kalerkantho


সাবেক এফবিআইপ্রধান আরো যা বললেন

‘নৈতিকভাবে’ প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



‘নৈতিকভাবে’ প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান জেমস কোমি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নৈতিকভাবে যোগ্য নন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ তিনি নারীদের মাংসের টুকরো হিসেবে মনে করেন। গত বছর বরখাস্ত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে দেওয়া বড় কোনো সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন কোমি।

রবিবার রাতে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে এবিসি নিউজ। এবিসি নিউজকে কোমি বলেন, ‘ট্রাম্প অব্যাহতভাবে মিথ্যা বলে চলেছেন এবং হয়তো বিচারের কাজেও বাধা তৈরি করছেন। তিনি শারীরিকভাবে অযোগ্য বলে আমি মনে করি না। আমি মনে করি, নৈতিকভাবে তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন।’

কোমি বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই সম্মান অর্জন করতে হবে এবং যে ভিত্তিগুলোর ওপর দেশ গঠিত হয়েছে, তার প্রতি মূল্যবোধ থাকতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সত্যি বলতে হবে; কিন্তু প্রেসিডেন্ট সেটা করতে পারছেন না।’

সাক্ষাৎকার প্রচারের কয়েক ঘণ্টা পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পার্টির রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিজের নতুন বইয়ের প্রচারণা বাড়াতে কোমির এই সাক্ষাৎকার, যেখানে তিনি প্রমাণ করেছেন যে তাঁর সত্যিকারের আনুগত্য আসলে তাঁর নিজের প্রতি।

জেমস কোমি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে ২০১৩ সালে এফবিআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কোমির আত্মজীবনীমূলক নতুন বইয়ের নাম ‘অ্যা হায়ার লয়ালটি : ট্রুথ, লাইজ অ্যান্ড লিডারশিপ’। বইটিতে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়কার নানা ঘটনার বর্ণনা রয়েছে।

সাক্ষাৎকারটি প্রচারের কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প আক্রমণাত্মক হয়ে বলেন, ‘এগুলো কোমির অনেক মিথ্যার অংশ।’

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এফবিআই পরিচালক থাকার সময় কংগ্রেসে একটি চিঠি পাঠান কোমি, যেখানে বলা হয়, হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইলের বিষয়ে ফের তদন্ত শুরু করছে এফবিআই। ওই তদন্ত নিয়ে কোমি বলেছিলেন, ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হিলারির জয় প্রায় সুনিশ্চিত ছিল। কিন্তু নির্বাচনের ১১ দিন আগে হিলারির ই-মেইল ব্যবহার নিয়ে তদন্তের ব্যাপারে কোমি ঘোষণা হিলারির হারের পেছনে প্রভাব রেখেছে বলে মনে করেন কোমি।

ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার যোগাযোগ নিয়ে ২০১৭ সালের মার্চে তদন্ত শুরু করে এফবিআই। ওই ঘটনার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে জড়িত নয় বলে বিবৃতি দেওয়ার জন্য ট্রাম্প জেমস কোমির ওপর চাপ তৈরি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সে বছর মে মাসে তাঁকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প।

এবিসি নিউজের জর্জ স্টেফানোপোলাসকে দেওয়া বিশেষ ওই সাক্ষাৎকারে কোমি জানান, ট্রাম্পের মস্কো সফর নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তার প্রমাণ রাশিয়ার হাতে আছে কি না, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত না হলেও তা থাকার ‘সম্ভাবনা’ আছে।

সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।

 


মন্তব্য