kalerkantho


‘বিশুদ্ধ জারের পানি’ কতটা বিশুদ্ধ?

বলা হয়, পানির অপর নাম জীবন। ঢাকার নাগরিক জীবনে বেঁচে থাকার জন্য সেই পানির একটি ফোঁটাও মেলে না বিনা মূল্যে। তাই সাধারণ মানুষ খুঁজে ফেরেন কম মূল্যের সুপেয় পানি। ঘরে ওয়াসার লাইনের পানি ফুটিয়ে পান করেন তাঁরা। বাইরে তাঁদের ভরসা ‘ফিল্টার্ড পানি’। জারে সরবরাহ করা এই পানি আসলেই কি নিরাপদ? খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেল ভয়ংকর সব তথ্য। সবিস্তারে জানাচ্ছেন এস এম আজাদ

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘বিশুদ্ধ জারের পানি’ কতটা বিশুদ্ধ?

৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বিএসটিআই ও র‌্যাবের অভিযানে একাধিক পানির কারখানায় পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ জার। পরে সেগুলো নষ্ট করা হয়। ছবি : লুৎফর রহমান

রাজধানীর মতিঝিলের ফুটপাতের একটি দোকানে চা পান করছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রাশেদুল ইসলাম। এর আগে জার থেকে এক গ্লাস পানি পান করে নিয়েছেন তিনি। এই পানি কতটুকু নিরাপদ, আপনি জানেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘এটা ফিল্টার করা। ওরা তো ভালোই বলে। তবে ইদানীং তো অনেক কথাই শুনছি। কিন্তু কিছু করার নেই। বাইরে থাকলে খেতেই হয়!’ ফার্মগেটের একটি রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার শেষে গ্লাসে সরবরাহ করা জারের পানি পান করছিলেন তেজগাঁও কলেজের ছাত্র আবদুল মতিন সুজন। একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘খাবারের সঙ্গে পানি দিলে টাকা রাখে না। আর ছোট এক বোতল পানি ১৫ টাকা। তাই খাই। এসব পানি কোত্থেকে কিভাবে আনে আল্লাহ মালুম!’

পল্টন মোড়ের চা দোকানদার এরশাদ আলী জারের ফিল্টার করা পানি প্রতি গ্লাস এক টাকায় বিক্রি করেন। তাঁর কাছেও জানতে চাওয়া হয়, জারের পানি কতটুকু নিরাপদ। এরশাদ বলেন, ‘আমরা তো প্রতিটি জার ৩০ টাকা করে কিনি। বিভিন্ন কম্পানি পানি নিরাপদ বলে আমাদের দোকানে দিয়ে যায়। আমরাও সরল বিশ্বাসে এসব কিনে নিই। কাস্টমারও সরল বিশ্বাসে খায়। আদৌ বিশুদ্ধ কি না আমি তো বলতে পারব না।’

কাকরাইলে টং দোকানে বিস্কুট খেয়ে চা পান করলেও পানি পান করলেন না পার্শ্ববর্তী ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জারের পানি নিয়ে ডাউট (সন্দেহ) আছে। আসলেই ফিল্টার করা কি না কে জানে! এ কারণে না খাওয়ারই চেষ্টা করি।’

গত সপ্তাহে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় এভাবেই অনেকের কাছে জারের পানির ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। এতে দেখা গেছে, বেশির ভাগ মানুষই জারের পানি নিয়ে সংশয়ে আছেন। তবে দোকান বা রেস্টুরেন্টে দেদার বিক্রি হচ্ছে জারের পানি। পথচারী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থীসহ নিম্ন-আয়ের মানুষই বেশি জারের পানি পান করছেন। সন্দেহ থাকলেও কারোই স্পষ্টভাবে জানা নেই, ফিল্টার করা পানি মনে করে যা পান করছেন তা নিরাপদ কি না। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই জারের পানির বেশির ভাগই সরাসরি ওয়াসার লাইন থেকে নেওয়া হচ্ছে। অথচ বাসায়ও এ পানি ফুটিয়ে ছাড়া কেউ পান করেন না। দিনের পর দিন অস্বাস্থ্যকর পানি সরবরাহের কারবার করে যাচ্ছেন কিছু অসৎ ব্যবসায়ী। মাঝেমধ্যে দু-একটি অভিযান চালানো হলেও পানির মান যাচাইয়ে নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ।

সম্প্রতি মিলেছে আরো ভয়ংকর তথ্য। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি), জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনে (বিএসটিআই) জারের পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। ২৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে বিএআরসির গবেষকরা জারের পানিতে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া পেয়েছেন। মানুষ ও প্রাণীর মলে এই জীবাণু থাকে। পানিতে টোটাল কলিফর্ম ও ফিকাল কলিফর্মের পরিমাণ শূন্য থাকার কথা থাকলেও ৯৭ শতাংশ জারের পানিতে দুটিরই উপস্থিতি রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অন্য দুই প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায়ও তথ্য মিলেছে, বেশির ভাগ জারের পানি ফিল্টার বা পরিশোধন করা হয় না। এতে রোগজীবাণু রয়েছে। এসব তথ্য পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বিএসটিআইয়ের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। মাঠে নেমেছেন র‌্যাব ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টরা রাস্তাঘাটে কথিত ফিল্টারের পানি পান না করারও পরামর্শ দিয়েছেন।

