kalerkantho


সংখ্যাতত্ত্বে ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে বসার আগে থেকেই হরেক বিতর্কের জন্ম দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বছরের প্রেসিডেন্সিও হরেক সংখ্যায় ভরপুর হয়ে উঠেছে, হোক সেটা টুইট, পোস্ট কিংবা কোনো প্রশাসনিক কাজ। তাঁর সেসব কর্মকাণ্ডের সংখ্যাগত বৈচিত্র্য দুই থেকে শুরু করে ২০ লাখ পর্যন্ত বিস্তৃত।

আড়াই হাজার প্লাস : এই যেমন গত এক বছরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আড়াই হাজারের বেশি টুইট করেছেন এবং ‘ভুয়া খবর’ শব্দযুগল ব্যবহার করেছেন ১৭৪ বার। অথচ তাঁর দাপ্তরিক টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে করা পোস্টের সংখ্যা ছিল মোটে দুটি। অন্যদিকে তাঁর পূর্বসূরি বারাক ওবামা দাপ্তরিক টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ১৩৯ বার টুইট করেছেন।

৪ : ওবামা প্রেসিডেন্সির প্রথম বছরে ২৯ বার গলফ খেলায় যিনি ভীষণ সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছিলেন, সেই ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা তিন গুণেরও একটু বেশি। বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান ৮৮ রাউন্ড গলফ খেলেছেন। আরেকটু খতিয়ে হিসাব করলে দেখা যায়, গত এক বছরে তিনি প্রতি চার দিনে অন্তত একবার গলফ মাঠে গেছেন।

১৪ : বিদেশ ভ্রমণে ট্রাম্প কিন্তু পিছিয়ে গেছেন। চীন, ভিয়েতনাম, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্স পর্যন্ত উড়ে যেতে পেরেছেন তিনি। অথচ ওবামার প্রথম বছরে সফর করা দেশের সংখ্যাটা ছিল ট্রাম্পের দ্বিগুণেরও বেশি, অর্থাৎ ১৪।

২৯ : কারো সঙ্গে করমর্দন করতে গেলে ট্রাম্প সহজে হাত ছাড়েন না আর সেটা নিয়ে মাতামাতি করতে ছাড়ে না সংবাদমাধ্যমগুলোও। কিন্তু তাঁর করমর্দনটা যখন হয়েছিল ফ্রান্সের সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে, তখন সেটা খবর হিসেবে বাড়তি গুরুত্ব আদায় করে নিয়েছিল। কেননা ম্যাখোঁও যেন ট্রাম্পের হাতটা ছাড়তেই চাচ্ছিলেন না। উভয় নেতার বাড়াবাড়িতে করমর্দনটা ২৯ সেকেন্ড দীর্ঘায়িত হয়েছিল।

৩৪ : রাষ্ট্রক্ষমতায় অভিষেকের পর হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প যেসব কর্মীকে জায়গা দিয়েছেন, সরিয়ে দিয়েছেন অথবা পুনর্নিয়োগ দিয়েছেন, সে হিসাবে সব মিলিয়ে তিনি ৩৪ শতাংশ পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্যাথরিন ডুন-টেনপাস তেমনটাই জানান। সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের তুলনায় সেটা দ্বিগুণ।

৩৭ : জরিপ প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের হিসাবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এই মুহূর্তে মাত্র ৩৭ শতাংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা এত নিচে নেমে যায়নি। প্রেসিডেন্সির প্রথম বছর শেষে ওবামার ৫০, বিল ক্লিনটনের ৫৪ এবং জর্জ ডাব্লিউ বুশের ৮৩ শতাংশ জনপ্রিয়তা ছিল।

৫৮ : প্রেসিডেন্সির প্রথম বছরে ট্রাম্প ৫৮টি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। একবিংশ শতাব্দীতে এতগুলো নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেননি আর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পূর্বসূরি জর্জ ডাব্লিউ বুশের প্রেসিডেন্সির প্রথম বছরে স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশের সংখ্যা ৫৬-তে ঠেকে গিয়েছিল।

সাড়ে ১৭ লাখ : ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ৫৫ হাজার বর্গফুটের হোয়াইট হাউস ভবন আর প্রাঙ্গণের অন্য ভবনগুলো নতুন করে সাজাতে তাঁর দপ্তর সাড়ে ১৭ লাখ ডলার খরচ করে ফেলেছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ে তিনি নিজের পছন্দমতো সব সাজিয়েছেন।

২০ লাখ : গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ২০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট।


মন্তব্য