kalerkantho


গুলেন ব্যারি সিনড্রোমে অকুপেশনাল থেরাপি

রাবেয়া ফেরদৌস   

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশে গুলেন ব্যারি সিনড্রোমে (জিবিএস) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যেকোনো বয়সেই জিবিএস হতে পারে। তবে ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সের মানুষ এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এটি একটি বিরল রোগ, যেটি শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী স্নায়ুকোষগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। এতে শরীরের মাংশপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।

 

কারণ

জিবিএস কেন হয়, এর সঠিক কারণগুলো এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি। তবে ধারণা করা হয়, ফুসফুস বা পেটে সংক্রমণের কারণে এ রোগটি হতে পারে। ‘ক্যাম্পাইলো ব্যাকটর জেজুনি’ জীবাণুতে আক্রান্ত ডায়রিয়া রোগী বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে আক্রান্ত সর্দি-জ্বরের রোগীরা পরবর্তী পর্যায়ে জিবিএসে আক্রান্ত হয়। কখনো কখনো ভ্যাকসিন দেওয়ার পরও এ রোগ হতে পারে।

 

উপসর্গ

জিবিএসের প্রথম উপসর্গই শুরু হয় পা, পায়ের পাতা বা আঙুল ঝিমঝিমের মাধ্যমে। এ ছাড়া আরো কিছু উপসর্গ রয়েছে। যেমন :

♦ হাত ও পায়ের মাংশপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে।

♦ চোখের পেশি দুর্বল হয়।

♦ কথা বলতে ও গিলতে সমস্যা হয়।

♦ ঘাড়, পিঠ, কোমর ইত্যাদি জায়গায় ব্যথা থাকতে পারে।

♦ উপসর্গগুলো খুব দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অবস্থা গুরুতর আকার ধারণ করে।

 

চিকিৎসা

মূলত জিবিএস রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম বা এমডিটি টিম কাজ করে থাকে। এই টিমে থাকেন নিউরোলজিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট, সাইকোলজিস্ট, সোশ্যাল ওয়ার্কার, নার্স ও রোগীর পরিচর্যাকারী।

 

অকুপেশনাল থেরাপির গুরুত্ব

কোনো জিবিএস রোগী যখন অকুপেশনাল থেরাপিস্টের কাছে আসেন, তখন প্রথমেই তিনি রোগীকে অ্যাসেসমেন্ট করেন। এর মাধ্যমে রোগীর প্রকৃত সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব হয়। রোগীর সমস্যা অনুযায়ী অকুপেশনাল থেরাপিস্টরা যে চিকিৎসাসেবা রোগীকে দিয়ে থাকেন সেগুলো হলো—

♦ বিভিন্ন অবস্থায় যেমন হাঁটা, দাঁড়ানো, বসা এবং শোবার সময় রোগীর দেহের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে ধারণা দেওয়া ও দেখানো।

♦ বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে হাতের শক্তি বাড়ানো।

♦ নিজের কাজগুলো নিজে নিজে করার ট্রেনিং দেওয়া।

♦ কলম ধরে সঠিকভাবে লেখার পদ্ধতি শেখানো।

♦ হাতের অবস্থান ঠিক রাখার জন্য সহায়ক উপকরণ দেওয়া।

♦ হাঁটার সময় পায়ের সঠিক অবস্থান ধরে রাখার জন্য সহায়ক উপকরণ দেওয়া

♦ রোগীকে সঠিকভাবে দাঁড়িয়ে বা বসে কাজগুলো করার নিয়ম সম্পর্কে ট্রেনিং দেওয়া ইত্যাদি।

 

পরামর্শ

জিবিএস রোগী সঠিকভাবে চিকিৎসা পেলে সুস্থ হতে পারে। এ জন্য রোগীকে পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত থেরাপি দেওয়া উচিত। এতেই রোগীর ধীরে ধীরে উন্নতি হবে।

অকুপেশনাল থেরাপি সম্পর্কে মানুষ এখনো সচেতন নয়। দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে অকুপেশনাল থেরাপিস্ট থাকলে জনগণ উপকৃত হবে এবং তাদের থেরাপির জন্য বিদেশে যেতে হবে না।

 

লেখক : অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতাল, ঢাকা।


মন্তব্য