kalerkantho


পাকিস্তানকে সোজা করতে চড়া মূল্য দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে

আফগানিস্তানে রসদ সরবরাহ পথ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পাকিস্তানকে দীর্ঘ মেয়াদে শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের অনেক দিনের। ইসলামাবাদকে নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ করার মধ্য দিয়ে সেই ইচ্ছারই বাস্তবায়ন শুরু করেছে ওয়াশিংটন। শতকোটি ডলারের এই সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তান স্বাভাবিকভাবেই নাখোশ। প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকিও দিচ্ছে কেউ কেউ। আফগানিস্তানে সরবরাহ করা যুক্তরাষ্ট্রের রসদের একটা বড় অংশ যায় পাকিস্তান হয়ে। সহায়তা বন্ধের পর এই পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিই শোনা গেছে সবচেয়ে বেশি। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিকল্প খুঁজে পাওয়া খুব সহজ হবে না।

সম্পর্কের পারদের ওঠানামায় এ ধরনের প্রতিশোধমূলক তৎপরতা পাকিস্তান এর আগেও চালিয়েছে। ২০১১ সালে পাকিস্তানের শহর অ্যাবোটাবাদে মার্কিন অভিযানে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের নিহত হওয়া এবং পরবর্তী নানা ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। সে সময় করাচি বন্দর থেকে সড়ক ও বিমানপথে ন্যাটো বাহিনীর রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল পাকিস্তান। বিকল্প হিসেবে রাশিয়া, মধ্য এশিয়া ও ককেশাস এলাকা দিয়ে রসদ পরিবহন করে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও এই রুট খুবই ব্যয়সাপেক্ষ।

পাকিস্তানের বিরোধী নেতা ইমরান খানসহ সরকারি পর্যায়ের বহু কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তের পর আফগানিস্তানে রসদ সরবরাহ লাইন বন্ধ করে দেওয়ার দাবি তুলেছেন। ওয়াশিংটন অবশ্য বলছে, বিষয়টি নিয়ে এখনো সেভাবে চিন্তিত নয় তারা। পাকিস্তান সরকারের তৎপরতাতে তেমন কোনো ইঙ্গিত নেই। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস পেন্টাগনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ওই বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন নই।’ তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করে নিরাপত্তা সহায়তার বিষয়টি সামলে নেবে। ‘সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তৎপরতা দেখালেই বিষয়টি সম্ভব। এসব সন্ত্রাসী আমাদের জন্য যেমন হুমকি, পাকিস্তানের জন্যও তেমন।’

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিন ফেয়ার মনে করেন, সংকটের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান। ট্রাম্প প্রশাসন কী চায়, তা স্পষ্ট করে পাকিস্তানকে জানাতে হবে। রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দিলে বাড়তি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কেও তাদের জানাতে হবে। ফেয়ার বলেন, আকাশপথ ব্যবহার করতে না দেওয়ার অধিকার আছে পাকিস্তানের। এটা বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য