kalerkantho


ঢাকার অতিথি

নৈঃশব্দ্যকে বুঝতে হলে নৈঃশব্দ্য দিয়েই বুঝতে হয়!

চীনা নাগরিক ফঙজেল দুয়ান। সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। ঢাকাসহ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



নৈঃশব্দ্যকে বুঝতে হলে নৈঃশব্দ্য দিয়েই বুঝতে হয়!

বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করেই সেটা টের পেয়েছি। অনেক লোকের সমাগম। আর বিরক্তিকর ট্রাফিক জ্যাম। তাই বলে এতটা বিরক্তিকর ভাবতে পারিনি। অন্যদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গ্রাম বাংলা। আসলে বাংলাদেশ যতটা সুন্দর, ঢাকা ঠিক তার বিপরীত।

 

‘সবুজ বাংলাদেশ, চোখ ভরে দেখার মতো’—বললেন চীন দেশের ২৯ বছর বয়সী যুবক দুয়ান। পুরো নাম ফঙজেল দুয়ান। পড়াশোনার ফাঁকে সময় পেলেই বেরিয়ে পড়েন বিশ্বভ্রমণে। বাংলাদেশেও এসেছিলেন ভ্রমণ করতে। গিয়েছিলেন সিলেটের চা বাগানে। সেখানকার অপার সবুজ তাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, ‘চীনের সবুজ আর বাংলাদেশের সবুজ এক নয়।’ তাহলে পার্থক্যটা কেমন জানতে চাইলে দুয়ান বলেন, ‘সেটা ঠিক বলতে পারছি না। তবে দুটো সবুজই ভালো লাগার মতো। একটা আমার মাতৃভূমির, আরেকটা আপনাদের মাতৃভূমির। এখানকার সবুজ কেমন জানি কাছে টেনে নেয়। দৃশ্যত এই সবুজের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আসলে ভাষায় তো আর সব কিছু বোঝানো যায় না, নৈঃশব্দ্যকে বুঝতে হলে নৈঃশব্দ্য দিয়েই বুঝতে হয়!’

শ্রীমঙ্গল গিয়েছিলেন? ‘অবশ্যই, সিলেট যাওয়া মানে তো অবশ্যই শ্রীমঙ্গল যেতে হয়। শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া বর্ষাবন সবাইকে আকর্ষণ করে। বাংলাদেশে আসার আগে এই বন সম্পর্কে একটু পড়ালেখা করেছিলাম, ভিডিও দেখেছিলাম। এখানে অনেক বিরল প্রাণী আছে। শুনেছি বিরল প্রজাতির উল্লুকও আছে এই বর্ষাবনে।’

উল্লুকের দেখা পেয়েছিলেন? ‘না, সে ভাগ্য হয়নি। এরা মগডালে থাকে, সহজে দেখা দেয় না। কোলাহল এদের পছন্দ নয়। লাউয়াছড়া বনের ট্রেলগুলোতে অনেক কোলাহল দেখলাম। যেগুলো বন্য প্রাণীর ক্ষতি করবে। কোলাহলের মধ্যে বাঁদরামি করা যাদের স্বভাব, সেই বানররাও আসতে চায় না। তবে কিছু বানরকে দেখলাম মানুষের মধ্য দিয়েই চলাফেরা করে। এরা মানুষ দেখে দাঁত ভেঙচায়।’

লাউয়াছড়া বনের ব্যাপারে যতটুকু জেনে এসেছিলেন, দেখে কেমন মনে হলো? ‘জেনেছিলাম এখানে বিরল প্রজাতির সাপ আছে, পাখি আছে, আর উল্লুক আছে। অল্প সময়ের মধ্যে তো সব দেখা সম্ভব নয়। উল্লুকের দেখা পেতে হলে ওত পেতে থাকতে হয়। আমার হাতে তেমন সময় ছিল না। তবে সাপ দেখেছি কিছু। আর পাখির কিচিরমিচির ছিল চমৎকার। আর হ্যাঁ, পাখির কিচিরমিচিরের সঙ্গে দিনের বেলায় মানুষের কিচিরমিচিরও ব্যাপক ছিল। আর ট্রেইলগুলোর আশপাশে ছিল অনেক ময়লা। আমার মনে হয়, এসব ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত। বন্য সম্পদ রক্ষা করতে হবে।’

শ্রীমঙ্গলে কিভাবে গিয়েছিলেন? ‘ট্রেনে চড়ে। বাংলাদেশের ট্রেন-ভ্রমণ উপভোগ করেছি। লোকের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিতে দিতে গিয়েছি।’ আর বাস ভ্রমণ কেমন ছিল? ‘ঢাকার বাইরে বাস ভ্রমণও খারাপ ছিল না। তবে ঢাকার ভেতরের বাসগুলো একেবারে মগজ পর্যন্ত গলিয়ে দিয়েছে। এই শহরটা এত গিজগিজে কেন!’ এর আগে ঢাকার ব্যাপারে জানতেন না? ‘শুনেছিলাম, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করেই সেটা টের পেয়েছি। অনেক লোকের সমাগম। আর বিরক্তিকর ট্রাফিক জ্যাম। তাই বলে এতটা বিরক্তিকর ভাবতে পারিনি। অন্যদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গ্রাম বাংলা। আসলে বাংলাদেশ যতটা সুন্দর, ঢাকা ঠিক তার বিপরীত।’ বাংলাদেশকে কেন সুন্দর মনে হলো? ‘শুরুতেই বলেছি, এখানকার সবুজ সুন্দর। বাংলাদেশের মানুষ সুন্দর। মানুষের মন সুন্দর। সবাই খুব দ্রুতই কাছে টেনে নেয়। আর সবাই খুব আমুদে।’

দুয়ান জানালেন, অনেকেই তার নাম জানতে চেয়েছে, কিন্তু বেশির ভাগ লোকই বুঝতে পারেনি। আর তিনিও অনেক বাংলাদেশির নাম বুঝতে পারেননি। এই নাম বুঝতে পারা, না-পারার পরিস্থিতিও তিনি উপভোগ করেছেন। তিনি বললেন, ‘নামের মধ্যে মানুষ লুকিয়ে থাকে না, মানুষ থাকে তার মনুষ্যত্বে।’


মন্তব্য