kalerkantho


ট্রাম্প-উন বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা

পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে মতপার্থক্য

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ মে, ২০১৮ ০০:০০



পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে মতপার্থক্য

ছবি: ইন্টারনেট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যকার সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া কী হবে—তা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় তৈরি হয়েছে এ অনিশ্চয়তা। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, এ মতপার্থক্য দূর করতে তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে চায়।

এদিকে মতপার্থক্যের কারণে দুই দিন আগে বৈঠক বাতিলের যে হুমকি পিয়ংইয়ং (উত্তর কোরিয়ার রাজধানী) দিয়েছে, এর জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। এ ছাড়া তিনি স্বীকার করেছেন যে ‘বৈঠকটি আদৌ হবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।’

পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের যে বিরোধ, গত কয়েক মাসে তা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। বিরোধ ভুলে একসঙ্গে চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সম্প্রতি বৈঠক করেছেন দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতা। এ ছাড়া আগামী ১২ জুন ঐতিহাসিকে বৈঠকে বসার কথা ট্রাম্প ও উনের। কিন্তু গত বুধবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ‘কোরিয়া সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি’ (কেসিএনএ) জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের এক কোণে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে এবং পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করার ব্যাপারে একতরফা চাপ দিতে থাকলে এ ধরনের সংলাপের ব্যাপারে আমাদের আগ্রহ থাকবে না।’ দেশটির ‘ফার্স্ট ভাইস ফরেন মিনিস্টার’ কিম কিয়ে গোয়ানের উদ্ধৃতি দিয়ে খবরে হুমকির সুরে বলা হয়, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১২ জুনের সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি ‘পুনর্বিবেচনা’ করা হবে।

এমন খবরের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, ‘এ ধরনের খবরের বিষয়ে আমরা অবহিত নই। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।’। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এ ধরনের খবর দেখিনি, কোথাও শুনিনি। তবে যা-ই ঘটুক না কেন, আমরা তা খতিয়ে দেখব।’

এ অবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার মতবিরোধ দূর করতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখতে চায়। গতকাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাং কিয়ুং-হোয়া পার্লামেন্টে বলেন, ‘এটা সত্য যে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পদ্ধতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।’

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, তারা এই দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে চায়।

আগামী মঙ্গলবার (২২ মে) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মুনের ওই মুখপাত্র বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার অবস্থান ও মনোভাব সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানতে পারব, তা বৈঠকে ট্রাম্পকে অবহিত করা হবে।’

এদিকে উত্তর কোরিয়ার একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জাপানের ‘আসাহি’ সংবাদপত্র জানায়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র পিয়ংইয়ংকে একটি দাবির কথা জানিয়েছে। সেটা হলো, উত্তর কোরিয়াকে ছয় মাসের মধ্যে কিছু পরমাণু অস্ত্র, আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য পরমাণু সরঞ্জাম জাহাজে করে অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নিতে হবে। আর এ দাবি মানলে উত্তর কোরিয়াকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের শর্তে  উত্তর কোরিয়া সম্মত হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

আসাহির খবরে আরো বলা হয়, আগামী ১২ জুনের সম্ভাব্য বৈঠকে উত্তর কোরিয়া পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে কার্যকর আশ্বাস দিতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র কিম প্রশাসনকে ক্ষমতায় থাকার নিশ্চয়তা দেবে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।


মন্তব্য