kalerkantho


ঢাকার অতিথি

এদেশে বাণিজ্যের পরিসর ক্রমেই বাড়ছে

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



এদেশে বাণিজ্যের পরিসর ক্রমেই বাড়ছে

মেধাপাচারের দিক থেকে বাংলাদেশ এগিয়ে! রাষ্ট্রের অতি মূল্যবান অর্থে তারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে উন্নত দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। এদের অনেকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও কোনো অবদান রাখে না। অন্যদিকে গরিব শ্রমিকরা সে তুলনায় অনেক বেশি অবদান রাখে

শ্রীলঙ্কার নাগরিক দানুশা গুনাওয়ার্দেনা। ২০১৩ সাল থেকে ডিএসভি এয়ার অ্যান্ড সি লিমিটেড নামের ফ্রেইট ফরওয়ার্ড কম্পানির কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে বাংলাদেশে কর্মরত।

এ দেশে তাঁর যাপিত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা পাঠকের কাছে তুলে ধরেছেন হোসাইন মোহাম্মদ জাকি

 

বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গিয়ে দানুশা কতটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে জানান, ‘ফ্রেইট ফরওয়ার্ড কম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাকে কাজ করতে হয়। অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও বাংলাদেশে কাজ করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সুবিধাও রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি তথা এদেশে বাণিজ্যের পরিসর ক্রমেই বাড়ছে। সে ক্ষেত্রে বিমানবন্দর ও সি-পোর্ট প্রতিযোগিতামূলকভাবে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অবস্থান বজায় রাখার জন্য এখনো যথেষ্ট উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে। শ্রীলঙ্কা থেকে এ দেশে এসে আমার কখনো মনে হয়নি যে আমি ভিন্ন সাংস্কৃতিক বলয়ে চলে এসেছি। বিশেষ করে এখানকার মানুষ প্রাণবন্ত ও বন্ধুবৎসল। ’

এ দেশে এসে খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না এমনটা জানতে চাইলে দানুশার সপ্রতিভ উত্তর ছিল, ‘একজন নিরামিষভোজী হিসেবে ভিন্ন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। আমাদের দেশে কোকোনাট মিল্কের পর্যাপ্ততার কারণে আমরা রান্নায় তেলের পরিবর্তে কোকোনাট মিল্ক ব্যবহার করি। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় পেঁপে, কলাসহ অনেক সবজির ফলন একই ধরনের।

মৌসুমে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ আমের সমারোহ, স্বাদ ও ভিন্ন ভিন্ন ধরন আমাকে মুগ্ধ করেছে। লিচুর স্বাদ এখনো জিবে লেগে আছে। ’

অন্যদিকে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে দানুশা বলেন, ‘যেকোনো বড় শহরেই ট্রাফিক জ্যাম একটা সমস্যা। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে এখানে ট্রাফিক আইন মানার ব্যাপারে চালকদের মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড উদাসীনতা। যত্রতত্র গাড়ি পার্ক করে রাখা, ট্র্যাফিক নিয়ম না মানা এদের বোধ করি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘনের জন্য শাস্তিও তেমন দৃশ্যমান নয়। রাস্তাঘাটের সর্বত্রই তাই ট্রাফিক আইন ভাঙার ব্যাপারে প্রতিযোগিতা দেখা যায়।

এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা কোস্টাল এরিয়া হওয়ার কারণে সেখানকার তুলনায় বাংলাদেশে শীতকাল অনেক বেশি উপভোগ্য। তবে বোধ করি গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশের আবহাওয়া ক্রমেই অনেক উষ্ণ হয়েছে। শীতের সময়কাল হ্রাস পেয়েছে। শ্রীলঙ্কায়ও শীতকালটা উপভোগ্য। তবে সেটি শুধু সেখানকার পাহাড়ি জনপদে। উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের জনগণকেই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মনে হয়েছে। ’

পর্যটন স্থানগুলো দেখার সুযোগ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তাঁর অভিমত ছিল, ‘সিলেট, কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিনস ও বান্দরবান ঘুরে বেড়িয়েছি। খুব ভালো লেগেছে। তবে ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে আরো উন্নতির সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে অসাধারণ কক্সবাজার বিচটি বেশ অপরিচ্ছন্ন মনে হয়েছে। ’ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে মেধাপাচারের হার নিয়ে দানুশা বেশ চিন্তিত। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি মেধাপাচারের দিক থেকে বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে! রাষ্ট্রের অতি মূল্যবান অর্থে তারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে উন্নত দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। এদের অনেকে এমনকি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও কোনো অবদান রাখে না। অথচ অন্যদিকে গরিব শ্রমিকরা সেই তুলনায় অনেক বেশি অবদান রাখে। এটা কখনোই কাম্য নয়। ’

উপমহাদেশের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় শিক্ষার হার বেশ ঈর্ষণীয়। এই সফলতার পেছনের কারণ কী বলে মনে করেন? এ প্রশ্নের উত্তরে দানুশা জানান, ‘শিক্ষাব্যবস্থাটা এমনভাবে করা হয়েছে যে গ্রেড টেন পড়ার পর কেউ অকৃতকার্য হলে বা অনিচ্ছুক হলে তার জন্য কারিগরি শিক্ষার দ্বার খোলা। গ্রেড থার্টিন পর্যন্ত শিক্ষা বাধ্যতামূলক। শ্রীলঙ্কায় শিশু শ্রমিক সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। যেটা আইনের চেয়েও অনেক শক্তিশালী। ফলে গ্রেড টেন পর্যন্ত ঝরে পড়ার হার নেই বললেই চলে। শিক্ষাসংক্রান্ত এই আইন শুধু কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ নয়। এ ব্যাপারে রাষ্ট্র খুবই আন্তরিক। ’


মন্তব্য