kalerkantho


গাজায় ফিলিস্তিন প্রধানমন্ত্রীর বহরে গুলি-বোমা হামলা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সফরকালে প্রধানমন্ত্রী রামি হামদাল্লাহর গাড়িবহরে গুলি ও বোমা হামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবারের ওই হামলায় কেউ প্রাণ হারায়নি। তবে সাতজন আহত হয়েছে। এখনো কেউ এ হামলার দায় স্বীকার না করলেও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এ জন্য গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসকে দায়ী করছে।

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ নেতাদের গাজা সফর বিরল ঘটনা। গতকাল তেমনই এক বিরল সফরে সেখানে যান প্রধানমন্ত্রী হামদাল্লাহ। তাঁর গাড়িবহর গাজা সীমান্তে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত ইরেজ মোড় পার হওয়ার পরই বোমা বিস্ফোরিত হয়। গাজার উত্তর-দক্ষিণ বরাবর প্রধান সড়কের পাশে এক বৈদ্যুতিক খুঁটির গোড়ায় পেতে রাখা বোমাটি বিস্ফোরণের পর পরই গাড়িবহরের দিকে অনেক গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী হামদাল্লাহর কোনো ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর পরই গোটা এলাকা সিল করে দেয় হামাসের নিরাপত্তা বাহিনী।

গাজায় বর্জ্য পানি শোধনাগার উদ্বোধনসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে হামদাল্লাহর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে বর্জ্য পানি শোধনাগার উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে তিনি শুধু বক্তব্য দিয়েই গাজা ত্যাগ করেন। এমনকি ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিতা কাটার অপেক্ষাও করেননি তিনি।

প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এ হামলার দায় হামাসের ওপর চাপালেও গোয়েন্দাপ্রধান মাজিদ ফারাজ মনে করেন, এখনই কাউকে দোষী করা ঠিক হবে না। হামলা যারাই করুক, তাদের কাপুরুষ অ্যাখ্যা দিয়েছেন অন্যতম এক জ্যেষ্ঠ ফিলিস্তিনি নেতা হাসান আসরাওয়ি। জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য দূত এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।

এদিকে হামাস বলেছে, তাদের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা মাজেন ফাকহাকে হত্যায় এবং হামাসের নিরাপত্তাপ্রধানকে হত্যাচেষ্টায় যারা জড়িত ছিল, সেই ‘একই হাত’ হামদাল্লাহর গাড়িবহরে হামলা করেছে। হামাসের দাবি, ফাকহাকে হত্যা করেছে ইসরায়েল এবং তাদের নিরাপত্তাপ্রধানের ওপর হামলা করেছে মৌলবাদী ইসলামপন্থীরা।

প্রেসিডেন্ট আব্বাসের মন্তব্যের সমালোচনা করে হামাস বলে, অপরাধীরা যে লক্ষ্য নিয়ে হামলা করেছে, আব্বাসের মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তাদের সে লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।

২০০৭ সাল থেকে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস গত অক্টোবরে প্রতিপক্ষ ফাতাহ তথা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে। তবে এ চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে পর্যবেক্ষকদের সংশয় আছে। সূত্র : এএফপি, এবিসি নিউজ।

 


মন্তব্য