kalerkantho


আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের তীব্র নিন্দা সৌদি বাদশাহর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



আরব দেশগুলোতে ‘অমার্জিত হস্তক্ষেপের’ জন্য ইরান এবং জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান। গত রবিবার আরব লীগের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে আরব নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি এ সমালোচনা করেন।

৮২ বছর বয়সী বাদশাহ এবারের আরব লীগ শীর্ষ সম্মেলনকে ‘জেরুজালেম শীর্ষ সম্মেলন’ নামে অভিহিত করেন। এর মধ্য দিয়ে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত এবং তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদ জানানোই তাঁর লক্ষ্য। পরে আরব লীগের প্রকাশিত বিবৃতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে নাকচ ও অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

রিয়াদের পৃষ্ঠপোষকতায় সিরিয়াকে বাদ দিয়ে ১৭টি আরব দেশ এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় দাহরান শহরে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মিলনায়তনে ‘সিরিয়া আরব রিপাবলিক’ আসনটি ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। সিরিয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্বশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা এবং রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনার বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এবার সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হলো।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স সিরিয়ায় হামলা চালানোর ২৪ ঘণ্টা পর এই সম্মেলনে বসলেন আরব দেশগুলোর নেতারা। এমনকি সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটা কাতারও এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছে, যারা এরই মধ্যে সিরিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর হামলাকে স্বাগত জানিয়েছে।

সম্মেলনে সৌদি বাদশাহ তাঁদের দীর্ঘদিনের শত্রু ইরানের বিরুদ্ধে আরব নেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, ‘আরব অঞ্চলে ইরানের সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে আমরা আমাদের তীব্র নিন্দা পুনরুজ্জীবিত করছি। আরব দেশগুলোতে দেশটির অমার্জিত হস্তক্ষেপকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আস্থাশীল সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সৌদি শাসক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেম নিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। সালমান বলেন, ‘জেরুজালেম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি। পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

বাদশাহ সালমানের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না, এএফপির এক প্রশ্নের জবাবে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইর বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের খুবই শক্তিশালী কৌশলগত সম্পর্কের ওপর এই বক্তব্য কোনো অসংগতি তৈরি করবে না।’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য