kalerkantho


তরুণরাই পারে ঢাকা রক্ষা করতে

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



তরুণরাই পারে ঢাকা রক্ষা করতে

জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী পিয়া বিপাশা। এই ঢাকায়ই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ঢাকা নিয়ে জমানো হরেক রকম স্মৃতি, অভিযোগ আর ভালোবাসার গল্প বলেছেন তিনি। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

 

বেড়ে উঠেছেন ঢাকার ইস্কাটনে। এই চত্বরের স্কুল-কলেজেই পড়াশোনা করেছেন। শৈশবের সেসব দিন কেমন ছিল জানতে চাইলে পিয়া বলেন, ‘সবার শৈশবটাই স্বপ্নের মতো থাকে। আমার শৈশবও তেমটাই ছিল। আমার ছোটবেলার ঢাকা ছিল অনেক ছিমছাম। এত ঘিঞ্জি ভবন আর সরু গলির মহল্লা ছিল না! ঢাকার বেশির ভাগ এলাকায় খোলা মাঠ, ছোট-বড় পার্ক ছিল। একটা খোলামেলা পরিবেশ ছিল। এখন সেসব মাঠ, পার্ক দখল হয়ে গেছে। এখনকার মতো মোড়ে মোড়ে এত শপিং মল ছিল না। আর একটা ব্যাপার ছিল, মানুষের এত হরেক রকম ফ্যাশনও ছিল না। আমরাও সাদামাটাভাবে চলতে পছন্দ করতাম। বাসা থেকে বাইরে বের হতাম স্কুল-কলেজের জন্য। এ ছাড়া তেমন বের হওয়া হতো না। আমাদের চারপাশের সব মেয়ের বেলায়ই এমনটা ছিল। সেদিক থেকে বলা যায় আমাদের শৈশবের সামাজিক পরিবেশটা অনেক বেশি কনজারভেটিভ ছিল।’

শিল্প-সাংস্কৃতিক পরিবেশ হিসেবে তখন ইস্কাটন-মালিবাগ-কাকরাইল এলাকাটি বেশ আলোচিত ছিল। শোবিজ আসার সঙ্গে কি এই এলাকার সাংস্কৃতিক পরিবেশ ভূমিকা রেখেছে? ‘অতটা না। তবে আমাদের সঙ্গে অনেক স্টারের দেখা হতো। এটা বেশ মজার ছিল। রাস্তায় কোনো তারকাকে দেখলে বাসায় এসে গল্প করতাম। এগুলো বেশ এক্সাইটেড ব্যাপার ছিল। তা ছাড়া আগে বাংলাদেশের শোবিজে যাঁরা কাজ করতেন, তাঁরাই নতুন নতুন ফ্যাশন নিয়ে আসতেন। নায়ক-নায়িকাদের মতো করে আমরা জামা-কাপড় বানানোর চেষ্টা করতাম। এই যে মৌসুমী আপু, শাবনুর আপু—তাঁদের অনেক বড় ফ্যান ছিলাম আমি। এখনকার সময়ে এই বিষয়টি তেমন একটা দেখা যায় না।’

একটা সময়ে ইস্কাটন ছেড়ে তাঁরা বসুন্ধরায় চলে আসেন। শৈশবের বেড়ে ওঠা এলাকাটি ছেড়ে আসার অনুভূতি বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ওখানে সবাই সবার পরিচিত ছিলাম। কিন্তু বসুন্ধরায় এসে অন্য এক পৃথিবী পেয়েছি। আত্মার আত্মীয়তা কমে গেল হুট করে। হয়তো যেকোনো সময় ইস্কাটনে যাওয়া যায়, কিন্তু এখন সেখানে গেলে নিজেকে আগন্তুক মনে হয়। যা হোক, এখানে যে যার মতো ব্যস্ত। একই বিল্ডিংয়ের সবাইকে চিনিও না। কেউ কাউকে পাত্তাও দেয় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সামাজিক বন্ধনটা আলগা হয়ে যাচ্ছে। কেমন জানি হৃদ্যতাহীন হয়ে পড়ছে। প্রতিবেশীর সঙ্গে আন্তরিকতার বন্ধনটা নেই বললেই চলে।’

একটি শহরে অনেক সমস্যাই থাকতে পারে। পৃথিবীর বড় সব শহরেই আছে। তবু ঢাকার জ্যামটা যেন সহ্যের বাইরেই চলে যাচ্ছে। আপনার কাছে কী মনে হয়? ‘আমরা সবাই চাই ঢাকার পরিবর্তন। কিন্তু ঢাকার পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন একটি পরিকল্পিত নগরায়ণ। আর এই পরিবর্তনের জন্য যেমন সরকারের ভূমিকা জরুরি, তেমনি সাধারণ মানুষ যারা ঢাকায় থাকে, তাদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। ধরুন বছরজুড়েই নানা ধরনের লোক আসছে ঢাকায়। তাদের মধ্যে একটি অংশ তরুণ। তারা সব সময় চিন্তা করে, তারা ঢাকায়ই কোনো একটা কিছু করবে। এখানেই থেকে যাবে। এটা সরকারের বোঝা উচিত। সম্ভাব্য ইন্ড্রাস্ট্রিগুলোকে ঢাকার বাইরে স্থানান্তর করতে হবে। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার বাইরে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মূল কথা, ঢাকার সুযোগ-সুবিধাগুলো যথাসম্ভব ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দিতে হবে। এতে ঢাকার ওপর চাপ কমবে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। এই তরুণদের সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। স্বপ্ন দেখি এমন একটি ঢাকার, যেখানে সাধারণ জনগণের হাঁটার রাস্তা আরো বেশি প্রশস্ত হবে। মানুষের মধ্যে হাঁটার অভ্যাস তৈরি হবে। পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ব্যবহার বাড়বে। এই স্বপ্ন প্রত্যেক ঢাকাবাসীর এবং এর জন্য আমাদেরই কাজ করতে হবে। আমাদের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণদের ঢাকাকে সুন্দর রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। তরুণরাই পারে ঢাকা রক্ষা করতে। পাশাপাশি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকার রাখতে পারে।’


মন্তব্য