kalerkantho


মুম্বাইয়ে সাফল্যের পর এবার কৃষকদের লক্ষ্য দিল্লি যাত্রা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ভারতের মহারাষ্ট্রে সাফল্যের পর কৃষকরা এবার লক্ষ্য করেছে রাজধানী দিল্লিকে। শ’দুয়েক কৃষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত অল ইন্ডিয়া কিষাণ সংঘর্ষ কো-অর্ডিনেশন কমিটির (এআইকেএসসিসি) ডাকে এবার দিল্লি অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংগঠনগুলো রাজ্যে রাজ্যে কৃষকদের সংগঠিত করার কাজ এরই মধ্যে অনেকটা এগিয়ে রেখেছে। এআইকেএসসিসি সূত্র জানিয়েছে, দিল্লিতে নজিরবিহীন জমায়েতের লক্ষ্য নিয়ে তাদের প্রস্তুতি আগাচ্ছে।

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তেই কৃষক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে। একাধিক রাজ্যে সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক ঘটনার রূপও নিয়েছে। ২০১৭ সালের জুন মাসে বিজেপিশাসিত মধ্যপ্রদেশের মন্দসৌরে বিক্ষোভকারীদের ওপরে গুলি চালানোর ঘটনার পর উত্তাল হয়ে যায় গোটা দেশের রাজনীতি। সরকারের বিরুদ্ধে কৃষক অসন্তোষ আরো বেড়ে যায়।

মন্দসৌরের ঘটনাই এক ছাতার তলায় আনে শতাধিক কৃষক সংগঠনকে। মহারাষ্ট্রে সফল কৃষক আন্দোলন হলো যে সংগঠনের নেতৃত্বে, সেই সারা ভারত কৃষক সভার সাধারণ সম্পাদক তথা সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য হান্নান মোল্লা বলেন, ‘মন্দসৌরে গুলি চালনার পরে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আরো অনেক কৃষক সংগঠনের নেতৃত্বে গিয়েছিল। সেখানেই আমাদের মধ্যে কথা হয়, আমরা এক ছাতার তলায় আসার সিদ্ধান্ত নিই।’

জুনের প্রথম সপ্তাহে গুলি চলেছিল মন্দসৌরে। জুনের তৃতীয় সপ্তাহেই দিল্লিতে বৈঠকে বসে ১২০টি কৃষক সংগঠন। গড়ে ওঠে অল ইন্ডিয়া কিষাণ সংঘর্ষ কো-অর্ডিনেশন কমিটি। বিভিন্ন রাজ্যে একের পর এক বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয় কমিটির ব্যানারে। গত বছরের নভেম্বরেই ‘সংসদ চলো’র ডাক দেয় কমিটি। তত দিনে ১২০ থেকে বেড়ে ১৮৪টি সংগঠন যোগ দিয়েছে কো-অর্ডিনেশন কমিটিতে। তবে নভেম্বরের সেই কর্মসূচি তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি।

সাড়া জাগিয়ে দিল মুম্বাই তথা মহারাষ্ট্র। সে রাজ্যে কৃষকদের ‘লং মার্চ’ যেভাবে শিহরণ জাগাল গোটা দেশে, তাতে ফের উৎসাহিত কো-অর্ডিনেশন নেতারা।

কমিটি সূত্রের খবর, এপ্রিলের শেষে বা মে মাসের শুরুতে হবে তাদের দিল্লি অভিযান। আসামের কৃষক আন্দোলনের সবচেয়ে বড় মুখ তথা কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির প্রধান অখিল গগৈ আনন্দবাজারকে বলেন, ‘এপ্রিলের শেষে বা মে মাসের শুরুতেই দিল্লি অভিযান হবে। মহারাষ্ট্রের ছবিটা আপনারা তো দেখলেনই। শুধু একটা রাজ্যেই এই জমায়েত। সব কটি রাজ্যের কৃষক সংগঠন মিলে দিল্লিতে কত বড় জমায়েত করবে, বুঝতেই পারছেন।’ কো-অর্ডিনেশন কমিটির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা অখিল। তাঁর দাবি, আসাম থেকে অন্তত ১০ হাজার কৃষক যোগ দেবে দিল্লির বিক্ষোভে।

হান্নান মোল্লা অবশ্য দিল্লি অভিযানের দিনক্ষণ সম্পর্কে এখনই মন্তব্য করতে চাইলেন না। এপ্রিল-মের দিকেই দিল্লিতে জমায়েতের ভাবনা-চিন্তা যে চলছে, সে কথা স্বীকার করলেন। তবে বললেন, ‘১৭ মার্চ এআইকেএসসিসির স্টিয়ারিং কমিটি বৈঠকে বসবে। সেখানেই স্থির করা হবে পরবর্তী কর্মসূচি।’

ঠিক কোন কোন দাবি নিয়ে দিল্লি অভিযান করতে চলেছে এআইকেএসসিসি? হান্নান-অখিলরা কথায় কথায় জানান, কৃষকদের সমস্যা অনেক রকমের। কিন্তু সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধানের দাবি নিয়ে ঝাঁপাবে না কমিটি।

মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান— বৃষ্টিপাত বা জলের অভাবে ভুগছে এতগুলো রাজ্যের কৃষক। কোথাও বছরের পর বছর বৃষ্টি নেই। কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত। কোথাও সেচের জল নেহাতই অপ্রতুল। তবে নেতাদের কথায় বোঝা গেছে, যেভাবে মুম্বাই কাঁপিয়ে দিয়েছে কৃষক বিক্ষোভ, ঠিক সেভাবেই এবার দিল্লিতে পা রাখতে চাইছে কৃষক সংগঠনগুলো। আপাতত তাদের দাবি মূলত দুটি—কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ, ফসল ফলানোর খরচের অন্তত দেড় গুণ মূল্যে কৃষকের কাছ থেকে শস্য কিনে নেওয়া। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।


মন্তব্য