kalerkantho


বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড

নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আবারও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে বিমানবন্দরের বহির্গমন কার্যক্রম প্রায় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল। দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে এমন আগুনের পেছনে কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিষয়টিই এখন সামনে চলে এসেছে। আবার এ ঘটনার পেছনে কোনো পক্ষের পরিকল্পনা রয়েছে এমন সন্দেহও অমূলক নয় বলে ধারণা করা যেতে পারে। ঘটনা তদন্তে আলাদাভাবে দুটি কমিটি করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস।

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর একটি উচ্চ নিরাপত্তা এলাকা। সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই বিমানবন্দর সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দেবে। এমনিতেই এই বিমানবন্দর নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ড নিরাপত্তার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিমান সংস্থার অফিস রয়েছে।

এর মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার অফিসটি পুড়ে গেছে। আগুন নানা কারণে লাগতে পারে। প্রথমেই হয়তো বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কথা উঠে আসবে। কিন্তু দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বৈদ্যুতিক সংযোগ কেন এত দুর্বল হবে। বিমানবন্দরের ভেতরে ধূমপানে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে, এমন সন্দেহের কথাও উচ্চারিত হয়েছে। এ বিষয়টিও তদন্তে হয়তো বেরিয়ে আসবে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। অল্প সময়েই আগুন নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। কিন্তু যাত্রীদের মধ্যে যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, তা অস্বীকার করা যাবে না। অন্যদিকে বিমানবন্দর নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডের পর তা থেকে বেরিয়ে আসা আরো কঠিন হবে। তা ছাড়া এখন হজের মৌসুম। শুক্রবার দুটি হজ ফ্লাইটের সময়ও পরিবর্তন করা হয়। এমনিতেই হজ ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দুটি ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তনের ঘটনাও হজযাত্রীদের জন্য সুখকর অভিজ্ঞতা হবে না। তিন ঘণ্টা বহির্গমন কার্যক্রম বন্ধ থাকা, অন্তত দেড় ডজন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হওয়া—সব কিছুুই বিমানবন্দর সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দেবে।   

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কর্মীদের আন্তরিকতার বিষয়টি বোধ হয় নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে, তাদের এখন দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে হবে। কেন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিমানবন্দরের বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। তবে নাশকতার সন্দেহ কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য একটি পক্ষ যে গোপনে তত্পর, এটা এখন অস্বীকার করার উপায় নেই। কাজেই অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান জরুরি।


মন্তব্য