kalerkantho


জেরুজালেম বিতর্কের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য সফরে পেন্স

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



চার দিনের মধ্যপ্রাচ্য সফর শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করায় বিশ্বরাজনীতিতে যে উত্তেজনা চলছে, তার মধ্যেই এ সফরে বেরোলেন তিনি। সফরকালে মিসর, জর্দান ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে।

পেন্সের এই সফর হওয়ার কথা ছিল গত মাসে; কিন্তু ট্রাম্পের ‘জেরুজালেম ঘোষণা’র পর আরববিশ্বের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পূর্বনির্ধারিত অনেক কর্মসূচিই বাতিল হয়ে যায়। স্থগিত হয়ে যায় পেন্সের সফরও। এমনকি ফিলিস্তিনি নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁরা পেন্সের সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎ করবেন না।

সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিছুটা শীতল হয়েছে; কিন্তু পেন্সকে এখনো অনেক রাষ্ট্রই হয়তো উষ্ণ সংবর্ধনা দেবে না। কারণ সম্প্রতি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য সাড়ে ছয় কোটি ডলারের অর্থ সহায়তা আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই অর্থ তারা দিত জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক ত্রাণ সংস্থার (ইউএনআরডাব্লিউএ) মাধ্যমে। ফলে তীব্র অর্থসংকটে ভুগতে থাকা ইউএনআরডাব্লিউএর ভবিষ্যৎ নিয়েও একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার মিসরের রাজধানী কায়রো যাওয়ার কথা পেন্সের। সেখানে তিনি বৈঠক করবেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসির সঙ্গে। এর পরদিন তিনি বসবেন জর্দানের বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহর সঙ্গে। এ দুই দেশের সঙ্গেই ইসরায়েলের শান্তি ও কূটনৈতিক চুক্তি আছে। ফলে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মার্কিন কর্মকর্তারা ব্যর্থ হলে সিসি ও বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহকে কাজে লাগাতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।

মিসর ও জর্দানের পর মাইক পেন্স দুই দিন থাকবেন ইসরায়েলে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট রিউভেন রিভলিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

তবে পেন্সের সফরের আরেকটি বিশেষত্ব আছে। তিনি এমন সময় ইসরায়েলে যাচ্ছেন, যখন মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলে তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের পরিকল্পনা শুরু করেছে। তবে বিষয়টি তাঁর সফরে কতটা গুরুত্ব পাবে, তা এখনো জানা যায়নি। মার্কিন কূটনীতিকদের মতে, দূতাবাস স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য