kalerkantho


‘অভিবাসী শিশুদের জীবন নিয়ে খেলছেন ট্রাম্প’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



‘অভিবাসী শিশুদের জীবন নিয়ে খেলছেন ট্রাম্প’

যুক্তরাষ্ট্র সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ঢুকে পড়া অভিবাসী মা-বাবার সন্তানদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলার নীতিতে অটুট থাকার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও বিষয়টিকে তিনি দেখাতে চাইছেন অনেকটা এভাবে যে আইনের কাছে তাঁর হাত বাঁধা। ‘সরকার অনুমোদিত এই শিশু নির্যাতন’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমালোচনার বন্যা বয়ে গেলেও বিষয়টিকে মানবিক নয় বরং রাজনৈতিকভাবেই দেখতে চান প্রেসিডেন্ট এবং মা-বাবার জন্য কান্নাকাটি করতে থাকা এই শিশুগুলোকে রীতিমতো ‘খাঁচায়’ পুরো ফায়দা হাসিলের পরিকল্পনাও তাঁর আছে। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তৈরির যে স্বপ্ন তিনি নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকে ভোটারদের দেখাচ্ছিলেন, সেটাই এবার বাস্তবায়িত করতে চান ট্রাম্প। আর তা এই শিশুগুলোর কান্নার বিনিময়ে। 

পরিস্থিতির কথা বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত মঙ্গলবার কংগ্রেসে আবারও সীমান্তে দেয়ালের কথা পাড়েন। ঠিক একই দিনে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের নর্দমা’ আখ্যায়িত করে সেখান থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের অভিবাসননীতি সম্পর্কে জাতিসংঘের এই পরিষদ সমালোচনার পরদিনই যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এ ঘোষণা এলো। ফলে একদিকে যেমন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাজারো শিশুকে জিম্মি করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধি করতে চাইছেন, সেখানে সেই দেশটিই ‘ভণ্ডামির’ অভিযোগ তুলছে জাতিসংঘের বিরুদ্ধে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে যান রিপাবলিকান সদস্যদের সঙ্গে অভিবাসন নিয়ে কথা বলতে। ওই সময় সেখানে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কংগ্রেসম্যান সিএনএনকে ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘এসব কান্নাকাটি করতে থাকা বাচ্চাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ভালো দেখায় না।’ শিশুগুলোর বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রচার প্রসঙ্গে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এই বৈঠকে রিপাবলিকানদের প্রতি তিনি অভিবাসন প্রসঙ্গে কংগ্রেসে বিল তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই বিলের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন থাকবে। তিনি দুই রকম প্রস্তাব তোলার কথা বলেন। একটি রক্ষণশীলদের জন্য, অন্যটি উদারপন্থীদের জন্য। এ সময় তিনি বারবার মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। মেক্সিকোর অর্থায়নে এ দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনার কথা দীর্ঘদিন থেকেই বলছেন ট্রাম্প।

এ সময় ট্রাম্প আরো উল্লেখ করেন, আইনানুসারেই মা-বাবার কাছ থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। আইনে ফাঁকফোকর থেকে যাওয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটছে। তিনি নিজেও এর পক্ষে নন। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা ট্রাম্পের আছে। তিনি চাইলেই নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনতে পারেন। অতীতে তিনি এই ক্ষমতার প্রয়োগও করেছেন, এফবিআইয়ের প্রধানের পদ থেকে জেমস কমিকে বরখাস্ত করে। সম্প্রতি তিনি এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন যে নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে যে তদন্ত চলছে তাতে যদি প্রয়োজন হয় নিজেকে ক্ষমা করে দিতেও নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগ করবেন তিনি।

তবে শিশুদের বিচ্ছিন্ন বন্ধের পদক্ষেপ নিতে চাইছেন না ট্রাম্প। তিনি স্পষ্টই ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ সংকট নিরসনে তিনি প্রতিদান চান। শুরু থেকেই তিনি নিজের অকার্যকর থাকার জন্য ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করছেন। তাঁর প্রশাসনের তরফ থেকেও বারবারই এ নিয়ে জোর দেওয়া হয়েছে, প্রেসিডেন্ট যা করছেন তা তাঁর পূর্বসূরির (সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা) তৈরি করে যাওয়া আইন।  সূত্র : সিএনএন, এএফপি।

 

 



মন্তব্য