kalerkantho


উত্তর কোরিয়ার সেনাদের গলায় ঐক্যের সুর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী বেসামরিকায়ন এলাকা (ডিএমজেড) পানমুনজম। এলাকাটিকে বলা হয় স্নায়ুযুদ্ধের সর্বশেষ ‘চিহ্ন’। পানমুনজমের দুই পাশে এখনো দুই কোরিয়ার পক্ষ থেকে সেনা মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। এসব সেনা এত দিন পরস্পরবিরোধী কথাবার্তা এবং প্রপাগান্ডায় বেশি উৎসাহী ছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ঐতিহাসিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে এই বিরোধী কণ্ঠস্বর এখন ঐক্যের গান গাইছে। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার সেনারা স্বপ্ন দেখছেন, ট্রাম্প-উনের বৈঠকের মধ্য দিয়ে অদূর ভবিষ্যতে দুই কোরিয়ার মানুষ একসঙ্গে পথ চলবে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করা উত্তর কোরিয়ার সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল ওয়াং মায়োং জিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘অতীতে আমরা বিপরীত পক্ষের (দক্ষিণ কোরিয়া) সেনাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতাম। কিন্তু যারা আমাদের ভালো চায় এবং সম্পর্কের উন্নয়ন চায়, আমরা তাদের বন্ধু বানাতে পারি এবং ইতিহাস ভুলে একই পথে হাঁটতে পারি।’

ওই সেনা কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প-উনের করমর্দনের ঘটনাকে তিনি ‘বেশ ইতিবাচক’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘এত দিন আমাদের দেশ বড় বড় শক্তির চাপে ছিল। কিন্তু আমরা এখন পুরো বিশ্বের সামনে স্বাধীন দেশ হিসেবে নিজের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।’

গত এপ্রিলে পানমুনজম এলাকায় প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা মুন জায়ে-ইন এবং উন। ওই বৈঠকের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কর্নেল ওয়াং বলেন, ‘শুরুতে বিশেষ করে যখন আমাদের সর্বোচ্চ নেতা দক্ষিণের মাটিতে পা ফেলেন, তখন আমি খুবই বিচলিত ছিলাম। কিন্তু উন যখন মুনের সঙ্গে হাত মেলালেন এবং তাঁকে উত্তরের ভূখণ্ডে নিয়ে এলেন, তখন আমি ভাবলাম যে দুই কোরিয়ার পুনর্মিলনের দিন খুব কাছে চলে এসেছে।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে কোরিয়া উপদ্বীপকে দুই ভাগ করে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। এর পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়াকে সমর্থন দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র আর উত্তর কোরিয়াকে রাশিয়া। কিন্তু সময়ের ধারাবাহিকতায় উত্তরের সঙ্গে গণতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী দক্ষিণের অর্থনৈতিক পার্থক্য তৈরি হতে থাকে। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি এখন বিশ্বের মধ্যে ১১তম। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি জর্জরিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায়।

এ অবস্থায় ট্রাম্প-উনের বৈঠকের মধ্য দিয়ে শান্তির আভাস মিললেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উত্তর কোরিয়ার সেনাদের মনোভাব নেতিবাচক। কর্নেল ওয়াং বলেন, ‘একজন সেনা হিসেবে আমি একমাত্র এটাই চাই যে কোরীয় উপদ্বীপ থেকে যুক্তরাষ্ট্র চলে যাক এবং দুই কোরিয়ার মানুষ এক হোক।’

গতকাল ট্রাম্প-উনের সম্মেলনের দিনও পিয়ংইয়ংয়ের (উত্তর কোরিয়ার রাজধানী) একটি বিলাসবহুল হোটেলের লবিতে থাকা বইয়ের দোকানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী পোস্টকার্ড দেখা গেছে। সূত্র : এএফপি।

 


মন্তব্য