kalerkantho

এ কোন বর্বরতা!

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



এক দিনে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত কয়েকটি খবর আমাদের নতুন করে এক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আমাদের সমাজ থেকে মানবিক মূল্যবোধ কি একেবারেই উঠে গেছে? রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে মাঝনদীতে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

গাজীপুরে ড্রাম থেকে যে নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁকে হত্যা করা হয় সম্পত্তির লোভে। খুনের পর গাইবান্ধায় শিশু সিনথিয়াকে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল। সাবেক স্বামীর ছোড়া এসিডে পুড়েছেন তিন ভাই-বোন। ওদিকে পাঁচ জেলায় ঘটেছে চার খুনের ঘটনা। উদ্ধার হয়েছে দুই লাশ। এসব ঘটনা গণমাধ্যমে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, এ কোন যুগে বাস করছি আমরা! বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, দেশ উন্নয়নের রোল মডেল হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নত দেশ হিসেবে আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে চাইছি। কিন্তু সত্যিকারের মানবিক সমাজ যদি গঠন করা সম্ভব না হয়, তাহলে এই উন্নয়নের সুফল কি মানুষ ভোগ করতে পারবে? কেনই বা এই নৈতিক অবক্ষয়?

টাকা ফেরত না দেওয়ায় খুন হয়েছেন রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ আলী।

স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিতেন বলে শোনা যায়। এই টাকা ফেরত না দেওয়ায় চরমপন্থীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত একজন এ কথা স্বীকার করেছেন। চরমপন্থীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ওয়াজেদ আলীকে অপহরণের পর ট্রলারে করে নিয়ে যাওয়া হয় পদ্মা নদীতে। সেখানে তাঁকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নরসিংদীর স্কুলশিক্ষক নার্গিস বেগমকে তাঁর আত্মীয়রাই হত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন নিহতের ভাই। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বাউশি গ্রামের শিশু সিনথিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার পর লাশ পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কালাপাগরা গ্রামে তালাকপ্রাপ্ত স্বামীর ছোড়া এসিডে ঝলসে গেছেন এক পরিবারের তিন ভাই-বোন। চাঁদপুরে দেবরের হাতে খুন হয়েছেন ভাবি। শরীয়তপুরে ভাতিজাকে খুন করেছেন চাচারা। মানিকগঞ্জে প্রতিবেশীর হাতে খুন হয়েছেন এক নারী। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে গৃহবধূকে হত্যা করেছেন তাঁর স্বামী।

এসব ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়, এক অসহিষ্ণু সময় পার করছি আমরা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সমাজ থেকে এই বর্বরতা দূর করার উপায় কী? বিষয়টি নিয়ে আমাদের নীতিনির্ধারকদের ভাবতে হবে। প্রয়োজনে এই নৃশংসতার বিচারে আইনের কোনো পরিবর্তন আনা যায় কি না, সে বিষয়টিও ভেবে দেখা দরকার।


মন্তব্য