kalerkantho


ট্রাম্পকে পাল্টা হুমকি

পরমাণু চুক্তিতে পরিবর্তন মানবে না ইরান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন মানবে না ইরান। এ ছাড়া ইরানের ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ নিতেও ছাড়বে না বলে তারা জানিয়েছে।

পরমাণু চুক্তিতে পরিবর্তন না আনলে চুক্তি বাতিলের যে হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তার জবাবে গতকাল শনিবার ইরান এ কথা বলেছে।

ইরান ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স, চীন ও জার্মানির সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি পরমাণু চুক্তি করে। চুক্তিতে ইরানের পরমাণু কার্যক্রমের লাগাম টানার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়। এ চুক্তির ব্যাপারে তিন মাস পরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসে প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সময়সীমা মেনে গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, পরমাণু চুক্তিতে থাকা ‘মারাত্মক ত্রুটি’ সংশোধনের জন্য তিনি শেষবারের মতো ইউরোপ ও মার্কিন প্রশাসনকে সুযোগ দিচ্ছেন। ত্রুটি সংশোধন না হলে তিনি এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেবেন।

তিনি আরো বলেন, নতুন চুক্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তিতে কোনো ধরনের সংশোধন ইরান মানবে না, সেটা এখনই হোক কিংবা ভবিষ্যতে। আর জেসিপিওএর সঙ্গে অন্য কোনো ইস্যু জুড়ে দেওয়ার বিষয়টিও ইরান মেনে নেবে না। জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন তথা জেসিপিওএ সম্পর্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ টুইটারে লেখেন, ‘জেসিপিওএ নিয়ে পুনরায় সমঝোতা সম্ভব নয়। বারবার বিরক্তিকর কথা বলার পরিবর্তে বরং যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই (চুক্তির প্রতি) পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন করা দরকার, একদম ইরানের মতোই।’ এদিকে চুক্তিতে পরিবর্তন আনার ওপর ট্রাম্পের জোর দেওয়ার পাশাপাশি গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল বলে, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের শত্রুতামূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আচরণবিধির সব সীমারেখা লঙ্ঘন করেছে এবং এটা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন আর ইসলামিক রিপাবলিকের (ইরান) পক্ষ থেকে মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে এর জবাব দেওয়া হবে।’ জবাবটা ঠিক কিভাবে দেওয়া হবে, সেটা ইরান স্পষ্ট করেনি।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে করা ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের বরাবরই আপত্তি আছে। তাঁর মতে, এটা ‘সবচেয়ে বাজে চুক্তি’। এ চুক্তির সংশোধন না হলে এটা বাতিলের হুমকি দেন তিনি। এই চুক্তিতে ইরানের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার বিনিময়ে তাদের পরমাণু কর্মসূচি স্থগিত রাখার কথা বলা হয়। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।



মন্তব্য