kalerkantho

ট্রাম্পের মানসিক স্বাস্থ্য

কেন এত আলোচনা?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কেন এত আলোচনা?

এ আলোচনা নতুন নয়, আগেও হয়েছে—‘ডোনাল্ড ট্রাম্প কি মানসিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করার উপযুক্ত?’ তবে নিউ ইয়র্কের সাংবাদিক মাইকেল উলফের বই ‘ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি’ প্রকাশের পর এ বিতর্ক আবার নতুন করে চাগিয়ে উঠেছে—অগ্নিতে ঘৃতাহুতির মতোই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিচিত্র কাণ্ডকারখানা, একগুঁয়ে ব্যক্তিত্ব এবং কথা বলার এমন এক ভঙ্গি, যা আগে ওয়াশিংটনে প্রশাসকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। এসব গত এক বছরে মার্কিন রাজনীতিকেই বদলে দিয়েছে।

আবার এই একই বৈশিষ্ট্য নিয়ে সমালোচকরা ক্রমেই আরো বেশি বেশি করে প্রশ্ন তুলে চলেছেন ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার উপযুক্ত কি না এবং তাঁরা এমনকি এর প্রমাণ হিসেবে তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের কথাও তুলে ধরছেন। উলফ তাঁর বইতে লিখছেন, ৭১ বছর বয়স্ক ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছের লোকেজনই ক্রমে সচেতন হচ্ছেন যে তাঁর ‘মানসিক ক্ষমতা’ কমে যাচ্ছে। উলফ লিখছেন, সবাই খেয়াল করেছেন যে আগে ট্রাম্প মাত্র ৩০ মিনিট সময়ের মধ্যে একই গল্প তিনবার বলছেন, হুবহু একই ভাষায়, একই শব্দে। আর এখন তিনি বলছেন ১০ মিনিটে তিনবার, যা স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তির অভাবের কারণে হতে পারে। এটা ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশের লক্ষণ হতে পারে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ৬০ বছরের বেশি বয়সের লোকদের ৫ থেকে ৮ শতাংশের হতে পারে।

আবার কেউ কেউ বলেছেন, ট্রাম্পের হয়তো নার্সিসিস্টিক পারসোনালিটি ডিস-অর্ডার লক্ষণ থাকতে পারে। এর লক্ষণের মধ্যে আছে বড় বড় কথা বলা, অন্যদের অনুভূতি বোঝার অক্ষমতা এবং যাদের অন্যদের প্রশংসা-বন্দনা পাওয়া খুবই প্রয়োজন। তাঁরা মনে করেন যে তাঁরা অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং তাঁদের প্রতি বিশেষ আচরণ করতে হবে। তাঁরা অতিরিক্ত প্রশংসা-বন্দনা চান, এবং সমালোচনা বা পরাজয় মেনে নিতে পারেন না।

নিউরোলজি বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের পুরনো এবং সাম্প্রতিক বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করেছেন। তাঁরা বলছেন, ট্রাম্পের কথা বলার ভঙ্গি একেবারেই বদলে গেছে। আগে তিনি দীর্ঘ ও জটিল বাক্য বলতেন, লম্বা বিশেষণ ব্যবহার করতেন; কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে তিনি কম শব্দে ছোট বাক্য বলছেন, মাঝখানে শব্দ হারিয়ে যাচ্ছে, অসংলগ্ন কথা বলছেন। এটা হয়তো আলঝেইমারস ডিজিজ বা নিতান্ত বয়সজনিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

এর ফলে কী হতে পারে?

তাত্ত্বিকভাবে বলতে গেলে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা এবং দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে অক্ষম হলে তিনি পদচ্যুত হতে পারেন। মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী সে ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেবেন। তিনি এবং তাঁর মন্ত্রিসভাকে মিলেই এ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, কংগ্রেসকে একটা চিঠি দিতে হবে এবং কংগ্রেসে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এটা অনুমোদিত হতে হবে। ফলে এমন সম্ভাবনা কম।

আগের কোনো প্রেসিডেন্টের কি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল?

ছিল। আব্রাহাম লিংকন বিষণ্নতায় ভুগতেন। অনেক সময়ই তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়তেন। প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান মাঝেমধ্যে বিভ্রান্তিতে ভুগতেন, কোথায় আছেন, তা বুঝতে পারতেন না। প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পাঁচ বছর পরই তাঁর আলঝেইমারস ডিজিজ ধরা পড়ে। সূত্র : বিবিসি বাংলা।


মন্তব্য