 

জারের পানিতে কলিফর্ম, রোগজীবাণু

বর্তমানে জারে করে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্তোরাঁ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দিচ্ছে পানি। বিএআরসি গবেষকরা রাজধানীর ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, এলিফ্যান্ট রোড, নিউ মার্কেট, চকবাজার, সদরঘাট, কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, বাসাবো, মালিবাগ, রামপুরা, মহাখালী, গুলশান, বনানী, উত্তরা, এয়ারপোর্ট, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গাবতলী, আমিনবাজার, আশুলিয়া ও সাভার থেকে জারের পানি নিয়ে গবেষণা করেন। ২৫০টি নমুনা নিয়ে এসজিএস ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, শত ভাগ জারের পানিতেই কলিফর্মের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব জারের প্রতি ১০০ মিলিলিটার পানিতে টোটাল কলিফর্মের মাত্রা ছিল ১৭ ও ১৬০০ মিলিলিটার এমপিএন (সর্বোচ্চ সম্ভাব্য সংখ্যা)। আর ১০০ মিলিলিটার পানিতে শুধু ফেক্যাল কলিফর্মের মাত্রা ছিল ১১ ও ২৮০ মিলিলিটার এমপিএন। বিএআরসির পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জারের পানিতে ক্ষতিকর মাত্রায় মানুষ ও প্রাণীর মলের জীবাণু টোটাল কলিফর্ম ও ফিকাল কলিফর্ম পাওয়া গেছে। এসবের পরিমাণ শূন্য থাকার কথা থাকলেও ৯৭ শতাংশ জারের পানিতে এ দুটিরই উপস্থিতি রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।’

 

লাইনের পানি সরাসরি জারে

র‌্যাব ও বিএসটিআই কর্মকর্তারা জানান, গবেষণায় পাওয়া তথ্যের পর মাঠে অভিযান চালিয়ে আরো ভয়াবহ চিত্র দেখছেন তাঁরা। ওয়াসার লাইনের পানি সরাসরি জারে ভরে বিক্রি করছেন অসাধু কারবারিরা। গত ২৮ জানুয়ারি মোহাম্মদপুরের চারটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে,  সেখানে পানি শোধনের যন্ত্রপাতি নেই। নেই কেমিস্টও। রিলেবল ড্রিংকিং ওয়াটার, সাফিয়া ড্রিংকিং ওয়াটার, স্বচ্ছ ড্রিংকিং ওয়াটার ও অন্তর ড্রিংকিং ওয়াটার নামের প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করে দেওয়া হয়। সেখান থেকে চার হাজার ৬০০ জার জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত বিএসটিআই অধ্যাদেশ ২০০৯ সালের ২৪/৩১(এ) ও ৪৫ ধারায় সাফিয়া ড্রিংকিং ওয়াটারের মালিক কাজি শাহজাহান ও ম্যানেজার নাছির উদ্দিনকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। রিলেবল ড্রিংকিং ওয়াটারের কর্মচারী বিল্লাল ও শাওনকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও  রাজিব সরকারকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।

৪ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ উপায়ে দূষিত পানি জারে ভরে বিক্রি, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বিএসটিআইয়ের সনদ না থাকাসহ আরো অনেক কারণে পৌনে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনটি প্রতিষ্ঠানের ছয়জনকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ হাজার ২০০ খালি জার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এন এম এন্টারপ্রাইজ, আর আর এন্টারপ্রাইজ, সিকদার ড্রিংকিং ওয়াটার, রূপালী ফ্রেশ ড্রিংকিং ওয়াটার, স্বচ্ছ ড্রিংকিং ওয়াটার ও কহিনুর ড্রিংকিং ওয়াটার। 

এদিকে সদরঘাট, কমলাপুর, মহাখালীসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় নামি ব্র্যান্ডের পানির খালি বোতলে ওয়াসার লাইনের পানি ঢুকিয়ে বাজারে বিক্রি করছে একটি চক্র। কথিত ফিল্টার প্রতিষ্ঠান থেকেই এগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘কোনো ধরনের প্রক্রিয়া ছাড়াই ওয়াসার পানি জারে ঢুকিয়ে বাজারে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানেই পানি বিশুদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুদ্ধ নয়। এর আগে বাড্ডা, মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়েও মিলেছে একই চিত্র।’ বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক এস এম আবু সাঈদ বলেন, ‘লাইনের পানি ভরে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পানি সরবরাহ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পরীক্ষার পর তথ্য পেয়ে আমরা ধারাবাহিক অভিযান শুরু করেছি।’

