kalerkantho


টিন তারকা

আঁখি ও রিতুর গল্প

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘আঁখি এবং আমরা কজন’ অবলম্বনে সিনেমা তৈরি করেছেন পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম। সেখানে আঁখি হয়েছিল জাহিন নাওয়ার হক ইশা আর তার বন্ধু রিতুর চরিত্রে ছিল জুয়ায়রিয়া আহমেদ প্রত্যাশা। দুজনের সঙ্গে কথা বলেছিল দলছুট

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আঁখি ও রিতুর গল্প

সিনেমার একটি দৃশ্যে আঁখি (ইশা) ও রিতু (প্রত্যাশা)। ছবি : সাদেক হোসাইন সনি

দলছুট : লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন!

ইশা—মা! মা! আমি জিপিএ সিক্স পেয়েছি!

প্রত্যাশা—চৌধুরী সাহেব! আমি শিশু, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় নই!

দলছুট : ‘আঁখি ও তার বন্ধুরা’ মুক্তি পেল। তোমাদের চরিত্র সম্পর্কে জানতে চাই।

ইশা—আমার চরিত্রটি সাহসী একটা মেয়ের। অনেক অনুশীলন লেগেছে। ছয় মাস গ্রুমিং হয়েছিল। মোরশেদুল ইসলাম স্যার নিজে তা করিয়েছিলেন। মিরপুরে অন্ধদের স্কুলে গিয়েছিলাম। ওদের সঙ্গে সারা দিন ছিলাম। তা ছাড়া আঁখি লিড ক্যারেক্টারও। দায়িত্ব অনেক। তাই ভয় ছিল বেশি।

প্রত্যাশা—এই সিনেমায় আমি রিতু। রিতু সাপোর্টিং রোল। মেয়েটা হেলপফুল। শয়তানি, বাঁদরামি, ধুমধাড়াক্কায় ফার্স্টক্লাস। চরিত্রটার জন্য মোরশেদ স্যার অডিশনে আমাকে আর দ্রবন্তীকে (সিনেমার সুমি) তালিকায় রেখেছিলেন। কিন্তু দ্রবন্তী লাজুক হওয়ায় তার সঙ্গে রিতুর মিলছিল না। পরে আমি রিতু হই। কিছুদিন পর সুমি হয়ে দ্রবন্তী ফিরে আসে।

দলছুট : শুটিংয়ের মজার ঘটনা?

ইশা—মজার ঘটনা প্রচুর। একটা দৃশ্যে আর্মি সেজে কয়েকজনকে অভিনয় করতে হয়েছিল। ওই সময় আসল সেনা সদস্যরা ভাবছিলেন, ওই নকল আর্মি কারা? আর নকল আর্মিরা ভয় পেয়েছিল আসলদের দেখে।

প্রত্যাশা—প্রখর রোদে সাত চাড়া আর ক্রিকেট খেলেছি, ঝরনায় নেমেছি। ধকলের কারণে একবার জ্ঞানও হারাই। পরে আমাকে বান্দরবানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সারা রাত স্যালাইন চলেছে। পরদিন ডাক্তারের বারণ সত্ত্বেও শুটে যাই। হাতে তখনো ক্যানোলা। সেটি ক্যামেরার আড়ালে রেখে কাজ করেছি। আরেকটি ঘটনা হলো, এই ফিল্মে আমার একটা কান্নার সিন আছে। যেটা গ্লিসারিন ছাড়াই করেছি। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করার মতো! সেই মুহূর্তে সবার কমেন্টগুলো দারুণ লেগেছে।

দলছুট : এবার যদি হলিউড-বলিউড থেকে ডাক আসে?

প্রত্যাশা—সঙ্গে সঙ্গে স্পোকেন ইংলিশ কোর্সে ভর্তি হয়ে যাব! এমন সুযোগ কি আর হাতছাড়া করা যায়!

ইশা—আর আমি না হয় একটু হিন্দিই শিখলাম।

দলছুট : দৃশ্যে আছে, দোতলা থেকে লাফ দিতে হবে। দড়ি বা ফোমের বিছানা ছাড়া।

ইশা—নিজের একটা পুতুল বানাব। তারপর পরিচালককে বলব—ভাইয়া, লাফের দৃশ্যটি এই পুতুল দিয়ে করেন।

প্রত্যাশা—পরিচালককে বলব—ভাইয়া, আপনি আগে একটু দেখিয়ে দিন। তারপর ঠিকঠাক শট দেব।

দলছুট : কনকনে শীতে যদি সাঁতার কাটার দৃশ্য থাকে?

ইশা—সাঁতার আমার খুব প্রিয়। আমি একজন ভালো সাঁতারুও। মহিলা কমপ্লেক্সে শিখেছি। শীতে পুকুরে সাঁতার কাটতে মজাই লাগবে।

প্রত্যাশা—আগে অবশ্যই পুকুরটা চুলায় গরম করতে বলব! আর প্রতিটি ডায়ালগের পর ‘হাঁচ্চো!’ মেরে দেব!

দলছুট : কার অভিনয় ভালো লাগে?

প্রত্যাশা—দেশে তৌকীর আহমেদ, জাহিদ হাসান, মোশাররফ করিম, তিশা আর বিদ্যা সিনহা মিমের অভিনয় আমাকে মুগ্ধ করে। বাইরে রণবীর সিং, দীপিকা, এমা ওয়াটসন ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ভক্ত।

ইশা—দেশে আরেফিন শুভ আর তিশা আপু। বাইরে আমির খান আর দীপিকা পাড়ুকোন।

দলছুট : অভিনয়ের পাশাপাশি...?

প্রত্যাশা—আমি ভালো বাথরুম সিংগার। লেখালেখি করি। নাচতে খুবই ভালোবাসি। ডিবেটও করা হয়।

ইশা—নাচ করতে বেশি পছন্দ করি।

দলছুট : পড়াশোনা?

ইশা—সব কিছুর আগে পড়াশোনা। এরপর বাকি সব। মজার ব্যাপার হলো, অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পাওয়ার পর মা আমাকে সিনেমায় কাজ করার পারমিশন দেন।

প্রত্যাশা—যখন পড়তে বসি, মনোযোগটা ওই দিকেই থাকে। দুটিকে গুলিয়ে ফেলি না।

সাক্ষাত্কার নিয়েছেন জুবায়ের আহম্মেদ
 


মন্তব্য