kalerkantho


তুর্কি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আফরিন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



তুর্কি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আফরিন

সিরিয়ার বহুমুখী গৃহযুদ্ধ আবর্তিত হচ্ছে প্রধান দুটি ক্ষেত্র (ফ্রন্ট) গৌতা ও আফরিনকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ শহর আফরিনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে সিরিয়ার সরকার সমর্থিত কুর্দি বাহিনী। গতকাল রবিবার তুর্কি বাহিনী ও বিদ্রোহী ফ্রি সিরিয়ান আর্মি শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান ও তুর্কি সেনাবাহিনী পৃথক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানান, তুর্কি বাহিনী সমর্থিত সিরিয়ার বিদ্রোহীরা আফরিনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মির ইউনিটগুলো তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতায় আজ (গতকাল) সকাল ৮টায় আফরিনের কেন্দ্রস্থলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এখন সেখানে মাইন অপসারণকাজ চলছে।’ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের দারদানেলিস ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ তথ্য জানান। প্রসঙ্গত, স্বাধীনতাপন্থী কুর্দি বাহিনীকে সন্ত্রাসী বলে থাকে তুরস্কের সরকার।

এরদোয়ান আরো বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের’ বেশির ভাগ সদস্যই এরই মধ্যে লেজ গুটিয়ে পালিয়েছে। আফরিনের কেন্দ্রস্থলে সন্ত্রাসীদের ছেঁড়া ত্যানার (পতাকা) পরিবর্তে এখন আস্থা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক তুর্কি পতাকা উড়বে, ফ্রি সিরিয়ান আর্মির পতাকা উড়বে। শহরটিতে তুর্কি স্পেশাল ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ ছাড়া টুইটারে তুর্কি সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে আফরিনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। তারা টুইটারে আফরিনে তুর্কি পতাকা ওড়ার ভিডিও পোস্ট করে।

তবে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ নিয়ে ব্রিটেনভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ জানায়, তুর্কি নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফরিনে এখনো যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে অগ্রসর হচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, গত ২০ জানুয়ারি থেকে আফরিনে তুর্কি বাহিনীর ‘অলিভ ব্রাঞ্চ’ নামের এই অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেড় হাজার কুর্দি যোদ্ধা নিহত হয়েছে। শুধু গত সপ্তাহেই অন্তত আড়াই লাখ বেসামরিক নাগরিক এ শহর ছেড়ে পালিয়েছে। এ ছাড়া অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এর মধ্যে গত শুক্রবার ও শনিবার তুর্কি বাহিনীর হামলায় অন্তত ২৭ বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে, যাতে হাসপাতালে হামলায় নিহত হয় ১৬ জন। এ যুদ্ধে তুর্কি বাহিনীর ৪০০ সেনা নিহত হয়। তবে তুর্কি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তাদের ৪৬ জন সেনা নিহত হয়েছে।

পর্যবেক্ষক সংস্থাটি জানায়, আফরিন ও গৌতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ চলতি সপ্তাহে আট বছরে এসে ঠেকেছে; যাতে সিরিয়া, কুর্দি বাহিনী, বিদ্রোহী বিভিন্ন বাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও তুরস্ক প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

 


মন্তব্য