 

জারের পানিতে ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুঁকি

বিএআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়, কলিফর্ম মূলত বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী প্যাথোজেন, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্রোটোজোয়া সৃষ্টিতে উৎকাহ জোগায় বা সৃষ্টি করে। কলিফর্ম বিভিন্ন উপসর্গ ছাড়াও ক্রমাগত মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, জারের পানিতে বেশি মাত্রায় আছে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া। এই পানি পান করার ফলে সাধারণ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছেন। কলিফর্ম গোত্রের অণুজীব মানবদেহে দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, মাথা ব্যথা, বমিভাব, পেট ব্যথা, জ্বর-ঠাণ্ডা, বমির মতো নানা উপসর্গ সৃষ্টির পাশাপাশি ক্রমাগত মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এই রোগের কারণে ক্রমান্বয়ে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হয়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে কিডনিতে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। তাই এসব পানি পান থেকে বিরত থেকে ফোটানো পানি পানের পরামর্শ দেন তাঁরা।

 

পরীক্ষা, লাইসেন্সের বালাই নেই

সূত্র জানায়, ঢাকা শহরের অলিগলিতে তৈরি করা জারের পানি সরবরাহ করা প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগেরই নেই লাইসেন্স। সেখানে পানির মান পরীক্ষা হয় কি না তা দেখারও ব্যবস্থা নেই। অভিযান পরিচালনাকারীরা বলছেন, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগেরই বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স নেই। কোথাও লাইসেন্স থাকলেও শর্ত অনুযায়ী পানি পরীক্ষা করা হয় না। সূত্র জানায়, পানি বাজারজাত করার ক্ষেত্রে ওই বিএসটিআইয়ের কিছু নির্ধারিত মাত্রা আছে। যাকে বলা হয় বিডিএস (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস)। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান মনগড়াভাবে উপাদানগুলোর মাত্রা বা পরিমাণ বোতলের গায়ে উল্লেখ করেছে। জারের গায়ে খনিজ উপাদানের উপস্থিতি বা গুণগত মান সম্পর্কিত কোনো লেবেলই থাকে না। ফলে পানির গুণাগুণ সম্পর্কে কোনো তথ্যই পান না ভোক্তারা।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ‘পানির ব্যবসা যারা করছে, তাদের বেশি ভাগই প্রতারক। তারা আসলে ওয়াসার লাইনের পানি দিচ্ছে। সেখানে তাদের কাছে উন্নতমানের সেবা পাওয়ার আশাটা দুরাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা জরুরি।’

বিএসটিআইয়ের পরিচালক এস এম ইসহাক আলী বলেন, ‘১৯৯টি পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে জার ১৬৫টি ও বোতল ৩৪টি। নির্দিষ্ট মানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক একটি মান আছে আইএসও-১৭৬৫, এটি অনুসরণ করেই আমরা লাইসেন্স দিয়ে থাকি। তাদের দক্ষ জনবল ও ল্যাবরেটরি আছে কি না সব যাচাই-বাছাই করে তবেই দেওয়া হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স নেই, সেগুলো শনাক্ত করতে অভিযান চলছে। আর যেগুলোর লাইসেন্স আছে, সেখানে পানির নিয়মতান্ত্রিক পরীক্ষা হয় কি না তা-ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

 

মানহীন প্রতিষ্ঠানের তথ্য পেলেই অভিযান

সারোয়ার আলম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, র‌্যাব

 

কিছু অসাধু ব্যক্তি বিশুদ্ধ পানির নামে প্রতারণার ব্যবসা শুরু করেছে। বিএআরসি, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। টোটাল কলিফর্ম ও ফিকাল কলিফর্মের পাশাপাশি এসব পানির পিএইচ, টিডিএস, সিসার মানও ঝুঁকিপূর্ণ। ১২টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে, এর ১১টিই সরাসরি ওয়াসার পানি জারে ভরে দিচ্ছে। একটি প্রতিষ্ঠান ডিপ টিউবওলের পানি দিচ্ছে। কোথাও পানির মান পরীক্ষার প্যারামিটার নেই। জার ফুটগ্রেড নয়। অস্বাস্থ্যকর-নোংরা পরিবেশে পানি ভরা হচ্ছে। ময়লা ড্রামের মধ্যে পানি ভরা আর আর ড্রিংকিং ওয়াটার নামে একটি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্য মেলার বেশির ভাগ পানি সরবরাহ করেছিল। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেরই লাইসেন্স নেই। প্রায় সাত মাস ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বন্ধ ছিল। এখন র‌্যাব, জেলা প্রশাসন ও এপিবিএনকে নিয়ে অভিযানে নামছে বিএসটিআই। কোথাও মানহীন প্রতিষ্ঠানের তথ্য পেলেই অভিযান চলবে।

 


মন্তব্য