kalerkantho


বিজ্ঞান থেকে রাজনীতি সব কিছুতে ছিলেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বিজ্ঞান থেকে রাজনীতি সব কিছুতে ছিলেন

স্টিফেন হকিং বিশ্বাস করতেন, বিজ্ঞানই তাঁর নিয়তি। কাজেও সেটা প্রমাণ করে গেছেন তিনি—আমৃত্যু ব্যয় করেছেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অতল রহস্য ভেদ করার লক্ষ্যে। তাই বলে অন্যদিকে তাঁর নজর ছিল না, তা নয়। বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে রাজনীতি পর্যন্ত অনেক ব্যাপারেই ছিল তাঁর বাস্তবমুখী মন্তব্য। তিনি ছিলেন এক বিস্ময়কর প্রতিভা।

আধুনিক বিজ্ঞানের জনক গ্যালিলিও গ্যালিলির মৃত্যুর ঠিক ৩০০ বছরের মাথায় ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি জন্ম নেন এ কালের সেরা তাত্ত্বিক পদার্থবিদ হকিং। মাত্র ২১ বছর বয়সে অ্যামিওট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস) তথা বিরল ধরনের মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে তাঁর শরীর অচল হয়ে গেলেও সেই অসাড় শরীরে জীবন্ত ছিল এক ক্ষুরধার মস্তিষ্ক। এই ব্রিটিশ বিজ্ঞানী প্রায়ই একটা প্রশ্নের মুখে পড়তেন, ‘এএলএসে আক্রান্ত হওয়ায় আপনার কেমন লাগে?’ তাঁর সোজা উত্তর, ‘তেমন কিছু নয়।’ এএলএস হকিংকে একেবারে অচল করে দেয়, এমনকি তিনি বাকশক্তিও হারিয়ে ফেলেন। বাকি জীবনটা হুইলচেয়ারে কাটাতে বাধ্য হওয়া হকিংয়ের মনোভাব প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম ছিল কম্পিউটার স্পিচ সিনথেসাইজার।

শারীরিক অক্ষমতার কারণে অত্যন্ত ধীরগতিতে কাজ করতে বাধ্য হলেও হকিংয়ের অর্জনের গতি কিন্তু মোটেই ধীর ছিল না। তাঁর দেহে এএলএসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, বড় জোর দুই বছর বাঁচবেন তিনি। কিন্তু এরপর তিনি পার করেছেন সাড়ে পাঁচ দশক। ৩২ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে তাঁকে বরণ করে নেয় ব্রিটেনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়্যাল সোসাইটি। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৯ সালে তাঁকে সম্মানজনক লুকাসিয়ান অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেয়। এর আগে এ পদ অর্জনের গৌরব অর্জন করেছিলেন বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন।

মহাবিশ্বের শুরু আর শেষই ছিল যাঁর ভাবনাজুড়ে, সেই বিজ্ঞানী তাঁর বাসগ্রহের ব্যাপারেও সমান সজাগ ছিলেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান উন্নয়নে তিনি বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন, ‘শক্তিশালী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে’ পরিণত হয়ে তারা আবার মানুষের নিয়ন্ত্রক না হয়ে ওঠে।

মানুষের ওপর রোবটের নিয়ন্ত্রণের ভয়ই যে হকিংয়ের শুধু ছিল, তেমন নয়। তাঁর বিশ্বাস ছিল, আচমকা বৈশ্বিক উষ্ণতার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পরমাণু যুদ্ধ, জিনগতভাবে পরিবর্তিত ভাইরাস বা অন্য বিপদে এ পৃথিবীর প্রাণিকুলের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি, মহাশূন্যে না গেলে মানবজাতির কোনো ভবিষ্যৎ নেই।’

বিজ্ঞানে বুঁদ হয়ে থাকা হকিং রাজনীতি সচেতনও ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড দেখে তাঁকে ‘বক্তৃতাবাগীশ’ অ্যাখ্যা দিতে ছাড়েননি তিনি। এ ছাড়া ব্রিটেন যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়ার পথে পা বাড়াচ্ছিল, তখনই এর বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন তিনি।

যেকোনো সময় শ্বাস-প্রশ্বাস থেমে যেতে পারে জেনে হকিং প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাতে চাইতেন। ‘হকিং’ শিরোনামের প্রামাণ্যচিত্রে তিনি নিজেই সে কথা বলেছেন। সৃষ্টিতত্ত্বের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রখ্যাত এই ব্যক্তিত্বকে নিয়ে হয়েছে চলচ্চিত্রও। বিজ্ঞানের কঠিন তত্ত্বকে সহজ করে লিখেছেন বেশ কয়েকটি বইও। সব ব্যস্ততা ছেড়ে গতকাল বুধবার তিনি হারিয়ে গেছেন রহস্যময় ব্রহ্মাণ্ডে। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য