kalerkantho


ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি

ট্রাম্পের আরো অজানা দিক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ট্রাম্পের আরো অজানা দিক

‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি : ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউস’ বইটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বিড়ম্বনা’ শুধুই বাড়ছে। বইটি প্রকাশের পর আরো কিছু নতুন বিষয় সামনে এসেছে, যেগুলো প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের সক্ষমতাকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যেমন ট্রাম্প পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি বিশ্বাস করেন; কিংবা গোঁফের কারণে তিনি জন বল্টনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেননি। আবার বইটিতে এ কথাও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যাপারে তাঁর কোনো ধারণাই ছিল না।

এদিকে বইটি প্রকাশের পর এর লেখক সাংবাদিক মাইকেল উলফ মুখ খুলেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, হোয়াইট হাউসের কর্মীদের চোখে ট্রাম্পের আচরণ ‘শিশুর মতো’। যেকোনো বিষয়ে তাত্ক্ষণিক সন্তুষ্টি চান তিনি।

দুই শতাধিক সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে বইটি লিখেছেন মাইকেল উলফ। সাক্ষাৎকারদাতাদের অনেকেই একসময় ট্রাম্পের কাছের মানুষ ছিলেন। প্রথমে বইটির সারসংক্ষেপ গণমাধ্যমে আসে। তাতে দেখা যায়, নিজের জয়ের ব্যাপারে খোদ ট্রাম্প ও তাঁর পরিবার সন্দিহান ছিল। হোয়াইট হাউস নিয়েও ভীতি কাজ করে ট্রাম্পের মধ্যে। সারসংক্ষেপ থেকে এ কথাও জানা যায়, নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের ছেলে কয়েকজন রুশ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। আবার ট্রাম্পের জয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তাঁর মেয়ে ইভাংকা। বইটি প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল আগামী মঙ্গলবার। কিন্তু সম্ভাব্য আইনি প্রতিবন্ধকতা এড়াতে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই সেটি বাজারে ছাড়া হয়। আর বইটি ছাড়ার পর সামনে আসে ট্রাম্পের আরো অজানা তথ্য।

বইটিতে বলা হয়েছে, ‘কেকেকে’ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বর্ণবাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিত হলেও তাদের সম্পর্কে ট্রাম্প একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অন্ধকারে ছিলেন। আবার সৌদি আরব সফরে গিয়ে অস্ত্রচুক্তির পাশাপাশি দেশটিতে ঘটে যাওয়া একটি ‘অভ্যুত্থানের কৃতিত্বও’ দাবি করেন ট্রাম্প। আবার বইটিতে (পৃষ্ঠা ২০০) বলা হয়েছে, ট্রাম্প পুরুষদের চেয়ে নারীদের বেশি বিশ্বাস করেন। তাঁর মতে, কাজের ক্ষেত্রে পুরুষদের নিজস্ব এজেন্ডা থাকে। কিন্তু নারীদের তা থাকে না। বরং তারা পুরুষের এজেন্ডাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।

বইয়ে আরো বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের কর্মীদের প্রতি ট্রাম্পের কঠোর নির্দেশনা ছিল যে তাঁর ব্যবহৃত কোনো জিনিস কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। বিশেষ করে টুথব্রাশ। ট্রাম্প নিজের জিনিসপত্র যেখানে রেখে যেতেন, ঠিক সেখানেই দেখতে চাইতেন। এমনকি ময়লা হয়ে যাওয়া জামাকাপড়ও। কারণ তাঁর ভয় ছিল, ষড়যন্ত্র করে কেউ তাঁকে বিষ প্রয়োগ করতে পারে। আর এ কারণে তিনি ম্যাকডোনাল্ডসে খেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। 

বইটিতে লেখা হয়েছে, সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার ব্যাপারেও ট্রাম্পের কোনো জানাশোনা ছিল না। এ জন্য ‘পাওয়ারপয়েন্টে’ তাঁর জন্য একটা প্রেজেন্টেশন তৈরি করেন মেয়ে ইভাংকা। সেটি দেখেই এ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করেন ট্রাম্প।

বইটি থেকে জানা যায়, সৌদি আরবে মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজ হওয়ার পর ট্রাম্প বড়াই করে তাঁর বন্ধুদের বলেন, তিনি আর তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার সৌদিতে একটি অভ্যুত্থানের কলকাঠি নেড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের একজন লোককে শীর্ষ পদে বসিয়েছি।’

বইটি প্রকাশের পর প্রথমবারের মতো দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেখক মাইকেল উলফ মার্কিন টেলিভিশন এনবিসিকে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ্য কি না, তা নিয়ে হোয়াইট হাউসের কর্মীরাই প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের চোখে ট্রাম্পের আচরণ শিশুর মতো, যাঁকে তাত্ক্ষণিকভাবে সন্তুষ্ট করতে হয়। তিনি কিছু পড়েন না, কিছু শোনেন না। তিনি একটা পিনবলের মতো; সবদিকে উল্টাপাল্টা ছুটতে থাকেন।’

বইটির তথ্যকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ দাবি করেছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে উলফ বলেন, ‘বইয়ের প্রতিটি কথা সত্য। যাদের সঙ্গে কথা বলে বইটি লেখা হয়েছে, তাদের সাক্ষাৎকারের রেকর্ড বা নোট আমার কাছে আছে।’ ট্রাম্প এর আগে দাবি করেন, উলফের সঙ্গে তাঁর কখনো কথা হয়নি। কিন্তু উলফের দাবি, ‘সেটাই যদি হবে, তাহলে আমি হোয়াইট হাউসে কী করছিলাম? আমি অবশ্যই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি।’ উলফের দাবি, নির্বাচনের আগে ও পরে ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি মোট তিন ঘণ্টা সময় কাটিয়েছেন।

ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়ে কখনোই প্রশ্ন জাগেনি : টিলারসন

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর মনে কখনোই প্রশ্ন জাগেনি। তিনি কখনোই প্রেসিডেন্টের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সন্দিহান ছিলেন না। ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি : ইনসাইড দ্য ট্রাম্প হোয়াইট হাউস’ গ্রন্থে ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই সন্দেহ আছে দাবি করার পর টিলারসন ট্রাম্পের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিলেন।

উত্তর কোরিয়া ও ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টিলারসনের দূরত্ব এবং তাঁর পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে গত বছর মার্কিন গণমাধ্যমে ছিল নানা আলোচনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একবার ট্রাম্পকে ‘নির্বোধ’ ডেকেছিলেন বলেও বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন বইটি প্রকাশ হওয়ার পর শুক্রবার সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে টিলারসন বলেন, প্রেসিডেন্টের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর কখনোই সন্দেহ ছিল না। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে কাজ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের পুরো সময় দায়িত্বে থাকার ব্যাপারেও তিনি আত্মবিশ্বাসী। তিনি আরো বলেন, ‘তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো কারণ নেই। ট্রাম্প যে অতীতের তথাকথিত প্রেসিডেন্টদের মতো নন, এটা স্বীকৃত বলেই ধারণা করছি। একই কারণে মার্কিন জনগণ তাঁকে পছন্দ করেছে।’ সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য