তারকা ওই অনুষ্ঠান বর্জন করায় তিনি ছিলেন রাগান্বিত, সব কিছু নিয়েই ছিল তাঁর অসন্তোষ। এমনকি প্রকাশ্যে স্ত্রীর সঙ্গে তিনি ঝগড়াও করেন।

হোয়াইট হাউস নিয়ে ভীত আর উদ্বিগ্ন : হোয়াইট হাউস নিয়ে উদ্বিগ্ন আর খানিকটা ভীত হয়ে পড়েন ট্রাম্প। তিনি নিজের জন্য আলাদা শয়নকক্ষ বেছে নেন। প্রথম দিনেই তিনি রুমে আরো দুটি টিভি আর দরজায় তালা লাগানোর নির্দেশ দেন। যদিও তাতে আপত্তি করে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা।

ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট ইভাংকা? : ট্রাম্পের মেয়ে ইভাংকা ট্রাম্প তাঁর স্বামী জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে সুযোগ এলে ইভাংকা প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনে দাঁড়াবেন। তাহলে হিলারি ক্লিনটন নয়, তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।

এছাড়াও ট্রাম্পের চুল নিয়ে ইভাংকার মসকরা, হোয়াইট হাউসের বিষয়ে ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের  সিদ্ধান্তহীনতা, রুপার্ট মারডকের জন্য অপেক্ষা, ট্রাম্পকে মারডকের ‘গাধা’ বলার মত বিষয় বইটিতে উঠে এসেছে। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য