kalerkantho


সরকারপন্থীদের আবারও বিশাল শোডাউন

ইরানের বিক্ষোভ ইস্যু নিরাপত্তা পরিষদে তুলল যুক্তরাষ্ট্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ইরানের বিক্ষোভ ইস্যু নিরাপত্তা পরিষদে তুলল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের রাজপথ এখন সরকারপন্থীদের দখলে। গতকাল রাজধানী তেহরানে তৃতীয় দিনের মতো বিশাল শোভাযাত্রা করে তারা। জুমার নামাজের পর তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে মাটিচাপা দিতে গতকাল শুক্রবার তৃতীয় দিনের মতো আরো বৃহত্তর পরিসরে সমাবেশ করেছে সরকারপন্থীরা। বাদ জুমা শুধু তেহরান প্রদেশজুড়ে ৪০টি সমাবেশের ডাক দেন ইরানি নেতারা। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার মধ্যেই সরকারপন্থীরা এই সমাবেশ করে।

ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, ইসরায়েল ও সৌদি আরবকে দায়ী করেছেন।

ইরানে সরকারপন্থীদের বিক্ষোভকে সামনে রেখে তেহরানের রাস্তাগুলোতে সকালে ব্যাপক হারে পুলিশ মোতায়েন করতে দেখা যায়। গত দুই দিনে নতুন করে কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকটি প্রাদেশিক শহরে ছোট ছোট বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেলেও নিরপেক্ষ সূত্রে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া পাঁচ দিনের বিক্ষোভে ২১ জন নিহত হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয় কয়েক শ বিক্ষোভকারীকে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ একপর্যায়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়।

এ অবস্থায় বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সভার অনুরোধ করেছে। তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ গতকাল শুক্রবার দিন শেষে এই বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই বৈঠক আহ্বানের সমালোচনা করেছে। এমনকি বৈঠকের শুরুতেই ‘প্রসিডিউরাল ভোটের’ আয়োজন করে রাশিয়া আলোচনাই ভণ্ডুল করে দিতে পারে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ দমন ঘোষণা এবং সরকারপন্থীদের ব্যাপক সমাবেশকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ‘অবৈধ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়।

ইরানের কর্তৃপক্ষ কঠোর পন্থায় বিক্ষোভ দমন করেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের সহিংসতা সমর্থন করেনি দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এমনকি সংস্কারপন্থীরাও সহিংতার নিন্দা জানিয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেই বিক্ষোভের জন্য দায়ী ইরানের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ভাষণ দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে আহ্বান জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে ইরানের পার্লামেন্টও গত মাসে ঘোষিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ বাজেটে অজনপ্রিয় পদক্ষেপগুলো বাদ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা আলী আকবর ভেলায়েতি সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএকে বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে জনগণের প্রধান দাবি হচ্ছে সরকার ও কর্মকর্তারা অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করবে।’

বিক্ষোভ দমনে সফল হওয়ায় সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে ধন্যবাদ দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান জেনারেল আব্দোলরহিম মৌসাভি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দোলরেজা রাহমানি ফাজিল বলেছেন, এবার দেশজুড়ে বিক্ষোভে ৪২ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে। এর আগে রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছিল, এই সংখ্যা ১৫ হাজার। তবে ২০০৯ সালে সংঘটিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল আরো অনেক মানুষ, যা কঠোর হাতে দমন করেছিল রিভল্যুশনারি গার্ডস।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বিক্ষোভে নিহত ও আটক ব্যক্তিদের ‘মনে রাখা হবে’ বলে তারা মন্তব্য করেছে। এমনকি হোয়াইট হাউস বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারেও সতর্ক করে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বারবার বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে টুইটারে বার্তা পোস্ট করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘বাজে উপায়’ বলে মন্তব্য করেছেন।

রাশিয়া ইরানের পক্ষে ঢাল ধরেছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাসকে বলেছেন, ‘ইরানের ঘটনায় অনেক বিকৃতির চেষ্টা সত্ত্বেও আমি নিশ্চিত আমাদের প্রতিবেশী, আমাদের বন্ধু (ইরান) এই চলমান জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারবে।’


মন্তব্য