kalerkantho


আবার বন্যার হাতছানি

দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



জুন ও জুলাইয়ে দুই দফা বন্যার পর আবার বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পাঁচটি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন নদীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দিষ্ট ৯০টি পয়েন্টের মধ্যে ৮০টি পয়েন্টেই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। সুরমাসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপত্সীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিস্তৃত অঞ্চল বন্যাকবলিত হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের পাহাড়গুলোতে ধসেরও আশঙ্কা করা হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় নদীভাঙনও তীব্র হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনকে দুর্গত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।

ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা অববাহিকার ছোট নদীগুলোতেও পানি বাড়ছে। একইভাবে পানি বাড়ছে মেঘনা অববাহিকার নদীগুলোতেও।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এর আগেও হাওরাঞ্চলসহ এসব জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে এসব এলাকার মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আবহমান কাল থেকেই এ দেশের মানুষ বন্যা, সাইক্লোনসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে বেঁচে আছে। বেঁচেও থাকবে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ঘাটতি যখন মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়, তখন তা মেনে নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। বর্ষায় বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যত পানি বঙ্গোপসাগরে যায়, তার প্রায় ৯৫ শতাংশই আসে উজান থেকে। সেই পানি আটকানোর কোনো উপায় নেই। আগে এই পানি নদীগুলো দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ত। ১০-২০ বছরে কখনো অস্বাভাবিক বৃষ্টি হলে তখন বন্যা হতো। এখন প্রায় প্রতিবছরই বন্যা হয়। কারণ ভরাট হয়ে যাওয়া নদীগুলো দিয়ে পানি নামতে পারে না। উজানের পানি নদীর দুই পাশে ছড়িয়ে যায়। প্রতিবছর নদীভাঙনে বাড়িঘর-কৃষিজমি হারিয়ে হাজার হাজার পরিবার সম্পূর্ণরূপে নিঃস্ব হয়ে যায়। হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। তার পরও নদী খনন বা নদীর পানিপ্রবাহ সুষ্ঠু করার কোনো উদ্যোগ নেই বললেই চলে।

তথ্য-প্রমাণ বলে, ব্রিটিশ আমলেও এ দেশে নিয়মিত নদী খনন করা হতো। নদীগুলোতে নাব্য থাকায় সারা দেশে নৌযোগাযোগ অনেক ভালো ছিল এবং পরিবহন খরচ অনেক কম হতো। পাশাপাশি বন্যার ক্ষয়ক্ষতিও কম হতো। এখন ভূমিক্ষয়-ভূমিধস বেড়েছে, নদী ভরাট প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়েছে, অথচ নদী খনন কর্মসূচি নেই বললেই চলে। এই উল্টো যাত্রা কেন? দ্রুত নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তার আগে দুর্গত মানুষকে রক্ষার উদ্যোগ নিন।


মন্তব্য