kalerkantho


সবার মধ্যেই আইন মানার মানসিকতা থাকতে হবে

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সবার মধ্যেই আইন মানার মানসিকতা থাকতে হবে

মডেল ও অভিনেত্রী বৃষ্টি ইসলাম। এই ঢাকা শহরেই তাঁর বেড়ে ওঠা।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখেছেন ঢাকার নানা পরিবর্তন। ঢাকাকে নিয়ে তিনি যেমন আশাবাদী, তেমনি কিছু আক্ষেপও রয়েছে তাঁর। সেই সব কথকতা বলেছেন তিনি আর তুলে ধরেছেন মীর রাকিব হাসান

 

জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়। প্রশ্ন ছিল—বেড়ে ওঠার সঙ্গে ঢাকার পরিবর্তনগুলো কিভাবে চোখে লেগে আছে? ‘এটা তো সবারই জানা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরের এক পরিবেশ আর বাইরে আরেক পরিবেশ। ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে খুব বেশি পরিবর্তন চোখে পড়ছে না; কিন্তু বাইরে তো অনেক পরিবর্তন। আমাদের ছোটবেলায় এত জ্যাম ছিল না। জ্যামের উদ্ভবটা কিন্তু খুব বেশিদিন আগের নয়! জ্যাম ছিল, সেটা বলার মতো কিছু নয়। শহরে এত এত বিল্ডিং ছিল না। বড় মার্কেট ছিল হাতে গোনা কয়েকটি।

প্রায় সবার চোখেই এসব পরিবর্তন চোখে পড়বে। ’ বললেন বৃষ্টি।

সেই সময়ে গলফ গার্ডেনটা ছিল তাঁর প্রিয় স্থান। ছুটির দিনে বাবার সঙ্গে সেখানে নিয়মিত যাওয়া হতো। এ ছাড়া চিড়িয়াখানা কিংবা জাদুঘরের মতো স্থানগুলোতেও মাঝেমধ্যে যাওয়া হতো, ‘আসলে তখনকার সময়ে বিনোদনের জায়গা খুব কম ছিল; কিন্তু সব জায়গাই ছিল উপভোগ্য। হয়তো একই জায়গায় বারবার যেতাম। তবু পুরনো মনে হতো না। আমরা খোলা আকাশ পেয়েছি। এখনকার শিশুরা তো খোলা জায়গা খুব একটা পায় না। রেস্টুরেন্ট, মার্কেটের মধ্যে সংকুচিত খেলার স্থান। আগের মতো মহল্লায় মহল্লায় বড় বড় মাঠ দেখতে পাওয়া যায় না। ভার্চুয়াল জগৎ বড় হলেও প্রাকৃতিক জগত্টা ছোট হয়ে এসেছে। আমরা অনেক নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে বড় হয়েছি সত্য, কিন্তু জগত্টা অনেক বড় মনে হতো। সেই জগত্টা প্রতিনিয়ত খুব ছোট হয়ে আসছে। নির্দিষ্ট কিছু জায়গার মধ্যেই আমরা বন্দি হয়ে যাচ্ছি। ’ বললেন তিনি।

ঢাকাকে কতটা ভালোবাসেন? ‘ঢাকার বাইরে জোর করেও আমাকে এক সপ্তাহ রাখতে পারবেন না। ঢাকা যেমনই হোক; এটাই আমার প্রাণের শহর। আমরা যখন দেশের বাইরে যাই, গোছালো শহরগুলোর দিকে তাকালে মন ভরে যায়। তখনো কিন্তু ঢাকাকে মিস করি। ভাবি, ইস, আমার ঢাকায়ও যদি এটা থাকত, ওটা থাকত। তবু সেসব শহর তো আমার নয়। এই ঢাকা আমার, এটাতেই ভালো থাকতে হবে, এটাকেই ভালো রাখতে হবে। একটা ব্যাপার খারাপ লাগে, ঢাকা শহরটা এত ব্যস্ত না হয়ে আরো দর্শনীয় হয়ে উঠতে পারত। আজ থেকে ২০ বছর আগেও ঢাকার একটা শান্ত পরিবেশ ছিল। বছরের পর বছর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে ঢাকা। ফলে আমি বলব, ইচ্ছা করেই ঢাকাকে যানজটের শহর বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন প্রাণ ভরে একটু নিঃশ্বাস নেওয়ারও জো নেই। বসবাসের সবচেয়ে অনুপযোগী শহর বলা হয় ঢাকাকে। পুরান ঢাকায় পুরনো স্থাপত্যের সব বাড়িঘর দেখা যায়। এগুলো আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্যের অংশ। এগুলো নির্বাচন করে সংরক্ষণ করা উচিত। ঢাকাকে আধুনিকায়ন করতে হবে, সেই সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে ঢাকার ঐতিহ্যকেও রক্ষা করতে হবে; কিন্তু আমি অন্তত প্রশাসনিকভাবে সেসবের কার্যকর পদক্ষেপ দেখি না, এমনকি আমরা পরিবর্তনের জোয়ারে আগেকার দিনের ফার্নিচারও বিক্রি করে দিই বা নষ্ট করে ফেলি। প্রতিদিন প্রাণহীন নতুনের ভিড়ে পুরনোকে হারাই, ঐতিহ্যকে হারাই। ’ বললেন তিনি।

এর থেকে উত্তরণের পথ কী? প্রশ্ন রাখলে বৃষ্টি বলেন, ‘আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। সবাইকে নিয়ম-নীতি মানতে হবে। সবার মধ্যেই আইন মানার মানসিকতা থাকতে হবে, এমনকি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ ঘটাতে হবে। ক্যান্টনমেন্টের ভেতরের পরিবেশ এত ভালো থাকে কিভাবে? সেখানে আইনটা খুব কড়াকড়িভাবে মানতে হয়। সবচেয়ে বড় কথা মানুষের কিন্তু অভ্যাস হয়ে গেছে। ওখানে ঢুকলেই সব আক্কেল চলে আসে, বাইরে গেলে আবার সব ভুলে যায়। ভাবে কোনো নিয়ম ভাঙার মধ্যেই হয়তো মহত্ত্ব। ঢাকা আমাদের শহর, আমাদের মতো করে আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। ’


মন্তব্য