kalerkantho


ফিলিস্তিন নেতাদের প্রতি পিএলও

ইসরায়েলের স্বীকৃতি স্থগিত করুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ইসরায়েলের স্বীকৃতি স্থগিত করুন

প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) আড়াই দশক আগে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে যে স্বীকৃতি দিয়েছিল, সেটা স্থগিতের সুপারিশ করেছেন ফিলিস্তিনি নেতারা। গত সোমবার পশ্চিম তীরের রামাল্লায় পিএলওর উচ্চপর্যায়ের পরিষদ প্যালেস্টাইনিয়ান সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (পিসিসি) বৈঠকে নেতারা পিএলওর প্রতি এ সুপারিশের পক্ষে ভোট দেন।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী দলগুলোর সংগঠন পিএলওর প্রতি ফিলিস্তিনি নেতাদের সুপারিশে বলা হয়, ইসরায়েল ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং পূর্ব জেরুজালেমের দখলদারিত্ব না ছাড়া এবং অধিকৃত ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধ না করা পর্যন্ত পিএলও যেন ইসরায়েলকে দেওয়া স্বীকৃতি স্থগিত রাখে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী পিএলও ১৯৯৩ সালে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

পিসিসির গত সোমবারের বৈঠকে গৃহীত ফিলিস্তিনি নেতাদের এ সম্মিলিত সিদ্ধান্ত পিএলও বাস্তবায়ন করলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। তবে পিএলও এ সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য কি না, তা স্পষ্ট নয়। পিসিসি ২০১৫ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনের সমন্বিত নিরাপত্তা কার্যক্রম স্থগিতের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি। বলা দরকার, গত সোমবার পিসিসির বৈঠকে ২০১৫ সালের ওই সিদ্ধান্তের পক্ষেও ফের ভোট দেওয়া হয়েছে।

পিসিসির এ বৈঠক থেকে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের গত রবিবারের বক্তব্যের পক্ষে সমর্থন দেওয়া হয়। আব্বাস সেদিন মন্তব্য করেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের মধ্যকার শান্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ১৯৯০ দশকের শুরুতে করা অসলো চুক্তির সমাপ্তি ঘটেছে। এ নেতার মতে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি স্থাপন কার্যক্রমসহ নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা নষ্ট করে দিয়েছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তিপ্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় চপেটাঘাত’ বলেও মন্তব্য করেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট আব্বাস।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৬ ডিসেম্বর বিতর্কিত জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে আনার ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের এ ঘোষণায় ফিলিস্তিনিদের ক্ষোভ তো আরো বেড়েছেই, সেই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী চলছে নিন্দার ঝড়। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট আব্বাস জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের আসন্ন মধ্যপ্রাচ্য সফরে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না। ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনি নেতারা এবার ইসরায়েলকে দেওয়া পিএলওর স্বীকৃতি বাতিলের নির্দেশনা দিয়েছেন।

পিসিসির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে ফিলিস্তিনের বিচ্ছিন্ন উপত্যকা গাজা নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠন হামাস পিসিসির এ নির্দেশনাকে সরাসরি স্বাগত না জানিয়ে বলেছে, ‘মাঠপর্যায়ে এটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় কৌশলগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগের মধ্য দিয়ে আসল পরীক্ষাটা হবে।’ সরকার গঠন নিয়ে মতবিরোধের জেরে ফাতাহর সঙ্গে দীর্ঘ এক দশকের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে নিতে গত অক্টোবরে দলটির সঙ্গে চুক্তি করে হামাস।

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য